কালীপুজোর আগে সীমান্তে পুলিশ-বিএসএফের যৌথ অভিযান

631

মেখলিগঞ্জ: কালীপজোর আগে মেখলিগঞ্জ ব্লকের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকেও চোরের উপদ্রব সহ অবৈধ মদ জুয়ার আড্ডা বৃদ্ধির অভিযোগ ওঠে। পুজোর আগে বিভিন্ন স্থানে জুয়ার আসর ও মদের ঠেক বসছে। এইসব অভিযোগের কথা মাথায় রেখে এবার কালীপুজো আগে তা বন্ধ করতে বাড়তি নজরদারি চালু করছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই মেখলিগঞ্জ থানার পুলিশের তরফে অবৈধ এইসব কারবারে বিরুদ্ধে অভিযান চালানো শুরু হয়েছে। বেশকিছু সাফল্যও এসেছে। যেহেতু কালীপজোর মরসুমে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজকর্ম বাড়ার বিষয় নিয়ে একটা আলাদা আশঙ্কা থাকে। তাই সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় এইসব দমনে পুলিশ ও বিএসএফের তরফে যৌথভাবে নজরদারির পরিকল্পনা রয়েছে।

- Advertisement -

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, এমনিতেই এই ব্লকেরও বিভিন্ন স্থানে অবৈধ মদ জুয়ার আড্ডা রয়েছে। তবে, দুর্গোৎসবের পর থেকেই এর বিস্তার বাড়ে। এমনকী একটি চক্র এই অবৈধকারবার পরিচালনা করে মোটা টাকা রোজগার করে থাকেন। বিভিন্ন মুদিখানা এবং চায়ের দোকানেও চুপিসারে অবৈধভাবে মদ বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এনিয়ে মাঝেমধ্যে অশান্তিও তৈরির খবর রয়েছে। মাতালদের উপদ্রব বন্ধ করার দাবিও বিভিন্ন সময়ে উঠে আসে। কালীপুজোর আগে এইসব আরও কঠোরহাতে দমন করতে মেখলিগঞ্জ থানার পুলিশ কর্তারা নজরদারি অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছেন। বেইআইনি এইসব কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও বলা হচ্ছে পুলিশের তরফে। তারা জানিয়েছেন, অবৈধ মদ জুয়ার বিরুদ্ধে নিয়মিত তাদের অভিযান চলে। এবিষয়ে তারা সর্বদাই সক্রিয় রয়েছেন। সাফল্যও মিলছে। যদিও এবিষয়ে মেখলিগঞ্জ থানার ওসি মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী কোনও মন্তব্য করেননি।

মেখলিগঞ্জ ব্লকের আটটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মধ্যে অধিকাংশই রয়েছে বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষে। কালীপুজোর মরসুমে ইতিপূর্বে বিভিন্ন সময়ে সীমান্ত টপকে অপরাধীদের অপরাধমূলক কাজকর্ম করার অভিযোগও রয়েছে। এখনও ব্লকের বেশ কিছু জায়গায় খোলা অর্থাৎ উন্মুক্ত সীমান্ত রয়েছে। সেইসব উন্মুক্ত সীমান্তগুলি দিয়ে বিভিন্ন সময়ে চোরাকারবারীরা বাংলাদেশে পাচারের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। কালীপুজোর মরসুমের অন্ধকার রাতকে কাজে লাগিয়ে সীমান্তে যাতে কেউ কোনও অসামাজিক কার্যকলাপের চেষ্টা করতে না পারে সেদিকে এবার আগে থেকেই পুলিশ প্রশাসনের তরফে বিশেষভাবে নজর রাখা শুরু হয়েছে। তবে কাঁটাতারহীন এলাকাগুলির উপর আলাদাভাবে নজর রাখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। কারণ অনেক সময়ই অভিযোগ ওঠে আসে অপকর্ম করার পর অপরাধীরা খোলা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। যদিও বিএসএফের জলপাইগুড়ি সেক্টরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সীমান্তে সর্বদাই তাদের কড়া নজরদারি ব্যবস্থা রয়েছে। যে কারণে সাফল্যও মিলছে। কালীপুজোর মরসুমের অন্ধকার রাতের কথাও তাদের অজানা নয়। মেখলিগঞ্জ ও কুচলিবাড়ি থানার পুলিশ কর্তারাও সর্বদা পুলিশের সক্রিয়তার কথা বলেছেন।