তেল ট্যাংকার হাইজ্যাকের আন্তঃরাজ্য চক্রের হদিস, ধৃত ৬

225

আসানসোল: আন্তঃরাজ্য ভোজ্য তেল ট্যাংকার হাইজ্যাক চক্রের হদিস পেল আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতরা হল, ইমরান খান, বসন্ত জয়সওয়াল, মনজিন্দার সিং সান্ধু, কমলজিৎ সিং ওরফে পাপ্পু সর্দার, মহম্মদ আজাদ, নিজামউদ্দিন খান। এই চক্রের আরও ৭ জন ফেরার। মঙ্গলবার আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের অফিসে এক সাংবাদিক সম্মেলনে একথা জানান ডিসিপি (সেন্ট্রাল) ডাঃ কুলদীপ এসএস ও এডিসি (এসবি) সৌমিক সেনগুপ্ত।

গত ২৭ এপ্রিল রাজস্থানের জয়পুরের বাসিন্দা গোপাললাল শর্মা ২২ চাকার ট্যাংকারে করে প্রায় ৪২ হাজার কেজি ভোজ্য তেল বাঁকুড়ার উদ্দেশ্যে পাঠান। এই তেলের বর্তমান বাজারদর প্রায় ৫৯ লক্ষ টাকা। গত ৪ মে ট্যাংকারটি আসানসোল উত্তর থানার ২ নম্বর জাতীয় সড়কে টোলপ্লাজার কাছে ছিল। কয়েকজন দুষ্কৃতী দুটি গাড়ি নিয়ে ওই ট্যাংকারটির পিছু ধাওয়া করে। কিছুক্ষণের মধ্যে ট্যাংকারটিকে হাইজ্যাক করা হয়। জানা গিয়েছে, দুষ্কৃতীরা ট্যাংকারের চালক রাজেন্দ্রর সিং ও খালাসি জয়পাল সিংকে জলের মধ্যে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে অচৈতন্য করে দেন। ৫ মে চালক ও খালাসিকে অচৈতন্য অবস্থায় ওডিশার বালাসোর হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করা হয়। এরপর ১০ মে ট্যাংকার মালিক আসানসোল উত্তর থানায় গোটা ঘটনার কথা জানিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারেন ২ নম্বর জাতীয় সড়কে ট্যাংকারটিকে হাইজ্যাক করা হয়। ট্যাংকারে লাগানো জিপিএস সিস্টেম খুলে দুষ্কৃতীরা কলকাতার দিকে চলে যায়। এই সমস্ত তথ্য বিভিন্ন থানায় জানানোর পর হাওড়া সিটি পুলিশ ইমরান খান ও বসন্ত জয়সওয়ালকে গ্রেপ্তার করে। আসানসোল উত্তর থানার পুলিশ ও আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট গোয়েন্দা দপ্তর (ডিডি) ওই দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দমদম এয়ারপোর্টের বাইরে এক হোটেল থেকে মনজিন্দার সিং সান্ধুকে গ্রেপ্তার করে। সে অসমের তিনসুকিয়ার বাসিন্দা। এরপর একে একে পঞ্জাবের অমৃতসরের বাসিন্দা কমলজিৎ সিং ওরফে পাপ্পু সর্দার, মহম্মদ আজাদ, নিজামউদ্দিন খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, তারা সাধারণত বিহার ও ঝাড়খণ্ডে এইভাবে তেলের ট্যাংকার হাইজ্যাক করে। তবে এই চক্রের কিং পিন বা মাস্টার মাইন্ড মাসুদ খান সহ ৭ জন এখনও অধরা। পাশাপাশি দুষ্কৃতীরা ওই ৫৯ লক্ষ টাকার ভোজ্য তেল কোথায় বিক্রি করেছে তাও জানা যায়নি এখনও। ধৃতদের পুলিশ হেপাজতে নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে আসানসোল উত্তর থানার পুলিশ ও আসানসোলের গোয়েন্দা দপ্তর।

- Advertisement -