জাতীয় সড়ক সংস্কারে এগিয়ে এল পুলিশ

345

ময়নাগুড়ি: দীর্ঘদিন থেকে ২৭ নম্বর জাতীয় সড়ক বেহাল থাকলেও রাস্তা সাড়াই না হওয়ায় যানজট, দুর্ভোগ ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। মঙ্গলবার জাতীয় সড়কের বেহাল অংশের মেরামতিতে এগিয়ে এলেন পুলিশকর্মীরা। এদিন ময়নাগুড়িতে হাইওয়ে ট্রাফিক ওসি মুস্তাফা হুসেনের নেতৃত্বে পুলিশকর্মীরা বালি, পাথর, বোল্ডার দিয়ে জাতীয় সড়কের বেশ কিছুটা অংশ মেরামতের কাজে হাল লাগান৷ পুলিশ দিবসে পুলিশের এমন উদ্যোগে খুশি এই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী যানবাহনের কর্মী ও যাত্রীরা। পুলিশের ভুমিকাকে সাধুবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন মহল।

বেশকিছু দিন থেকে ময়নাগুড়ি উল্লাডাবড়ি থেকে ময়নাগুড়ি আসাম মোড় পর্যন্ত ২৭ নম্বর জাতীয় সড়ক পুরোপুরি বেহাল হয়ে রয়েছে৷ বেহাল সড়ক সংস্কারের ব্যাপারে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার জন্য এলাকাতে ক্ষোভও রয়েছে যথেষ্ট। গত কয়েক দিনের বৃষ্টির জেরে জাতীয় সড়ক ফের চলাচলের অযোগ্য হয়ে যায়৷ রাস্তার মাঝে বড় বড় গর্তগুলিতেও জল দাড়িয়ে যায়৷

- Advertisement -

এই পরিস্থিতিতে গত তিনদিনে এই এলাকায় প্রায় ৪৫টি গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে। এছাড়াও তৈরি হয় যানজট। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে বার বার জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি৷ অবশেষে সড়ক সংস্কারের কাজে নামে পুলিশ। হাইওয়ে ট্রাফিক ওসি মুস্তাফা হুসেন সহ গোটা বাহিনী এদিন দিনভর বড় বড় গর্ত গুলি বন্ধ করার কাজ চালান। এছাড়াও নিয়ে আসা হয় আর্থমুভার। আর্থমুভারের সাহায্যে রাস্তার মাঝে জমে থাকা পাথড়ের ঢিবিগুলি সড়িয়ে দিয়ে জল বের করে দেওয়া হয়৷

এই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী পরিবহনকর্মী বাপ্পা দাস বলেন, এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা দুর্বিষহ ব্যাপার ছিল৷ পুলিশের এই উদ্যোগের পর যাতায়াতের ক্ষেত্রে অনেকটাই সুবিধা হবে৷নিত্যযাত্রী শঙ্কর চ্যাটার্জি বলেন, যে কাজ করার কথা জাতীয় সড়কের, সেই কাজ করে দেখাল পুলিশ৷ যোগাযোগ ব্যবস্থার কথা মাথায় রেখে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের উচিত রাস্তাটি সংস্কার করা।

হাইওয়ে ট্রাফিক ওসি মুস্তাফা হুসেন বলেন, বেহাল রাস্তার জন্য দীর্ঘ যানজট হচ্ছিল৷ বহু গাড়ি বিকল হয়ে গিয়েছিল। ফলে পুলিশের কাজেও সমস্যা হচ্ছিল। তাই এদিন সব কর্মীরা মিলে জাতীয় সড়কের বেহাল অংশগুলি মেরামত করে যান চলাচলের উপযোগী করে তোলা হয়।

পুলিশের এই ভুমিকাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ময়নাগুড়ির বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারী। বিধায়ক জানান, যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে যে পুলিশকর্মীরা রাস্তা সংস্কারের কাজে এগিয়ে এসেছেন, তাঁদের ধন্যবাদ।