আড়াই বছরে খুনের চার্জশিট দিতে পারেনি পুলিশ

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ : তৃণমূল কর্মী খুনের আড়াই বছর পরেও দোষীদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিতে পারল না রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। প্রায় আড়াই বছর আগে পঞ্চায়েতের ভোটের দিন ভোট দিতে গিয়ে বুথের মধ্যে গুলি বিদ্ধ হয়ে মারা যান তৃণমূল কর্মী অমৃত সাহা। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে মানুষটি মারা যাওয়ার পর থেকেই চরম অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটছে তাঁর পরিবারের। দলের তরফে মন্ত্রী, নেতারা পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ, মেয়ের চাকরি, বিধবা ভাতার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু এত দিন পরেও মেলেনি কোনও সাহায্য বলে অভিযোগ। এমনকি রায়গঞ্জ থানা থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ না করায় মিলছে না জীবন বিমার প্রাপ্য অর্থ। এই অবস্থায় কি করবেন বুঝে উঠতে পারছে না মৃতের অসুস্থ স্ত্রী অর্পিতা সাহা।

ঘটনাটি ঘটে ২০১৮ সালের ১৫ মে পঞ্চায়েতের ভোট চলাকালীন। রায়গঞ্জ ব্লকের ১০ নম্বর মাড়াইকুড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের দেবীনগর বেলতলায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিতে গিয়ে বুথের ভিতরে আচমকা দুষ্কৃতীদের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান এলাকার তৃণমূল কর্মী বলে পরিচিত অমৃত সাহা। তিনি রাসবিহারী মার্কেট এলাকার একটি স্টিল ফার্নিচারের দোকানে কাজ করতেন। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে মানুষটি দলের প্রার্থীকে জয়ী করার জন্য ভোট দিতে গিয়ে খুন হয়ে যাওয়ায় তৃণমূল নেতা, মন্ত্রীদের প্রতিশ্রুতির বন্যা বয়ে যায়। মৃতের স্ত্রী অর্পিতা সাহা এবং দুই মেয়ে রিয়া ও অনামিকার পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয় দলের তরফে। পরিবারকে সরকারিভাবে পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ, অর্পিতা দেবীকে বিধবা ভাতা এবং ছোট মেয়ে রিয়াকে সরকারি চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন নেতারা।

- Advertisement -

কিন্তু আড়াই বছর হল দলের তরফে দুই লাখ টাকা সাহায্য ছাড়া আর কিছুই মেলেনি। পঞ্চায়েতের সদস্য শিপ্রা সাহা থেকে প্রধান কমল দেবশর্মা কেউই জানেন না কবে মিলবে নেতাদের দেওয়া সরকারি প্রতিশ্রুতি। দেখছি আর দেখবো বলেই আড়াই বছর পার হয়ে যাওয়ায় নেতাদের প্রতি আর ভরসা নেই মৃতের পরিবারের। অর্পিতা সাহা জানান, খুব কষ্টের মধ্যে আছি। কোনও সরকারি সাহায্য পেলাম না। বিধবা ভাতা পর্যন্ত হয়নি। কী হবে বুঝে উঠতে পারছি না। বড় মেয়ে অনামিকা জানান, পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ, বিধবা ভাতা ও বোনের চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। আজ পর্যন্ত কিছুই মেলেনি। ছোট মেয়ে রিয়া জানায়, বাবা মারা যাওয়ার পর অনেক নেতা, নেত্রী এসেছিলেন। অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন কারও দেখা নেই। থানা থেকে চার্জশিট না দেওয়ায় বিমার টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি পরিবারের প্রধান মারা গেলে যে ৪০ হাজার টাকা পাওয়া যায়, তাও পাইনি।

স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যা শিপ্রা সাহার স্বামী তথা এলাকার তৃণমূল নেতা দুলাল সাহা বলেন, পরিবারটি যাতে আর্থিক সাহায্য পায় সেজন্য দলের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বকে জানিয়েছি। চার্জশিটের ব্যাপারে থানার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। কিন্তু কেন হচ্ছে না, বুঝতে পারছি না। গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তথা অঞ্চল তৃণমূলের চেয়ারম্যান কমল দেবনাথ জানান, দলের তরফে দুই লক্ষ টাকার চেক দেওয়া হয়েছিল। চাকরির ব্যাপারটি দেখছে দলের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব। পরিবারটির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। বিধবা ভাতা নিয়ম অনুযায়ী পাবেন। তবে সরকারিভাবে কোনও সাহায্য পায়নি পরিবারটি। দল বিষয়টি দেখছে। রায়গঞ্জ থানার আইসি সুরজ থাপা বলেন, এখনও তদন্ত শেষ হয়নি। গ্রেপ্তারও বাকি আছে। সেই কারণেই চার্জশিট দেওয়া যায়নি। তবে আমরা বিষয়টি দেখছি।