আসানসোলে পুলিশ দিবস পালন, পূর্ব বর্ধমানে প্রবীণ নাগরিকদের ‘সন্মান’

422

আসানসোল ও বর্ধমান, ৮ সেপ্টেম্বরঃ আসানসোল দূর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকে আসানসোলের রবীন্দ্র ভবনে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশ দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছিল। এদিন আসানসোল পুলিশের কোভিড যোদ্ধাদেরও সম্মানিত করা হয়।এছাড়াও, ১০ জন পুলিশ কর্মীদের বিশেষ কাজের জন্য সন্মানিত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠান থেকে পুলিশ কমিশনার সুকেশ জৈন ভিডিও-র মাধ্যমে কমিশনারেটের পুলিশের বিভিন্ন সামাজিক কাজের গতি প্রকৃতি তুলে ধরেন। এছাড়া, করোনা পরিস্থিতিতে পুলিশ কর্মীরা যেভাবে পশ্চিম বর্ধমানের সাধারন মানুষ এবং কোটা থেকে আসা পড়ুয়া, পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁরও তথ্য পরিবেশন করেন তিনি। এদিন কমিশনার বলেন, কোনও ঘটনা ঘটলে সেখানে, যত তাড়াতাড়ি পুলিশ পৌঁছাতে পারেন তাঁর ব্যবস্থা করা ও মানুষকে যত বেশি সম্ভব সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায়, সেটাই পুলিশের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আসানসোল পুরনিগমের জিতেন্দ্র তেওয়ারি, তাপস বন্দোপাধ্যায় ও জেলাশাসক পূর্ণেন্দু কুমার মাঝি।

- Advertisement -

অন্যদিকে, পুলিশ দিবসে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য ‘সন্মান’ নামে বিশেষ প্রকল্প চালু করল পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ।এদিন বর্ধমান পুলিশ লাইনে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে ‘সন্মান’ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন আইজি বর্ধমান রেঞ্জ বি এল মিনা এবং জেলা পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানে বর্ধমান পৌরসভার ৩৫টি ওয়ার্ড এলাকার ৫০ জন প্রবীণ নাগরিককে সংবর্ধনা জানানোর পাশাপাশি তাদের হাতে বিশেষ ‘সন্মান’ প্রকল্পের কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের এই কর্মকাণ্ডকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জেলার প্রবীণ নাগরিকরা।

আসানসোলে পুলিশ দিবস পালন, পূর্ব বর্ধমানে প্রবীণ নাগরিকদের 'সন্মান'| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India
প্রবীণ নাগরিকদের জন্য ‘সন্মান’ নামে বিশেষ প্রকল্পের উদ্বোধন করছে পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ।

এই প্রকল্পের প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় বলেন, সারা পৃথিবীতে প্রবীণ নাগরিকের সংখ্যা বাড়ছে। বিশ্বায়নের যুগে দেখা যাচ্ছে অনেক বাড়িতেই প্রবীণ নাগরিকদের একাই থাকতে হচ্ছে। বিশেষত নিউক্লিয়ার ফ্যামেলি সিস্টেম আমাদের সমাজে বেশি করে চলে আসার ফলে এই পরিস্থিতি অনেক বেশী প্রকট হয়ে উঠেছে। তবু ওই প্রবীণ নাগরিকদের উপস্থিতি, সহযোগীতা এবং তাঁদের সাহচর্য আমাদের একান্ত ভাবেই দরকার। তাই, মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় আমরা পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এমন প্রবীণ নাগরিকদের জন্য ‘সন্মান’ প্রকল্প চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

জানা গিয়েছে, প্রথম ধাপে শহর বর্ধমানের ৩৫টি ওয়ার্ড এলাকার বাড়িতে একা থাকেন এমন ষাটোর্ধ্ব ৫০ জন প্রবীণ নাগরিককে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের নিয়ে একটি বিশেষ ডেটাবেস তৈরি করা হয়েছে। ওই ৫০ জন প্রবীণদের হাতে সন্মান কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট প্রবীণদের ছবি, নাম, ঠিকানা ও মোবাইল ফোন নম্বর তাতে লেখা থাকবে। এছাড়াও ওই কার্ডে জেলা পুলিশের একটা নির্দিষ্ট ফোন নম্বরও দেওয়া থাকবে। তবে প্রবীণদের সুবিধার্থে এই সন্মান প্রকল্পের বিষয়টি আ্যাপ নির্ভর না করে, ম্যানুয়াল রাখা হয়েছে। আরও জানা গিয়েছে, যেকোনও রকমের জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া কিংবা ল’ অ্যান্ড অর্ডার পরিস্থিতি তৈরি হওয়া সহ সকল সমস্যায় উল্লেখিত নম্বরে ফোন করলেই সমাধান মিলবে।

পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় বলেছেন, জেলার এই সকল প্রবীণ নাগরিকদের সন্মান জানাতে পেরে পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ গর্বিত হয়েছে। জেলার জামালপুর থানার মহিলা পুলিশ কর্মীদের জন্য থানা চত্বরে যে নতুন বিশ্রামাগার তৈরি হয়েছে সেটিও এদিন উদ্বোধন করেছেন পুলিশ সুপার।