পুলিশের বিরুদ্ধে শাসকদলের ছাত্র নেতাকে মারধরের অভিযোগ

798

সামসী: দশমীর রাতে শাসকদলের এক ছাত্র নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠল চাঁচল থানার পুলিশের বিরুদ্ধে। ওই ছাত্র নেতাকে সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে চাঁচলে। শাসকদলের ওই ছাত্র নেতার নাম বিমান ঝাঁ। তিনি হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের টিএমসিপির ব্লক সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে শাসকদলের নেতা কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। টিএমসিপি-র ব্লক সভাপতির গ্রেপ্তারি ঘিরে মঙ্গলবার  সকালে চাঁচল থানায় বিক্ষোভ দেখান সংগঠনের সদস্যরা।

টিএমসিপি ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দশমীর রাতে বাইক নিয়ে চাঁচলে আসার সময় চাঁচল হাটের কাছে শান্তি মোড়ে ওই ছাত্র নেতার পথ আটকায় পুলিশ। পুজোর দিনগুলিতে চাঁচল শহরে যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ছিল। পুলিশের তরফে সবকটি মোড়ে ব্যারিকেডও দেওয়া হয়েছিল। নিষেধ করা সত্ত্বেও ওই ছাত্র নেতা পুলিশের কথা শোনেননি। এনিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও তুমুল বচসা হয়। 

- Advertisement -

পুলিশের দাবি, শাসকদলের ওই ছাত্র নেতা পুলিশকর্মীদের সঙ্গে অভব্য আচরণের পাশাপাশি তাঁদের হেনস্তাও করেন। খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। সোমবার রাতেই হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লক টিএমসিপি নেতা বিমান ঝাঁ’কে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে চাঁচল থানার পুলিশ।

বিমানকে মিথ্যে অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এমন অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার সকালে থানার সামনে বিক্ষোভ দেখায় টিএমসিপি। ধৃত নেতাকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় শুয়ে পড়ে বাঁধা দেন টিএমসিপির নেতাকর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। পুলিশের লাঠির আঘাতে আহত হয়েছেন বেশ কিছু টিএমসিপি কর্মী। এদের মধ্যে চারজনের আঘাত গুরুতর। তাঁদের চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। সেখানেই তাঁদের চিকিৎসা চলছে। পুলিশের এই ভূমিকায় বেজায় ক্ষুব্ধ শাসকদল।

চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি আহত এক টিএমসিপি কর্মী আমবার আলির শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ায় তাঁকে অক্সিজেন দেওয়া হয়েছে। আমবার বলেন, ‘পুলিশ আমাকে মাটিতে ফেলে বুকে লাথি মারে। তারপর অজ্ঞান হয়ে যাই।’ অবশ্য পুলিশের দাবি, লাঠি উঁচিয়ে পুলিশ তাড়া করায় পালাতে গিয়ে কেউ হয়তো আহত হয়ে থাকতে পারেন। কাউকে ফেলে পেটানো হয়নি। মারধর ও লাঠিচার্জের বিষয়টি পুলিশ অস্বীকার করেছে।

কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগে বিমান ঝাঁ’কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে নিয়ে যেতে বাধা দেওয়ায় বাধ্য হয়ে পুলিশকে মৃদু লাঠি চালাতে হয়। এদিন বিমানকে মহকুমা আদালতে তোলা হয়। তাঁর সাতদিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আদালতে যাওয়ার পথে ধৃত ছাত্র নেতা বিমান ঝাঁ বলেন, ‘আমি পুলিশের সঙ্গে খারাপ আচরণ করিনি। পুলিশ আমার বাইকের চাবি নিয়ে নেয়। তার প্রতিবাদ করতেই এক অফিসার আমার কলার চেপে ধরেন। ছাড়াতে গিয়ে সামান্য ধস্তাধস্তি হয়। এর থেকে বেশি কিছু নয়। পুলিশ অন্যায়ভাবে আমাকে গ্রেপ্তার করেছে।’

খবর পেয়ে টিএমসিপির জখম ছাত্র নেতাদের চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে দেখতে যান তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের জেলা সভাপতি মোশারফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘পুলিশের সংযত হয়ে কাজ করা উচিত।’

তৃণমূলের জেলা সভানেত্রী মৌসম নুর বলেন, ‘দু’পক্ষেই একে অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে। আমরা দলীয়স্তরেও বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।’

টিএমসিপির জেলা সভাপতি প্রসূন রায় বলেন, ‘প্রতিমা দেখতে চাঁচলে এসেছিলেন বিমান ঝাঁ। কিন্তু পুলিশই ওর সঙ্গে অভব্য আচরণ করে। তারপরও ও অন্যায় করলে পুলিশ আইনমাফিক ব্যবস্থা নিক। কিন্তু পুলিশ এদিন যেভাবে ছাত্র নেতাদের উপর লাঠি চালিয়েছে, তাতে পুলিশের প্রতিশোধমূলক আচরণ ফুটে উঠেছে।’

তবে মালদার পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া বলেন, ‘একটা ঘটনা ঘটেছে। তার জেরেই একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লাঠিচার্জের বিষয়টি জানি না। সমস্ত কিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’