সাহায্যের আর্জি জানিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ করোনা আক্রান্ত

283
প্রতীকী ছবি।

কলকাতা: সাহায্যের আর্জি জানিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হলেন করোনা আক্রান্ত এক ব্যক্তি। মঙ্গলবার দক্ষিণ কলকাতার লেক রোডের ওই বাসিন্দা টালিগঞ্জ থানায় গিয়ে হাজির হন।

করোনা প্রতিরোধকল্পে প্রতিটি থানার দোরগোড়ায় এক পুলিশকর্মীকে বসানো হয়েছে। তিনি থার্মাল ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে আগত ব্যক্তির শরীরের তাপমাত্রা মাপেন। আর সেখানেই ধরা পড়ে, ওই ব্যক্তির জ্বর রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গেই ওই ব্যক্তিকে সেখানে আটকে দেওয়া হয়। তখনই ওই ব্যক্তি রিপোর্ট দেখিয়ে পুলিশকে জানান, তাঁর ক’দিন ধরে জ্বর চলছিল। তিনি একজন ব্যবসায়ী। একাই বাড়িতে ছিলেন। আর সেই কারণেই তিনি একটি প্রাইভেট ল্যাবে গিয়ে লালার নমুনা পরীক্ষা করতে দিয়েছিলেন। সেই রিপোর্টে ধরা পড়েছে, তাঁর শরীরে করোনার সংক্রমণ রয়েছে। তাই তিনি নিরুপায় হয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে থানায় ছুটে এসেছেন। কোথায় চিকিৎসা পাওয়া যেতে পারে তা জানার জন্য।

- Advertisement -

দোরগোড়ায় করোনা রোগী ঢোকায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন থানার অফিসার ও কর্মীরা। ভদ্রলোককে থানার বাইরে একটি গাছের নীচে বসিয়ে রাখা হয়। সেই সঙ্গে গার্ডরেল দিয়ে জায়গাটা ঘিরে রাখা হয়। প্রায় ঘণ্টা তিনেক ওইভাবে গাছের তলায় বসে থাকার পর পুলিশকর্মীরা একটি অ্যাম্বুলেন্স এনে আক্রান্ত ব্যক্তিকে পাঠিয়ে দেন এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে।

একজন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিকে থানার সামনে গাছ তলায় দীর্ঘক্ষণ কেন বসিয়ে রাখা হল, সে ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার জানান, করোনা আক্রান্তদের বহন করার জন্য নির্ধারিত অ্যাম্বুলেন্স জোগাড় করতে দেড়ি হয়ে যাওয়ায় এমনটা ঘটেছে।

এদিকে, এদিনই উত্তর কলকাতার শ্যামপুর থানার দুজন সহকারি সাব-ইন্সপেক্টরের শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। আক্রান্ত দুই পুলিশকর্মীকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওই দুই পুলিশকর্মীর সংস্পর্শে যাঁরা এসেছিলেন তাঁদের চিহ্নিত করে কোয়ারান্টিনে পাঠানোর ব্যবস্থা করার পাশাপাশি থানাকে জীবাণুমুক্ত করার কাজও শুরু করা হয়েছে। অপরদিকে, এদিন দক্ষিণ ২৪ পরগনা ডায়মন্ড হারবার পুরসভা এলাকায় ছয়জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে।