জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা আক্রান্তের দেহ অন্ত্যেষ্টি করল পুলিশ

326

সমীর দাস, হাসিমারা: করোনা আক্রান্ত প্রৌঢ়ার দেহ সরাসরি পরিবারকে না দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেহ সৎকারের ব্যবস্থা করল পুলিশ। করোনা সংক্রমণ যাতে না ছড়ায় সেজন্য পুলিশ করোনা আতঙ্ক উপেক্ষা করে নিজেদের দায়িত্বে অন্ত্যেষ্টি সম্পন্ন করে। একদিকে যেমন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে করোনার বিরুদ্ধে লড়ে যাচ্ছেন, তেমনি পুলিশকর্মীরাও নিজেদের জীবন বিপন্ন করে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে মরিয়া প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। তা আরও একবার প্রমাণ করলেন কালচিনি ব্লকের হাসিমারা পুলিশ ফাঁড়ির ওসি প্রেমকুমার থামি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দলসিংপাড়ার ছেত্রী লাইনের বাসিন্দা বীরমায়া রোয়কা (৫৭) কয়েকদিন থেকে জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। ওই প্রৌঢ়ার ছেলে ভক্তবাহাদুর রোয়কা অবসরপ্রাপ্ত সেনা জওয়ান। শুক্রবার সকালে চিকিৎসার জন্য মা’কে হাসিমারা বায়ুসেনা হাসপাতালে নিয়ে আসেন‌ ভক্তবাহাদুর। সেখানে নিয়ে আসার কিছু সময় পর ওই প্রৌঢ়ার মৃত্যু হয়। তাঁর লালার নমুনা পরিক্ষায় করোনা পজিটিভ ধরা পড়ায় বিষয়টি পুলিশকে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সঙ্গে প্রৌঢ়ার দেহ তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই সময় হাসিমারা পুলিশ ফাঁড়ির ওসি প্রেমকুমার থামি হাসপাতালে পৌঁছে সরাসরি পরিজনদের হাতে দেহ না দিতে আবেদন করেন। যেহেতু ওই প্রৌঢ়া করোনা আক্রান্ত ছিলেন তাই সঠিক স্বাস্থ্যবিধি না মানা হলে করোনা সংক্রমণ ছড়াতে পারে। এছাড়াও এলাকায় আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হতে পারে। তাই ওসি প্রৌঢ়ার গ্ৰামে গিয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা করে দেহ নির্জন এলাকায় দাহ করার ব্যবস্থা করেন।

- Advertisement -

ওসি বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে কালচিনি ব্লক প্রশাসন ও ব্লক স্বাস্থ্য দপ্তরকে জানানো হয়েছে।’ করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে তিনি যেভাবে এগিয়ে এসেছেন তাতে এলাকার বাসিন্দারা ওই পুলিশ আধিকারিককে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। বাসিন্দারা বলেন, ‘নিজের জীবন সংশয় হতে পারে জেনেও ওসি প্রেমকুমার থামি যেভাবে করোনা আক্রান্তের দেহ সৎকারে এগিয়ে এসেছেন তাঁর জন্য কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট নয়।’ ওসি বলেন, ‘বিপন্ন মানুষের জীবন রক্ষাই পুলিশের সবচেয়ে বড় কর্তব্য। আমি আমার কর্তব্য পালন করেছি মাত্র।’