জলপাইগুড়ি : পেশাদার ম্যাজিশিয়ান নন তিনি। বিশ্ববিখ্যাত ম্যাজিশিয়ান পি সি সরকার জুনিযারের ম্যাজিক দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তাঁর ম্যাজিক শেখা। নিজের সহকর্মীদের তা দেখিয়ে আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি যাদুমন্ত্র বলে বাস্তবে কিছু নেই, সে ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে প্রচার চালান কোতোয়ালি থানার কনস্টেবল সাইফুল আলম। ম্যাজিক দেখিয়ে সহকর্মীদের পাশাপাশি নিজের বিভাগের পদস্থ আধিকারিকদের প্রশংসা পেয়েছেন তিনি।

২০০৮ সালে রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল পদে যোগ দেন উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহারের বাসিন্দা সাইফুল আলম। বাড়িতে বাবা-মা, স্ত্রী, কন্যা, ভাই নিয়ে যৌথ পরিবার। চাকরি জীবনের প্রথম দশ বছর কেটেছে কলকাতার ব্যারাকপুরের পুলিশ ব্যাটেলিয়ানে। ছোট থেকে গান-বাজনা শেখার আগ্রহ থাকলেও পারিবারিক বিভিন্ন কারণে সেটা আর শেখা হযনি। পুলিশে চাকরিতে যোগদানের পর কীবোর্ড শেখার আগ্রহ জন্মেছিল সাইফুলের। কিন্তু সেটাও হয়নি বিভিন্ন কারণে। ব্যারাকপুরে চাকরি করার সময় সেখানে পি সি সরকারের ম্যাজিক শো দেখতে যান তিনি। সেই ম্যাজিক দেখেই তা শেখার আগ্রহ জেগে ওঠে সাইফুলের মধ্যে। কেবল ম্যাজিক শেখাই নয়, পিছনের রহস্যটা কী রয়েছে, তা জানাই ছিল সাইফুলের আগ্রহ। তারপর থেকে ম্যাজিক দেখানোর সামগ্রী জোগাড় করতে ছুটে বেড়িয়েছেন কলকাতার এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত। যেখান থেকে সামগ্রী কিনেছিলেন সেখানে থেকে প্রাথমিক কিছু ধারণা নিয়ে শুরু হয় সাইফুলের ম্যাজিক শেখা। এরপর কখনো বিভিন্ন মেলায় আসা ম্যাজিকের সামগ্রী বিক্রির দোকান থেকে, কখনো মোবাইলের ইউটিউবে দেখে অনেকটাই কায়দাকানুন রপ্ত করে ফেলেছেন তিনি।

২০১৮ সালে ব্যারাকপুর থেকে বদলি হযে জলপাইগুড়ি পুলিশ লাইনে আসেন সাইফুল আলম। পুলিশ লাইনে থাকাকালীন সহকর্মীদের ম্যাজিক দেখিযে আনন্দ দিতেন। কেবল সহকর্মীদেরই নন, বাইরে কোথাও ডিউটিতে গিযে অবসর সময ওই এলাকার ছোট ছেলেমেয়েদের এবং এলাকার লোকজনকেও ম্যাজিক দেখিয়ে পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সুসম্পর্ক তৈরি করার চেষ্টা চালিযে যান সাইফুল। তাছাড়া এখনো গ্রামগঞ্জে যাদুমন্ত্র নিযে মানুষের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, যাদুমন্ত্র দিয়ে রোগ সারানো থেকে শুরু করে অনেক কিছুই করা সম্ভব। সাইফুল সাধারণ মানুষের কাছে ম্যাজিক দেখানোর সময় একটা বার্তা দিযে থাকেন। তা হল – এটা কেবলমাত্র মানুষের চোখে ফাঁকি দিয়ে হাতের কারসাজি। যেকোনো মানুষ চেষ্টা করলে ম্যাজিক রপ্ত করতে পারবেন।

সাইফুল আলম বলেন, ‘আমরা পুলিশের চাকরি করি। পুলিশকে সব সময কাজের মধ্যে থাকতে হয়। একঘেয়ে জীবনে নিজের একটু আনন্দ এবং সহকর্মীদের আনন্দ দেওযার জন্যই ম্যাজিক দেখাই। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে এই বার্তা দিতে চাই যে  এর পিছনে মন্ত্র বা তুকতাকের কোনো বিষয় নেই। যে কেউ ম্যাজিক শিখতে পারেন।’ কোতযালি থানার আই সি বিশ্বাশ্রয সরকার বলেন, ‘সাইফুল আলম একজন ভালো পুলিশ কর্মী। কাজের ফাঁকে অবসর সময় আনন্দ দিতে ম্যাজিক দেখিযে থাকে। আমি নিজেও সাইফুলের ম্যাজিক দেখে অভিভূত।’

ছবি- কাজের ফাঁকে ম্যাজিক দেখাচ্ছেন সাইফুল।

তথ্য ও ছবি- সৌরভ দেব