অবহেলায় ভেঙেছে পুলিশের স্মৃতিসৌধ

মালদা : পুলিশ-প্রশাসনের অবহেলায় ভেঙে চৌচির শহিদ পুলিশদের জন্য নির্মিত স্মৃতিসৌধ। দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ হয়েছে শহিদ দিবস পালন। স্মৃতিসৌধ ঘিরে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু দোকানপাট। অভিযোগ, এই নিয়ে জেলার পুলিশকর্তাদের কোনও হেলদোল নেই। প্রকাশ্যে না হলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বেশ কিছু পুলিশকর্মী। ঘটনা নিয়ে জানতে চাইলে জেলা পুলিশ সুপার বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই।

১৯৯৪ সালে ২১ অক্টোবর মালদা শহরের প্রবেশমুখে তৈরি হয় কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত পুলিশকর্মীদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে একটি সৌধ। কলকাতা থেকে মালদা শহরের প্রবেশমুখ রবীন্দ্রভবন সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে এই স্মৃতিসৌধটি। সেই সময় রাজ্যে গোর্খাল্যান্ড আন্দোলন চরম আকার ধারণ করেছে। সেই আন্দোলন মোকাবিলা করতে গিয়ে বেশ কয়েকজন পুলিশ আধিকারিক এবং পুলিশকর্মী মারা য়ান। এছাড়াও কর্তব্যরত অবস্থায় মারা যান এই জেলারও কয়েকজন পুলিশকর্মী। সেই সময় মালদার পুলিশ সুপারের পদে ছিলেন পঙ্কজ দত্ত। মূলত তাঁর উদ্যোগে মালদা শহরের প্রবেশমুখে গড়ে উঠে নিহত পুলিশকর্মীদের জন্য একটি স্মৃতিসৌধ। সেই সময় প্রতিবছর জেলা পুলিশ দিনটিকে পুলিশের শহিদ দিবস হিসাবে পালন করত।

- Advertisement -

কিন্তু দিনের পর দিন অবহেলায় স্মৃতিসৌধটি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। ভেঙে চৌচির স্মৃতিসৌধটি। সুযোগ বুঝে কিছু ছোট ব্যবসায়ী সৌধ ঘিরে গড়ে তুলেছে অস্থায়ী দোকানঘর। এ প্রসঙ্গে ইংরেজবাজার পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী বলেন, ওই স্মৃতিসৌধটি শহিদ পুলিশকর্মীদের স্মৃতিতে গড়ে তোলা হয়। প্রতিবছর ওই দিনটি শহিদ দিবস হিসাবে পালন করা হত। তবে ইংরেজবাজার পুর এলাকার মধ্যে সৌধটি থাকলেও তা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিল পুলিশ-প্রশাসন। তবে ইদানীং ওই দিনটি পালন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কী কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছে তা আমি বলতে পারব না।

স্থানীয় বাসিন্দা পরিতোষ চক্রবর্তী, সুবিমল রায়, সুনিতা মণ্ডলরা জানান, শহিদ পুলিশদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত সৌধটি ভেঙে চৌচির হয়ে গিয়েছে। একটা সময় আলো দিয়ে সাজানো হয়েছিল সৌধটি। আলোগুলি আজ আর জ্বলে না। রাত হলেই ওই এলাকায় বহিরাগতদের আড্ডা শুরু হয়। যা অত্যন্ত ভযংকর। পুলিশ প্রশাসনের উচিত, সৌধটি মেরামত করে ফের সাজিয়ে তোলা। দিনটিকে যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে পালন করা। তাতে যেমন নিহত পুলিশকর্মীদের শ্রদ্ধা জানানো হবে, তেমনই এলাকার পরিবেশ সুস্থ অবস্থায় ফিরবে। এ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি। সত্যিই যদি এমনটা হয়ে থাকে, তবে তা সংরক্ষণে পদক্ষেপ করা হবে।