পুলিশ ফাঁড়ির দাবি মেডিকেল কলেজে

188

রায়গঞ্জ: হাসপাতালে বৌদিকে দেখতে এসে পকেটমারের খপ্পরে পড়লেন দেওর। শুক্রবার সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হাসপাতাল ক্যাম্পাসে। রায়গঞ্জ থানার পুলিশ এসে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে অভিযুক্তকে ধরার চেষ্টা করছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, রায়গঞ্জ থানার শীতগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের শেয়ালতোরের বাসিন্দা লাল মহম্মদ ও তাঁর স্ত্রী অঞ্জলি বেগম তাঁদের বৌদি সাইমা বেগমকে গাইনি বিভাগে দেখতে আসেন। লিফটে চড়া মাত্রই তাঁর পকেট থেকে মানিব্যাগ হাতিয়ে নেয় পকেটমারের দল।

তিনি বলেন, ‘আমার বৌদি রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের গাইনি বিভাগে ভর্তি হয়েছে। তাকে দেখতে এসেছিলাম। মানিব্যাগে থাকা তিন হাজার টাকা, বম্বে যাওয়ার প্লেনের টিকিট ও আধার কার্ড, ভোটার কার্ড খোয়া গিয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। হাসপাতালের এক আধিকারিক বলেন, প্রতিদিনই দুই থেকে তিন জন রোগীর পরিজনদের পকেটমার হচ্ছে। আমরা এ বিষয়ে মাইকের মাধ্যমে সচেতন করছি। ভিজিটিং আওয়ারের সময় প্রতিদিন এই ঘটনা ঘটছে লিফটের মধ্যে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার বিপ্লব হালদার বলেন, ‘প্রতিটি চুরির ক্ষেত্রেই রায়গঞ্জ থানার পুলিশ আধিকারিককে বলা হচ্ছে। নিরাপত্তারক্ষীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পরপর সাতদিনে ১৬টি পকেটমারের ঘটনায় রীতিমত ক্ষোভে ফুঁসছেন রোগীর আত্মীয় পরিজনেরা।

- Advertisement -

রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসক নার্স স্বাস্থ্যকর্মীরা। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই মেডিকেল কলেজে পুলিশ ফাঁড়ি তৈরির দাবি থাকলেও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন রোগীর পরিজন চিকিৎসক নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ প্রিয়ঙ্কর রায় বলেন, ‘ইতিমধ্যে রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের বৈঠকে, অস্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে একটি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি তৈরি করার। সেটা এখনও কার্যকর হয়নি। ফলে রোগীর পরিবার পরিজনদের পকেটমারের ঘটনা ঘটছে। তেমন সামান্য ঘটনা ঘটলেই চিকিৎসক নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে রোগীর পরিজনেরা। গত কয়েকদিনে পরপর রোগীর পরিজনদের পকেটমারের ঘটনা ঘটলেও এখনও পর্যন্ত একজন অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হয়নি।