ম্যাজিশিয়ানকে পেয়ে মানসিক অবসাদ দূর করোনা রোগীদের

338

জলপাইগুড়ি : করোনা সংক্রামিতদের শারীরিক অসুবিধার সঙ্গে সঙ্গে মানসিক অবসাদও গ্রাস করে। তাই চিকিৎসকরা রোগীদের মানসিকভাবে প্রফুল্ল থাকার কথা বলেন। জলপাইগুড়ির কোভিড হাসপাতালে করোনা সংক্রামিত এক পুলিশকর্মীর ম্যাজিক দেখে সব রোগীই  মানসিকভাবে চাঙ্গা হচ্ছেন। মানসিক অবসাদ কাটাতে পুলিশকর্মীর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীরাও।

পেশায় একজন পুলিশকর্মী হলেও তাঁর নেশা ম্যাজিক দেখিয়ে মানুষকে আনন্দ দেওয়া। ওই পুলিশকর্মী বর্তমানে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানায় কর্মরত। কাজের ফাঁকে নিজের সহকর্মীদের নিয়মিত ম্যাজিক দেখিয়ে একঘেয়েমি কাটিয়ে থাকেন। সেইসঙ্গে নতুন নতুন ম্যাজিকের কৌশল রপ্ত করার চেষ্টা করেন। করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকে রানিনগর এলাকায় একটি বিদ্যালয়ে ত্রাণ শিবিরে থাকা যাযাবর সম্প্রদায়ে মানুষদের ম্যাজিক দেখিয়ে আনন্দ দিয়েছিলেন তিনি। করোনা সংক্রামিত হওয়ার পর চলতি মাসের ছয় তারিখ তাঁকে ভর্তি করা হয় জলপাইগুড়ি কোভিড হাসপাতালে। হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী, কেউ বেড থেকে নেমে ঘোরাফেরা করেন না। সকলেই নিজেদের বেডে শুয়ে বসেই দিন কাটান। কমবেশি সকলেই মানসিক অবসাদে রয়েছেন। অবসাদ কাটাতে সেখানে এখনও টিভি লাগানো হয়নি। এরই মধ্যে রোগীদের মানসিক অবসাদ কাটাতে উদ্যোগী হন ওই পুলিশকর্মী। ম্যাজিক দেখানোর উপকরণ সঙ্গে না থাকলেও হাতগুটিয়ে বসে থাকেননি তিনি। নিজের বেডের মশারি টাঙানোর দড়ি, কাগজ, রাবার ব্যান্ড এবং গাণিতিক প্রশ্নোত্তরে ম্যাজিক দেখিয়ে করোনা সংক্রামিতদের আনন্দ দিয়ে চলেছেন ওই পুলিশকর্মী। ওই হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা এক ব্যক্তি বলেন, এমন একজন পাশের বেডে থাকলে আতঙ্ক, মানসিক অবসাদ সবই ভুলে যেতে হবে।

- Advertisement -

বৃহস্পতিবার দ্বিতীয়বার রিপিট টেস্টের জন্য লালার নমুনা নেওয়া হয়েছে ওই পুলিশকর্মীর। রিপোর্ট নেগেটিভ এলে দু-একদিনের মধ্যে তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাবেন। তখন বাকি রোগীদের আবার হয়তো মানসিক অবসাদ চেপে ধরবে। তবে করোনার দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি চিকিৎসক সুশান্ত রায় বলেন, করোনা হাসপাতালে যাঁরা ভর্তি রয়েছেন তাঁদের বিনোদনের জন্য ওয়ার্ডে টিভি লাগানোর জন্য বলা হয়েছে। দু-একদিনের মধ্যে ওয়ার্ডে টিভি লেগে যাবে।