মুখাগ্নির আগেই চিতা থেকে মৃতদেহ তুলে রওনা দিল পুলিশ, তারপর…

116

রায়গঞ্জ: চলছিল শেষকৃত্য। এমন সময় শশ্মানে হাজির পুলিশ। কথা না বাড়িয়ে মুখাগ্নির আগেই চিতা থেকে মৃতদেহ তুলে নিয়ে পুলিশের তরফে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হল। ঘটনায় প্রাথমিকভাবে মৃতের পরিজন সহ শশ্মানে উপস্থিত অন্যান্যরা হতচকিয়ে ওঠেন। যদিও পুলিশের তরফে ঘটনার পূর্ণ ব্যাখ্যা দিতেই হুশ ফেরে সকলের। যদিও এদিনের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।

শনিবার সকালে ঘটনাটি ঘটে রায়গঞ্জ থানা এলাকার গৌরী গ্রাম পঞ্চায়েতের বিষ্ণুপুরে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, মৃত ওই ব্যক্তির নাম অজিত বর্মন(৭৩)। স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা তিনি। বেশ কিছুদিন ধরেই জলাতঙ্কে ভুগছিলেন তিনি। চিকিৎসায় সেভাবে সারা না মেলায় ওই ব্যক্তি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বলেই খবর।

- Advertisement -

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে খবর, এদিন সকালে বাড়ির অদূরে একটি তেজপাতা বাগানে অজিত বর্মনের ঝুলন্ত দেহ নজরে আসে। সময় নষ্ট না করে পরিবের লোকেরা মৃতদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে সোজা শশ্মানে নিয়ে যান। শুরু হয় মৃতদেহ সৎকারের প্রক্রিয়া। এমন সময় ওই ব্যক্তির অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর পেতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় পুলিশ। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য তা চিতা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ময়নাতদন্ত করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু মৃতদেহের ময়নাতদন্ত না করেই পরিবারের তরফে দাহ করা হচ্ছিল। সেক্ষেত্রে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মৃতের ছেলে জয়প্রসাদ বর্মন অবশ্য বলেন, ‘ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে নিয়ে গেলে অনেক টাকা খরচ করতে হয়। তাই টাকার চিন্তায় হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে দাহ করার জন্যেই বাড়ি সংলগ্ন শ্মশানে নিয়ে গিয়েছিলাম।’

মৃতের এক আত্মীয় ধীরেন বর্মন বলেন, ‘আমার কাকা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। এদিন সকালে দেহ দাহ প্রক্রিয়া করতে গেলে এলাকার কিছু বাসিন্দারা পুলিশকে জানিয়ে দেয়। এরপর পর মৃতদেহ নিয়ে যায় পুলিশ। এদিন বিকেল চারটে নাগাদ মৃতদেহ ময়নাতদন্ত হয়।’

গৌরী গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সীমা মন্ডল দাস বলেন, ‘অস্বাভাবিক মৃত্যুর কারণেই ময়নাতদন্ত একান্তই জরুরি। তাই পুলিশ শ্মশান থেকে মৃতদেহ তুলে নিয়ে গিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছিল।’