ঘোষপুকুরে ডাম্পারে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গ্রেপ্তার ১

137

ফাঁসিদেওয়া, ১ অগাস্টঃ দুর্ঘটনায় ব্যক্তির মৃত্যুর পর ডাম্পারে অগ্নি সংযোগের ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে ঘোষপুকুর ফাঁড়ির পুলিশ গ্রেপ্তার করলো। ধৃত রাজু সিংহ (৪০) ফাঁসিদেওয়া ব্লকের ঘোষপুকুর সংলগ্ন লক্ষণসিংজোত এলাকার বাসিন্দা। চলতি সপ্তাহের বুধবার অর্থাৎ লকডাউনের রাতে মাঞ্জা নদী থেকে ডাম্পারে অবৈধ পাথর বোঝাই করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ। বেপরোয়া গতিতে যাওয়ার সময় কুচিয়াজোত মোড়ে ১টি ডাম্পার কুচিয়াজোত বাজার এলাকার বাসিন্দা প্রেমজিত সিংহ (৩৫) কে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিক্ষুব্ধরা পরপর ৪টি ডাম্পারে আগুন ধরিয়ে দেন। পুলিশ সূত্রের খবর, সেই ঘটনায় রাজু সিংহ ডাম্পারে আগুন ধরাতে সাহায্য করেছে। অভিযোগ, রাজু বালির গাড়ি থেকে তোলা আদায় করতো। ওই রাতে সুযোগ বুঝে দুষ্কৃতীদের সঙ্গে নিয়ে সে ডাম্পারে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ শুক্রবার গভীর রাতে তাকে গ্রেপ্তার করেছে।

অন্যদিকে, অবৈধ বালি-পাথর কারবারিদের বিরুদ্ধে ঘোষপুকুর ফাঁড়ির পুলিশ মাঞ্জা নদীতে অভিযান চালায়। অবৈধভাবে নদী থেকে পাথর তোলার অভিযোগে ঘোষপুকুর আমবাড়ির বাসিন্দা সুভাষ বর্মন (৩৫) কে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি, পাচারে ব্যবহৃত ট্রাক্টরটি পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে। শনিবার ধৃতদের শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছে। অন্যদিকে, ঘটনার পর ২ দিন পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু, কুচিয়াজোত এলাকা এখনও থমথমে রয়েছে। অপরদিকে, ঘটনায় জড়িত সকলের নাম পুলিশ জানতে পেরেছে। সূত্রের খবর, ডাম্পারে অগ্নি সংযোগের ঘটনায় জড়িতদের অনেকেই পলাতক। ঘটনায় জড়িত সকলকে খুব শীঘ্রই গ্রেপ্তার করা হবে পুলিশ জানিয়েছে।

- Advertisement -

অন্যদিকে, অবৈধ বালি কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে বিধাননগর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ৩টি বালি বোঝাই লরি সহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃত দয়াল সিংহ (২৮) ইসলামপুরের ঠুটিয়াপাকুড় এবং মহম্মদ আলম (১৯) চোপড়ার গোয়ালপোখর এলাকার বাসিন্দা। শুক্রবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে ফাঁসিদেওয়া ব্লকের বিধাননগর এবং সংলগ্ন এলাকা থেকে পুলিশ বালি বোঝাই লরি আটক করে। লরির চালক বালির কোনও বৈধ নথি দেখাতে পারেনি। এরপর বালি পাচারের অভিযোগে পুলিশ ২ জন লরি চালককে গ্রেপ্তার করে। পাচারে ব্যবহৃত লরি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। শনিবার ধৃতদের শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, বালি পাচারের ঘটনায় আর কেউ জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডিএসপি (গ্রামীণ) অচিন্ত্য গুপ্ত জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের পর ঘটনায় জড়িতদের নাম সামনে এসেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে অবৈধ বালি কারবারিদের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হচ্ছে। এলাকায় এধরণের অবৈধ কর্মকান্ড কোনও ভাবে চলতে দেওয়া হবে না বলে তিনি জানান।