অভিযানে যেতে পুলিশের ভরসা ভাড়ার গাড়ি ও অপ্রশিক্ষিত চালক

2184

রাহুল মজুমদার, শিলিগুড়ি : প্রশিক্ষিত চালক এবং পর্যাপ্ত গাড়ির অভাব, ভাড়ার গাড়ি নিয়ে অভিযুক্তদের ধরতে গিয়ে বেঘোরে প্রাণ গেল শিলিগুড়ির পুলিশকর্মী সহ চারজনের। বৃহস্পতিবারের এই ঘটনায় ফের একবার পুলিশকর্মী এবং অভিযুক্তদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠল। দীর্ঘদিন ধরে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটান পুলিশের অধীন থানাগুলিতে গাড়ির সমস্যা থাকলেও কেন রাজ্য সরকার গাড়ির ব্যবস্থা করছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পরবর্তীতে যে এই ধরনের ঘটনা  ঘটবে না, তার নিশ্চয়তা কে দেবে, জানতে চাইছেন মৃতদের পরিজনরা। ইচ্ছে না থাকলেও যে কর্তব্যের খাতিরে ভাঙাচোরা গাড়ি, অপ্রশিক্ষিত চালকদের সঙ্গে নিয়ে বের হতে হয়, তা একপ্রকার স্বীকার করে নিয়েছেন পুলিশকর্মীরা। বিষয়টি নিয়ে শিলিগুড়ির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (জোন-২) কূঁয়রভষণ সিংকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, গাড়ির বিষয়টি আমার দেখার নয়। এটা ডিসি সদর দেখেন। ডিসি (সদর) জয় টুডুর বক্তব্যের জন্যে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

শিলিগুড়িতে দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের গাড়ি নিয়ে সমস্যা চলছে। পুরোনো দিনের ভাঙাচোরা গাড়ি নিয়ে পুলিশকে দৌড়াতে হচ্ছে। গাড়িগুলির টায়ারের অবস্থাও খারাপ। ফলে যে কোনও সময় দুর্ঘটনায় পড়তে পারে গাড়িগুলি। শহরের বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ি মিলিয়ে মোট ২৫টি টহলদারি ভ্যান রয়েছে। তার মধ্যে শিলিগুড়ি থানা এলাকায় ৫টি, ভক্তিনগর থানা এলাকায় ৫টি, প্রধাননগর থানা এলাকায় ৪টি, বাগডোগরা থানা এলাকায় ২টি এবং মাটিগাড়া থানা এলাকায় ৪টি টহলদারি ভ্যান রয়েছে। এই ভ্যানগুলির অবস্থা বেহাল। ফলে কোথাও অভিযানে যেতে হলে বা ভিনরাজ্যে যেতে হলে পুলিশের ভরসা ভাড়ার গাড়ি এবং অপ্রশিক্ষিত চালক। থানাগুলিতে একটি অলিখিত নিয়মই রয়েছে, কোথাও কোনও নিখোঁজ সংক্রান্ত মামলার তদন্তে গেলে পরিবারকে গাড়ি ভাড়া করে দিতে হবে। আর পুলিশ গাড়ি ভাড়া করলে তার টাকা দিতে হবে নিখোঁজের পরিবারকে। পাশাপাশি যাঁরা যাবেন তাঁদের প্রত্যেকের খাবারের ব্যবস্থাও করতে হবে সেই পরিবারকে। প্রকাশ্যে না বললেও এই প্রথাই দীর্ঘদিন চলে আসছে। সূত্রের খবর, পুলিশের কাছে নিজস্ব ভালো গাড়ি না থাকায় এই ধরনের অভিযানের ক্ষেত্রে এই ভাড়ার গাড়িই তাদের ভরসা।

- Advertisement -

আইনজীবীদের মতে, নিয়ম অনুয়াযী কোথাও অভিয়ানে যেতে হলে গাড়ির জন্যে মোটর ট্রান্সপোর্ট অফিসার (এমটিও)-কে রিকু্ইজিশন দিতে হয়। এরপর তিনি গাড়ির ব্যবস্থা করে দিলে অভিযানে যেতে পারেন পুলিশকর্মীরা। পাশাপাশি গাড়ির প্রয়োজন যে রয়েছে সেই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানার আইসি কিংবা ওসির মাধ্যমে পুলিশ কমিশনার কিংবা ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (সদর)-কে জানাতে হয়।  আর এই বিষয়টি নিয়ে পুলিশকর্মীদের পরিজনরা ক্ষুব্ধ। যাঁরা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্যে দিনরাত কাজ করছেন তাঁদের সুরক্ষার কথা কেন সরকার ভাবছে না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন পুলিশকর্মীদের পরিজনরা। বিষয়টি নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশকর্মীর স্ত্রী বলেন, আজ এক পুলিশকর্মী চলে গেলেন, এরপর যে আমাদের পরিবারে এরকম ঘটনা হবে না তার নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবেন না। যাঁরা সকলের নিরাপত্তার জন্যে কাজ করছেন, তাঁদের নিরাপত্তার কোনও ব্যবস্থা নেই।