রাতের অন্ধকারে আন্দোলনরত হবু শিক্ষকদের হটিয়ে দিল পুলিশ

1105

কলকাতা: চাকরির দাবিতে টানা দু’দিন অবস্থান বিক্ষোভে বসে থেকে অবশেষে মিলল পুলিশি অত্যাচার। গত মঙ্গলবার থেকেই চাকরির দাবিতে বিধাননগরের এসএসসি ভবনের কাছে অবস্থান-বিক্ষোভে বসেছিলেন আপার প্রাইমারির প্রশিক্ষণরত শিক্ষক-শিক্ষিকারা। আর গতকাল রাত একটা নাগাদ বিধাননগর পুলিশ কমিশনারের এক বিশাল পুলিশবাহিনী এসে বিক্ষোভরত হবু শিক্ষকদের গাড়িতে তুলে নিয়ে সোজা শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে ছেড়ে দিয়ে যায়। এরপর রাতে আন্দোলনরত শিক্ষকরা শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে হাজির হলে রেল পুলিশের পক্ষ থেকেও তাদের সেখান থেকে হটিয়ে দেওয়া হয়। ওই রাতেই তাঁরা মিছিল করে মৌলালি মোড় পর্যন্ত গেলে সেখানেও পুলিশের পক্ষ থেকে লাঠি উঁচিয়ে তাদেরকে সেখান থেকে হটিয়ে দেওয়া হয়। পরে তাঁরা কোনোক্রমে শিয়ালদহ কোর্টের সামনে এসে বাকি রাতটুকু কাটায়। পরে সকাল বেলায় তাঁরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করে। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে লাঠি উঁচিয়ে তাদেরকে সেখান থেকে হটিয়ে দেয়।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ৯ বছর ধরে তাঁরাও এসএসসি পরীক্ষায় পাশ করেও চাকরি পাচ্ছেন না। একাধিকবার তাঁরা অবস্থান-বিক্ষোভ, অনশনে বসলেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। এমনকি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী দুইজনই তাদের চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিলেও আজ পর্যন্ত তাঁরা কেউ চাকরি পাননি। ইতিমধ্যেই গত ২০১৪ সালে তাঁরা কলকাতা হাইকোর্টের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। কলকাতা হাইকোর্টের পক্ষ থেকে অবিলম্বে এই সমস্ত এসএসসি পাস করা চাকরি প্রার্থীদের নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু রাজ্য সরকার সেই নির্দেশ মানেনি।

- Advertisement -

ইতিমধ্যেই গত ২৩ নভেম্বর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ১৬,৫০০ জন আপার প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগের একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। আর সেই বিজ্ঞপ্তির উপর স্থগিতাদেশ পাশ করা এসএসসি পরীক্ষার্থীরা পুনরায় কলকাতা হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন।

কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিলেন, আগে এই সমস্ত টেট ও এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীদের নথিপত্র দেখে চাকুরীতে নিয়োগ করতে হবে। তারপর অন্যদের নিয়োগ করতে পারে রাজ্য সরকার।

কিন্তু রাজ্য সরকার বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্যের সেই নির্দেশ মানেনি। আর এই ফলে গত মঙ্গলবার তাঁরা করুণাময়ী থেকে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করার জন্য একটি মিছিল বের করেন। কিন্তু সেই মিছিলকে মাঝ রাস্তাতেই আটকে দেয় পুলিশ। এরপর তাঁরা সেখানে অবস্থান বিক্ষোভে বসে যান। গতকাল অবস্থান-বিক্ষোভ সারাদিন চললেও রাতের অন্ধকারে পুলিশ তাদেরকে সেখান থেকে তুলে শিয়ালদা স্টেশন চত্বরে ছেড়ে দিয়ে যায়। এর ফলে বিপাকে পড়তে হয় অনেক শিক্ষক শিক্ষিকাদের।

টেট ও এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রীদের উপর অমানবিক পুলিশি হামলার প্রতিবাদে এদিন রাজ্যজুড়ে রাস্তায় নামে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই। তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় যেমন মিছিল করেন, তেমনি বিকেলে ধর্মতলা চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত করে।

এদিন বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক অনুপম হাজরার ওই বিক্ষোভ সমাবেশে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই মধ্যরাতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের তুলে দেওয়া ক্ষোভব্যক্ত করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘তাঁরা আন্দোলন স্থলে পৌঁছাবার আগেই আন্দোলন শেষ করল তৃণমূলের “পোষ্য” পুলিশ।‘

তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, ‘গতকাল মধ্যরাতে, তৃণমূল সরকার পুলিশ দিয়ে, সল্টলেক এসএসসি দপ্তরের সামনে থেকে, আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর বর্বরোচিত আক্রমণ করে ও বলপূর্বক উচ্ছেদ করল আন্দোলনরত সমস্ত শিক্ষকদের। এটা লজ্জার। ধিক্কার জানাই।‘

তিনি আরও বলেন ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার আগে, ‘নিজেদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়া মানুষদের জন্য আন্দোলনকে পুঁজি করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী। আর আজ ক্ষমতায় এসে তিনি সেই আন্দোলন কে নির্মমভাবে দমন করার নীতি গ্রহণ করেছেন। তবে আপার প্রাইমারি শিক্ষকদের এই বৈধ অধিকারের দাবিসহ শিক্ষকদের যে কোনো আন্দোলনে পাশে তাঁরা ছিলেন, আছেন এবং থাকবেই।‘