নিখোঁজ থাকার তিনদিন পর বেসরকারি সংস্থার আধিকারিককে উদ্ধার করল পুলিশ

266

দূর্গাপুর: নিখোঁজ থাকার তিনদিন পর বেসরকারি কারখানায় কর্মরত আধিকারিক রাজেশ জৈনের খোঁজ মিলল। বিহারের ঔরঙ্গাবাদ থেকে বৃহস্পতিবার ভোরবেলা তাঁকে দুর্গাপুর থানায় নিয়ে আসা হয়৷ তিনি গত ৬ জুলাই দুপুরে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের এক শপিং মলে চুল কাটাতে গিয়ে রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যান। রাজেশ জৈন বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের এক বেসরকারি কারখানার জেনারেল ম্যানেজার পদে কর্মরত ছিলেন।

রাজেশের স্ত্রী জানান, নিখোঁজের দিন রাতে স্বামীকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অচেনা নম্বর থেকে বাড়িতে ফোন যায়। ফোন পাওয়ার পরপরই থানায় অপহরণের লিখিত অভিযোগ করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পরেই তদন্তে নামে দুর্গাপুর থানার পুলিশ।

- Advertisement -

পুলিশ সূত্রে খবর, রাজেশের মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে মোবাইলের শেষ লোকেশন বিহারে পাওয়া যায়। সেই সূত্র ধরে দুর্গাপুর থানা পুলিশ বিহারে পৌঁছায়। সেখানে পৌঁছে পুলিশ জানতে পারে রাজেশ বুধবার বিকালে বিহারের ঔরঙ্গাবাদ থেকে একটি বাসে করে ফিরছিলেন। সেই বাসটিকে ধাওয়া করে। বৃহস্পতিবার ভোররাতে বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমান্তে ডুবুরডিহি চেকপোস্টে পুলিশ বাসটিকে আটকায়।বাস থেকে রাজেশকে উদ্ধার করা গেলেও তাঁর সঙ্গে কাউকেই পাওয়া যায়নি। এক কারণেই অপহরণের প্রাথমিক অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ।

তবে, রাজেশ জৈন কীভাবে, কেন ঔরাঙ্গাবাদে গেছিলেন? তা জানতে রাজেশকে দুর্গাপুর থানায় নিয়ে আসা হয়৷রাজেশ ও তাঁর স্ত্রীকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি(পূর্ব) অভিষেক গুপ্তা বলেন, “ঔরঙ্গাবাদ থেকেই রাজেশ জৈনকে পুলিশ আটক করেছে৷ সামান্য কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের পরে আমাদের মনে হয়েছে পারিবারিক বিবাদের কারণেই বাড়ি ছেড়ে বিহারে চলে যায় রাজেশ জৈন।

তবে আরও কিছু প্রশ্নের উত্তরও এখনও অজানা রয়েছে। রাজেশ জৈনকে অপহরণ করা না হলে ৬ জুলাই রাতে রাজেশের স্ত্রীর কাছ কে ফোন করেছিল? কেনই বা রাজেশকে অপহরণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়? এ বিষয়ে এখনও ধোঁয়াশায় রয়েছে পুলিশ। রাজেশবাবু ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশকর্মীদের সঙ্গে অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। তাঁরা কোনও বিষয়েই স্পষ্টভাবে মুখ খুলতে চাইছেন না।