রাস্তায় হারিয়ে যাওয়া অলংকার মালিককে ফিরিয়ে দিল পুলিশ

153

শিলিগুড়ি: রাস্তায় হারিয়ে যাওয়া সোনার অলংকারের ব্যাগ উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের হাতে তুলে দিলেন পুলিশকর্মীরা। বুধবার বিকেলে শিলিগুড়ির হাসমিচকে ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন বিভিন্ন স্তরের মানুষ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাগ্নিনীকে জন্মদিনের উপহার দেওয়ার জন্য এদিন হিলকার্ট রোডের একটি সোনার দোকান থেকে দুটি সোনার অলংকার কেনেন শিলিগুড়ির ১ নম্বর ওয়ার্ডের গুরুংবস্তির বাসিন্দা দিলীপ মাহাতো। কিন্তু টোটোতে উঠতে যাওয়ার সময় কোনওভাবে তাঁর পকেট থেকে সোনার অলংকার সহ ব্যাগটি রাস্তায় পড়ে যায়। অপর এক টোটোচালক ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে তা তুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সেসময় এক বাইক আরোহী তা দেখে সঙ্গে সঙ্গে হাসমিচকে ট্রাফিকের দায়িত্বে থাকা এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে বিষয়টি জানান। এরপর সিভিক ভলান্টিয়ার ওই টোটো চালককে আটকে ব্যাগ বের করতে বলেন। ব্যাগ উদ্ধার করে তা হাসমিচকের ট্রাফিক পয়েন্টের দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মী এন এন সরকারের হাতে তুলে দেন ওই সিভিক ভলান্টিয়ার। দেখা যায়, ব্যাগের মধ্যে এক জোড়া কানের দুল এবং একটি আংটি রয়েছে। সঙ্গে সোনার দোকানের বিল ও নম্বর রয়েছে। এরপর পুলিশের তরফে ওই নম্বরে ফোন করে দোকান মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পাশাপাশি কে ওইসব অলংকার  কিনেছেন, তা জানতে চাওয়া হয়।

- Advertisement -

পুলিশ জানতে পারে, গুরুং বস্তির বাসিন্দা দিলীপ মাহাতো প্রায় ২২ হাজার টাকায় অলংকারগুলি কিনেছেন। কোনওভাবে তাঁর পকেট থেকে সোনার অলংকার সহ ব্যাগটি রাস্তায় পড়ে যায়। এরপর পুলিশের তরফে দিলীপবাবুর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হয়। তাঁকে হাসমিচকে আসতে বলা হয়। বৈধ পরিচয়পত্র যাচাই করে পুলিশকর্মীরা সোনার অলংকার তাঁর হাতে তুলে দেন। হারিয়ে ফেলা অলংকার ফেরৎ পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন দিলীপবাবু। তিনি পুলিশকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

দিলীপবাবু বলেন, ‘প্যান্টের পেছনের পকেটে ব্যাগ রেখেছিলাম। বাড়ি পৌঁছে দেখি, সেটি নেই। সব জায়গায় খুঁজেও অলংকারের ব্যাগ না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ি। অনেক কষ্টের জমানো টাকা থেকে অলংকার দুটি কিনেছিলাম। বাড়ির সদস্যদের বিষয়টি জানাতে সকলেই হতাশ হয়ে পড়েন। এরপরই পুলিশের ফোন আসে। পুলিশকর্মীরা আমার হারিয়ে যাওয়া অলংকার ফেরৎ দিয়েছেন। তাঁদের ধন্যবাদ।‘

অন্যদিকে, হাসমিচকে ট্রাফিক পয়েন্টের দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীরা বলেন, ‘হারিয়ে ফেলা সামগ্রী প্রকৃত মালিকের হাতে তুলে দিতে পেরে সত্যিই ভালো লাগছে।’