শিলিগুড়ি, ১৮ মার্চ ঃ পাহাড়ে এখনও কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে পৌঁছায়নি। বাহিনী কবে পাওয়া যাবে তাও জানা নেই জেলা প্রশাসনের। কিন্তু এরই মধ্যে পাহাড়ের মানুষের মনোবল বাড়াতে তৎপর হয়েছে পুলিশ প্রশাসন। দার্জিলিং, কার্সিয়াং, মিরিক এবং কালিম্পং- সর্বত্রই পুরসভা এলাকা থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চল ঘুরছে পুলিশ এবং প্রশাসনের যৌথ দল। এই দলে থাকছে স্ট্যাটিক সার্ভিলেন্স টিম (এসএসটি)-ও। পাহাড়জুড়ে বিভিন্ন রাস্তায় চলছে নাকা চেকিং। দার্জিলিংয়ের পুলিশ সুপার কে অমরনাথ বলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী কবে আসবে আমাদের জানা নেই। আমরা ভোট ঘিরে মানুষের মনোবল চাঙ্গা করার কাজ শুরু করে দিয়েছি। পাশাপাশি বেআইনি কার্যকলাপ রুখতে সর্বত্রই নাকা চেকিং চলছে। এদিনই সকালে জোড়বাংলো থানার পুলিশ অস্ত্র সহ এক দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করেছে।

দীর্ঘদিনের অশান্তি দূর করে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছে গোটা পাহাড়। কিন্তু বরাবরই পাহাড়ে যে কোনো ভোটকে ঘিরেই একটা চাপা উত্তেজনা থাকে। ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা এর আগেও বহুবার হয়েছে। তাই আগেভাগেই এবার মানুষের ভোটভীতি কাটাতে তৎপর হয়েছে প্রশাসন।শনিবার থেকেই পাহাড়জুড়ে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সর্বত্রই মহকুমাশাসক বা বিডিও অফিসের কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গেই থাকছেন পুলিশ কর্তারা। দার্জিলিং জেলা প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, পুলিশ এবং প্রশাসনের বিভিন্ন আধিকারিক এবং ফোর্স নিয়ে গঠিত বিশেষ দল শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডের পাশাপাশি গ্রামেও যাচ্ছে। মানুষের ভোট দেওয়া নিয়ে যাতে কোনো ভয়ভীতি কাজ না করে তা দেখা হচ্ছে। এই দলের সঙ্গেই থাকছে নির্বাচনের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ফ্লাইং স্কোয়াড এবং স্ট্যাটিক সার্ভিলেন্স টিম। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনেই এই এসএসটি তৈরি হয়েছে। নাকা চেকিং-এর পাশাপাশি বেআইনিভাবে টাকাপয়সা লেনদেনের বিষয়টি এই টিম দেখভাল করছে। দার্জিলিংয়ের জেলা নির্বাচনি আধিকারিক তথা জেলাশাসক জয়শী দাশগুপ্ত বলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী যেদিন আসার আসবে। তার আগে আমাদের মিলিত বাহিনীই বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে মানুষের ভয়ভীতি দূর করার কাজ করছে। পাশাপাশি নাকা চেকিংও শুরু হয়েছে।

এদিকে বিশেষ সূত্রের খবরের ভিত্তিতে শনিবার রাতে জোড়বাংলো থানার পুলিশ বাতাসিযা সংলগ্ন রাইভিলা এলাকা থেকে চন্দন তামাং নামে এক যুবককে অস্ত্র সহ গ্রেফতার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মধ্যরাতে একা রাস্তা দিযে যাওয়ার সময় পুলিশ ওই যুবককে আটকে জেরা করে। কিন্তু অসংলগ্ন কথাবার্তা বলায় তার শরীরে তল্লাশি করা হয়। সেই সময়ই তার কাছে একটি পিস্তল এবং এক রাউন্ড কার্তুজ পাওয়া যায়।  তাকে গ্রেফতার করে রবিবার আদালতে তোলা হয়। পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত চন্দনের তিনদিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছে।