পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে আতঙ্ক, অসমে ফেরত পাঠাল পুলিশ

381

নৃসিংহপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায়, শামুকতলা: বিহার ফেরত পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে আতঙ্ক ছড়াল এলাকায়। বুধবার ঘটনাটি ঘটে আলিপুরদুয়ার ২ ব্লকের উত্তর পারোকাটা এলাকায়।

জানা গিয়েছে, অসমের হালাকুড়া, আগমনী, ছাগলিয়া সহ বিভিন্ন এলাকার ৬০ জন পরিযায়ী শ্রমিক পরিবারের সদস্যদের রাত ২টা নাগাদ ৩১সি জাতীয় সড়কের ধারে উত্তর পারোকাটা এলাকায় একটি বিশ্রামাগারের সামনে নামিয়ে দিয়ে চলে যান ট্রাকচালক। ভোরবেলা ভিন রাজ্য থেকে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। উদ্বিগ্ন বাসিন্দাদের অনেকেই যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য শামুকতলা থানায় যোগাযোগ করেন।

- Advertisement -

পরিযায়ী শ্রমিকরা জানান, তাঁরা বিহারের পূর্ণিয়াতে ইটভাটার কাজ করতে গিয়েছিলেন। লকডাউনে আটকে পড়েন তাঁরা। মালিকপক্ষ লরি করে তাঁদেরকে বাড়ি ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করে। ভুলবশত ট্রাকচালক তাঁদেরকে অসম-বাংলা সীমান্তের বক্সিরহাটের পরিবর্তে শ্রীরামপুরে পৌঁছে দেয়। এইনিয়ে চালকের সঙ্গে শ্রমিকদের তুমুল বচসা বাধে। অবশেষে ওই ট্রাকচালক তাঁদের জাতীয় সড়কের পাশে একটি যাত্রী প্রতিক্ষালয়ের সামনে নামিয়ে দিয়ে চলে যান। ট্রাকচালক ভুল করে তাঁদের অচেনা জায়গায় নামিয়ে দিয়ে চলে যাওয়ায় নিরুপায় হয়ে তাঁরা খোলা আকাশের নীচে জাতীয় সড়কের ধারে রাত কাটাতে বাধ্য হন। ঘটনার জেরে ছোট ছেলেমেয়ে এবং পরিবারের মহিলাদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়েন তাঁরা।

জানা গিয়েছে, এদিন সামাজিক দূরত্বকে শিকেয় তুলে স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে সকালে টিফিন করেন তাঁরা। মিষ্টির দোকান থেকে বাচ্চাদের জন্য মিষ্টি কেনেন।

সতর্কতা হিসেবে থার্মাল স্ক্রিনিং করে তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করা হয়নি বলেই জানা গিয়েছে। তাই তাঁদের মধ্যে করোনা ভাইরাসের বাহক নেই, এটা হলপ করে বলা সম্ভব নয় ।

এইনিয়ে এলাকায় করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এদিন সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়ে গেলেও ওই বিশ্রামাগার সহ আশপাশের এলাকা স্যানিটাইজ করা হয়নি বলে অভিযোগ। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন এলাকার সচেতন বাসিন্দারা।

এই বিষয়ে শামুকতলা থানার ওসি বিরাজ মুখোপাধ্যায় জানান, আজ সকালে তাঁদের খাওয়াদাওয়া করিয়ে সরকারি বাসে করে অসমে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে অসম প্রশাসনের তরফে তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা থেকে কোয়ারান্টিনে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি ওই এলাকা স্যানিটাইজ করার জন্য স্বাস্থ্যদপ্তরকে জানানো হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।