ফালাকাটা,১০ অগাস্টঃ ভাইকে মেরে দেহ ট্রাঙ্কে ভরে ট্রেনে পাচার করতে গিয়ে ফালাকাটা স্টেশনে আর পি এফ এর হাতে ধরা পড়ল দাদা। শনিবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটেছে ফালাকাটা রেলওয়ে স্টেশনে। আটক অরুন কুমার রায় নিজেও একজন পুলিশ কর্মী। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মাদারীহাটের পশ্চিম খয়েরবাড়ির বাসিন্দা অরুন বাবু মাকে অত্যাচার থেকে বাঁচাতে শুক্রবার রাতে নিজের ভাই বরুন কুমার রায়কে খুন করেন। শনিবার দেহ লোপাটের উদ্দেশ্যে ট্রাঙ্কে ভরে ট্রেনে চাপিয়ে পাচারের চেষ্টা করে। কিন্তু মা কে সঙ্গে নিয়ে একটি মারুতি ভ্যানে ট্রাঙ্ক বন্দী ওই দেহ ফালাকাটা স্টেশনে আনা মাত্রই আরপিএফ এর তল্লাশিতে ধরা পড়ে যান তিনি।আরপিএফের তরফে জানানো হয়, ১৫ আগষ্ট স্বাধীনতা দিবস কে ঘিরে ফালাকাটা স্টেশনে কড়া নিরাপত্তা ব্যাবস্থা ছিল। ফালাকাটা স্টেশনে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন আরপিএফ আউট পোস্টের অফিসার ইনচার্জ হেমন্ত কুমার বর্মন। হঠাৎই তার নজরে পড়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের পেছনে দিকে থাকা মারুতি ভ্যানটির উপর। গাড়িতে একটি বড় ট্রাঙ্ক ও গাড়ির ভেতর দুই যাত্রীর হাবভাব দেখে আরপিএফ অফিসারের সন্দেহ হয়। তিনি বার বার জেরা করলেও প্রথমে ট্রাঙ্কে কী আছে জানাতে চাননি অরুনবাবু। পরে তাঁকে আর পি এফ এর ব্যারাকে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়ে নিউ কোচবিহার থেকে ছুটে আসেন আরপিএফ এর ইনসপেক্টর রবি কুমার। টানা জিঞ্জাসাবাদে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে অরুনবাবু স্বীকার করেন তাঁর বৃদ্ধা মা কে ভাই বরুন রায় অত্যাচার করত মা কে বাঁচাতেই ভাইকে খুন করেছেন। ভাই কে মেরে তার অবশ্য কোন অনুতাপ নেই। আইন তাকে যা শাস্তি দেবে তা তিনি মেনে নেবেন বলে জানান পুলিশ কর্মী অরুন রায়।
এদিকে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীর অরুন কুমারের মা ধলো রায় দাবি করেন, তাঁর ছেলে বরুন কে তিনি নিজেই খুন করেছেন। তিনি বলেন, বরুন প্রতিদিন নেশার ট্যাবলেট ও মদ খেয়ে আমার উপর অত্যাচার চালাত। সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছিল। তাই গতকাল রাতে বরুন কে ঘুমের ঔষধ খাইয়ে তিনি বাঁটাম দিয়ে মেরে ফেলেন। অরুনের কোন দোষ নেই ও বাড়িতে থাকলেও মারার সময় আমাকে বাধা দিয়েছে। খবর পেয়ে রাতেই ফালাকাটা থানায় পৌছান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কুন্তল ব্যানার্জী। তার উপস্থিতিতেই রাত সাড়ে ৮ টা নাগাদ ট্রাঙ্ক খুলে দেহ বের করা হয়। তিনি জানান, গোটা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে মা ও ছেলে দুজনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।