ভরসা সিভিক ভলান্টিয়ার, হাঁড়ির খবর জানতে চায় পুলিশ

294

জলপাইগুড়ি : এলাকার কোথায় কখন কী ঘটে যাচ্ছে, সে ব্যাপারে থানা অবধি খবরই পৌঁছোচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন জলপাইগুড়ির জেলা পুলিশ কর্তৃপক্ষ। তাই আনাচকানাচে কী হচ্ছে, তার খবর রাখতে এবার থেকে সিভিক ভলান্টিয়ার ও ভিলেজ পুলিশদের কাজে লাগানো হবে। অনেকটা গুপ্তচরদের মতোই এলাকার হাঁড়ির খবর রাখবেন ও প্রয়োজনমতো স্থানীয় থানায় পৌঁছে দেবেন তাঁরা।

কোনও পারিবারিক বিবাদ, যেটা বড় আকার নিতে পারে, এমন ঘটনার আভাস পাওয়া মাত্র পুলিশকে আগে জানাতে হবে। এসবের পাশাপাশি আরও কয়েকটি দিকে নজর দিতে বলা হয়েছে জেলার থানাগুলিকে। এলাকায় উত্তরবঙ্গকে পৃথক রাজ্যের দাবি তুলে কেউ পোস্টার টাঙাচ্ছে কি না, কোনও ব্যবসায়ীকে কেএলওর নাম করে ফোনে হুমকি দেওয়া হচ্ছে কি না, সেসবও দেখতে হবে। ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও উসকানিমূলক পোস্ট হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

- Advertisement -

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ময়নাগুড়ি এবং ধূপগুড়িতে পরকীয়া নিয়ে ঝামেলার দুটি খবর অনেক পরে পুলিশের কানে আসে। কিছু ঘটনা টেলিভিশন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ পাওয়ার পরই জানতে পারছেন পুলিশকর্তারা। এই ধরনের ঘটনায় বিভিন্ন গ্রামে থাকা ভিলেজ পুলিশ, সিভিক ভলান্টিয়ার এবং পুলিশের গোয়েন্দা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সেইসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে পুলিশের জনসংযোগের বিষয়টি নিয়ে। পরপর এমন ঘটনা ঘটতে থাকায় নড়েচড়ে বসেছে জেলা পুলিশ-প্রশাসন। তাই পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, নিজ নিজ এলাকার ঘটনা সবার আগে জানতে হবে প্রতিটি থানার সিভিক ভলান্টিয়ার এবং ভিলেজ পুলিশকে। কোনও খবর জানা মাত্রই তা স্থানীয় থানার নজরে আনতে হবে। একইভাবে থানার অফিসারদের স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, এলাকার খবর দ্রুত হেডকোয়ার্টারের নজরে আনতে হবে। এক্ষেত্রে কোনও পুলিশ, সিভিক বা ভিলেজ পুলিশকর্মীর কাজে গাফিলতির অভিযোগ উঠে এলে তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে কর্তৃপক্ষ পিছপা হবে না। আবার যদি কেউ এই ধরনের গোপন তথ্য দ্রুত পুলিশের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন, সেক্ষেত্রে তাঁকে পুরস্কৃত করার কথাও ঘোষণা করেছেন পুলিশ সুপার।

করোনাবিধি জারি থাকায় এক জায়গায় বেশি লোকের জমায়েত করা সম্ভব নয়। তাই প্রতিটি থানা এলাকাতে গিয়ে সেখানকার সিভিক ভলান্টিয়ার থেকে শুরু করে পুলিশকর্মীদের নিয়ে এই ধরনের বৈঠক করছেন পুলিশ সুপার।

বৈঠক প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার দেবর্ষি দত্ত বলেন, এটা এক ধরনের রুটিন বৈঠক। জনসংযোগ বাড়াতে আরও কী কী কর্মসূচি করা দরকার, সেই বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।