সানি সরকার, শিলিগুড়ি : নজরদারি বাড়ানোর লক্ষ্যে এবার পাহাড়ের হোটেলগুলির ডেটাবেস তৈরি করছে দার্জিলিং জেলা পুলিশ। এক ক্লিকেই যাতে সমস্ত তথ্য চোখের সামনে পাওযা যায়, সেই লক্ষ্যেই সাবেক প্রথা বদল করতে চাইছে পুলিশ। ইতিমধ্যে কার্সিয়াংয়ে সমস্ত হোমস্টে এবং হোটেল কর্তৃপক্ষকে সব তথ্য নির্দিষ্ট পোর্টালে আপলোড করার নির্দেশ দেওযা হয়েছে। পরবর্তীতে অনলাইন প্রথা দার্জিলিংয়ে ক্ষেত্রেও কার্যকর করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। জেলা পুলিশ সুপার অমরনাথ কে বলেন, সব তথ্য এক জায়গায় রাখতেই ডেটাবেস তৈরির সিদ্ধান্ত নেওযা হয়েছে। নজর দেওয়া হচ্ছে নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও।

একটা সময় শুধু গ্রীষ্ম এবং পুজোর ছুটিতে পাহাড়ে বেড়াতে আসতেন পর্যটকরা। কিন্তু এখন বছরের প্রত্যেকটি দিনই পাহাড়ে পর্যটকদের দেখা পাওয়া যায়। যার ফলে পাহাড়ে যেমন হোটেলের সংখ্যা বেড়েছে, তেমনই হোমস্টে নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে। কিন্তু নতুন তৈরি হওযা অনেক হোটেল এবং হোমস্টে নিয়ে তেমন তথ্য নেই পুলিশের কাছে। অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই নতুন হোটেলগুলি পুলিশকে তেমন তথ্য দেয় না। অথচ পাহাড়ে প্রচুর বিদেশি পর্যটক বেড়াতে আসেন। ফলে বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্পর্কযুক্ত। আইন অনুসারে কোনো হোটেলে বিদেশি পর্যটক থাকলে ওই পর্যটক সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য পুলিশকে দিতে হয় ফর্ম-সির মাধ্যমে। পাসপোর্ট, ভিসার প্রত্যয়িত কপিও দিতে হয়। পাশাপাশি, দেশীয় পর্যটকদের সম্পর্কেও জানাতে হয় পুলিশকে। কাজটি সময়সাপেক্ষ হওযায় অনেক হোটেল কর্তৃপক্ষ নিয়মিত এই তথ্য পুলিশকে দেয় না বলে অভিযোগ। অনলাইন ব্যবস্থা চালু হলে এমন পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে বলে মনে করছে পুলিশের একটা অংশ। তাদের বক্তব্য, ম্যানুয়ালের পরিবর্তে অনলাইন পদ্ধতি চালু হলে যেমন হোমস্টে বা হোটেলগুলির সুবিধা হবে, তেমনই পাহাড়ের হোমস্টে এবং হোটেলের  প্রকৃত সংখ্যা জানা যাবে। পর্যটক হেনস্তা বা কোনো অঘটন ঘটলেও চটজলদি ব্যবস্থা নেওযা সম্ভব হবে। পুলিশের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন হোটেল ব্যবসায়ী এবং টুর অপারেটররা। হোটেল মালিকদের বক্তব্য, নিরাপত্তাজনিত যে কোনো বিষয়ে তাঁরা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করতে চান। পুলিশের তরফে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাতে সুবিধা হবে তাঁদেরই। হিমালয়ান হোমস্টে ওনার্স অ্যাসোসিয়েনের তরফে শ্রেষ্ঠা শর্মা বলেন, অনলাইন ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে আমাদের অনেকটাই সময় বাঁচবে। কারণ বিদেশি পর্যটকদের সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য এতদিন লিখিতভাবে দিতে হত। তাতে যাবতীয় নথি ফোটোকপি করা এবং নির্দিষ্ট তথ্য ফর্ম-সির মাধ্যমে দিতে যেতে হত পুলিশকে। এখন ঘরে বসেই এই কাজ করা যাবে। কার্সিয়াং মহকুমায় হোমস্টে রয়েছে ৩৫টির বেশি। মংপু, রোহিণী, তুরুক মিলিয়ে হোটেলের সংখ্যা আড়াইশোর বেশি। এই হোমস্টে এবং হোটেলগুলি নিয়ে প্রথম পর্যায়ে কার্সিয়াংয়ে নতুন করে তথ্যভাণ্ডার তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা পুলিশ।