কলসেন্টারে বিদেশি লেনদেন নিয়ে চিন্তিত পুলিশ

রাহুল মজুমদার, শিলিগুড়ি : কলসেন্টারে বিদেশ থেকে লেনদেন নিয়ে পুলিশ চিন্তিত। শিলিগুড়ির এই কলসেন্টারগুলি থেকে ঠিক কী কাজ হয়? শুধু কি আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া থেকেই টাকার লেনদেন হত? নাকি হাওড়ার কলসেন্টারের মতো শিলিগুড়ির কলসেন্টারেও চিনা যোগ রয়েছে? বর্তমানে এই সমস্ত বিষয় ভাবাচ্ছে শিলিগুড়ির পুলিশকর্তাদের।

বুধবার বিষয়টি নিয়ে উত্তরবঙ্গ সংবাদে খবর প্রকাশিত হতেই নড়েচড়ে বসেছে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটান পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী শহরে থাকায় চাপের মুখে বুধবার অভিযোগকারিণীকে কমিশনারেটের অফিসে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি ই-মেলের মাধ্যমে পুলিশে অভিযোগ করেছিলেন। এদিন তাঁকে ডেকে পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা করানো হয়। পাশাপাশি অভিযোগের প্রতিলিপি কমিশনারেটের সিল দিয়ে অভিযোগকারিণীকে দেওয়া হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে ফের ডাকা হতে পারে বলে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে। মহিলার দাবি, তাঁর ছেলে যে কলসেন্টারে কাজ করত সেখানে মাদক এবং মধুচক্রের যোগ রয়েছে। সেই চক্রে তাঁর ছেলেকে আটকে রাখা হয়েছে। তাই দ্রুত ছেলেকে উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন ওই মহিলা। পাশাপাশি তাঁর ছেলের মতো আরও অনেক যুবককে এই জালে ফাঁসানো হচ্ছে বলেও তাঁর আশঙ্কা। বিষয়টি নিয়ে শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার ত্রিপুরারি অথর্বের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন না ধরায় কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

- Advertisement -

শিলিগুড়িতে দীর্ঘদিন ধরেই কলসেন্টারের কারবার চলছে। কোথাও কলসেন্টারের আড়ালে ফ্রেন্ডশিপ ক্লাব চালিয়ে প্রতারণা করা হচ্ছে, আবার কোথাও বিদেশে প্রতারণার জাল বিছিয়ে সাধারণ মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা তুলে নেওয়া হচ্ছে। সেই টাকা কোথাও হাওলার মাধ্যমে আবার কোথাও বিটকয়েনের আকারে শিলিগুড়ি ঢুকছে। তবে সব ক্ষেত্রেই প্রতারকরা চূড়ান্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে। সহজে যাতে কেউ এই চক্রের নাগাল না পায় তার জন্যে সময়মতো প্রভাবশালীদের কাছে মাসোহারা পৌঁছে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। কিন্তু এই কলসেন্টারগুলির সঙ্গে বিদেশি যোগ পুলিশের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু কি অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা নাকি অন্য দেশের সঙ্গেও এই প্রতারকদের কোনও যোগ রয়েছে, তা নিয়ে চিন্তিত শিলিগুড়ি পুলিশ। হাওড়া সিটি পুলিশের সাইবার ক্রাইম দপ্তর যে কলসেন্টারে হানা দিয়ে ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল তার সঙ্গে চিনা যোগ মিলেছে। অন্য দেশের পাশাপাশি চিনের সঙ্গেও টাকার লেনদেনের খোঁজ পেয়েছে হাওড়া সিটি পুলিশ। সেই কলসেন্টারের সঙ্গে শিলিগুড়ির কোনও যোগ থাকলেও থাকতে পারে বলে মনে করছেন পুলিশকর্তাদের একাংশ।

শিলিগুড়ি থেকে এই কলসেন্টারের মাধ্যমে কোনও তথ্য চিনে যাচ্ছে কি না? আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়ার মতো চিন থেকেও টাকা ঢুকছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। গোটা ঘটনায় মাদকের যোগও রয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে। মাটিগাড়ার ওই কলসেন্টারে অবাধে মাদক সেবন হয় বলে দাবি ওই সূত্রের। সরাসরি মাটিগাড়া থানার পাকিস্তান বস্তি থেকে ব্রাউন সুগারের মতো মাদক ওই কলসেন্টারে যাচ্ছে বলে খবর। কিন্তু পুলিশের নাকের ডগায় এই ধরনের কাজ হলেও সত্যিই কি পুলিশের কিছু জানা নেই, তা নিয়ে শহরজুড়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। গোটা ঘটনায় উদ্বিগ্ন শহরের বিশিষ্টজনরা। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানি বিভাগের অধ্যাপক ডঃ পলাশ মণ্ডল বলেন, পুরো বিষয়টি নিয়ে পুলিশকে আরও বেশি সতর্ক হতে হবে। এভাবে যুবসমাজকে অন্ধকারের পথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে যা খুবই ভয়ংকর। শিলিগুড়ি চিকেন নেক হিসেবে পরিচিত। তাই পুলিশের আরও বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।