পথ দুর্ঘটনায় পুলিশকর্মীর মৃত্যু, জখম ৫ 

778

মালবাজার ও মেটেলি: পথ দুর্ঘটনায় আহত দু’জনকে উদ্ধার করতে গিয়ে বাইকের ধাক্কা মৃত্যু হল পুলিশের এক হোমগার্ডের। ঘটনায় আহত হয়েছেন পুলিশের এক এএসআই সহ পাঁচজন। রবিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে মেটেলির ইনডং মোড়ে পূর্ত বিভাগের রাস্তার ধারে। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। মৃত পুলিশকর্মী মাল শহরের রামকৃষ্ণ কলোনির বাসিন্দা ছিলেন। ঘটনায় মাল শহরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে চালসা থেকে মেটেলিগামী পূর্ত বিভাগের রাস্তার ধারে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, এদিন দু’জন সাইকেল আরোহী দুর্ঘটনায় জখম হয়ে রাস্তার ধারে পড়েছিলেন। ঘটনাস্থল দিয়ে মেটেলি থানার এএসআই মিঠু রায় যাচ্ছিলেন। তিনি আহতদের উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করেন। তখন মাল শহর থেকে বাইকে চেপে মেটেলি থানার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন হোমগার্ড প্রীতম দে। প্রীতমবাবুও মিঠুবাবুর সঙ্গে মিলে ওই দুই জখম ব্যক্তিকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। সেই সময় চালসা থেকে মেটেলিগামী একটি বাইক এসে তাঁদের সকলকে ধাক্কা মারে। ঘটনায় প্রত্যেকেই আহত হন। পুলিশ আধিকারিক মিঠু রায়কে উদ্ধার করে মঙ্গলবাড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে। তবে হোমগার্ড প্রীতম দে (৩২)-কে বাঁচানো যায়নি। দুর্ঘটনায় জখম বিনোদ মুন্ডা (৩৭), রজত ওরাওঁ (২৩) এবং সুরজ চিকবড়াইক (২৮)-কে মালবাজার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল থেকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। তাঁদের বাড়ি ইংডং চা বাগান এলাকায়। আহত অন্য একজনের চিকিৎসা মালবাজার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালেই চলছে বলে জানা গিয়েছে।

- Advertisement -

মাল মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দেবাশীষ চক্রবর্তী বলেন, ‘ঘটনাটি বেদনাদায়ক। নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমাদের এক হোমগার্ডের মৃত্যুর হল। আর একজন আধিকারিক আহত হয়েছেন। আমরা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি। বিভিন্ন হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা চলছে।’

মাল থানার পুলিশ সোমবার প্রীতম দে’র দেহ ময়নাতদন্তের জন্য জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালে পাঠাবে। তাঁর বাড়ি মাল শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের রামকৃষ্ণ কলোনি এলাকায়। তাঁর বাবা রতন দেও পুলিশের হোম গার্ড ছিলেন। প্রীতমবাবুর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মালের মহকুমা শাসক শান্তনু বালা সহ অন্যরা ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন।