সোনা লুঠ কাণ্ডে সাসপেন্ড দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশকর্মী

352

বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশের তৎপরতায় হাওড়ার জগাছার স্বর্ণঋণ দান সংস্থায় ডাকাতি হওয়া সোনা ও ডাকাতদের ব্যবহৃত গাড়ি উদ্ধার হয়। কিন্তু পুলিশের নজর এড়িয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় দুষ্কৃতিরা। লুটেরারা না ধরা পড়ার জন্য মেমারির পালসিট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্য পৃথ্বিশ মণ্ডলকে সাসপেন্ড করে  জেলা পুলিশ বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে।

হাওড়ার জগাছার পঞ্চাননতলায় থাকা স্বর্ণঋণ দান সংস্থায় গত শনিবার ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সেখান থেকে প্রচুর সোনা লুটকরে লুটেরারা বাইকে চড়ে চম্পট দেয়। চার লুটেরা  মোটরবাইকে চেপে বর্ধমানের দিকে যাচ্ছে এইটুকু তথ্য মেলার পরেই পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্তারা নড়েচড়ে বসেন। সিনিয়র অফিসার সহ বিভিন্ন থানার ওসিদের  সড়কপথে নাকা চেকিংয়ে নামিয়ে দিয়ে পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় নিজে সবকিছু তদারকি করেন। ডিএসপি(ট্রাফিক) আব্দুল কায়ুমও তল্লাসিতে নেমে পড়েন। নাকা চেকিং চালাকালীন বর্ধমানে নবাবহাট মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা সাদা রংয়ের সুইফট ডিজায়ার গাড়ি থেকে উদ্ধার হয় তিনটি ব্যাগ। সেই ব্যাগ থেকেই মেলে স্বর্ণঋণ দান সংস্থা থেকে লুট হওয়া সোনা। ডিএসপি ট্রাফিকের নিরাপত্তারক্ষী ওই গাড়িটি চিহ্নিত করেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর। রবিবার হাওড়া কমিশনারেটের পুলিশ বর্ধমান এসে ওই সোনা ওজন করে। সোনার মোট ওজন দাঁড়ায় ২৪ কেজি।  সোনা উদ্ধারের সাফল্য মিললেও লুটেরারা ধরা না পড়ায় জেলা পুলিশের মুখ পোড়ে। প্রশ্ন ওঠে পুলিশের নজরদারি থাকা সত্ত্বেও নবাবহাট মোড়ের অনেক আগে ২ নম্বর জাতীয় সড়কে পালসিট টোলপ্লাজা ওই সাদা গাড়িটি কিভাবে টপকালো। এর উত্তর পেতে পুলিশের শীর্ষ কর্তারা পালসিট টোলপ্লাজার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখেন। তাতে ঘটনার দিন পালসিট ফাঁড়ির ইনচার্য পৃথ্বিশ  মণ্ডলের গা ছাড়া মনেভাব ধরা পড়ে। বিষয়টি ভালভাবে নেননি পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায়। এতবড় ঘটনার পরেও গা ছাড়া মনোভাব কেন, কেন লুটেরাদের ধরা গেল না এই প্রশ্নেই সাসপেন্ড করা হয়েছে  পালসিট ফাঁড়ির ইনচার্যকে।

- Advertisement -

পূর্ব বর্ধমান জেলার পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় বলেন, “কর্তব্যে গাফিলতির জন্যেই ওই পুলিশকর্মীকে সাসপেণ্ড করা হয়েছে। বিভাগীয় তদন্তও করা হবে।’’ জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের অনেকে মনে করছেন, পালসিট টোল প্লাজ়ায় পুলিশের ভূমিকা ‘কড়া’ থাকলে ‘লুটেরারা পালাতে পারতো না।  জেলা পুলিশের হাতেই লুটেরারা ধরা পড়ে যেত। তা না হয়ে লুটেরারা অনায়াসে গাড়ি নিয়ে পালসিট টোলপ্লাজা দিয়ে  পালাতে সক্ষম হয়। এই বিষয়টি পুলিশ সুপার মেনে নিতে পারেন নি। তবে এতকিছুর পরেও সোনা উদ্ধারের বিষয়টিকে সাফল্য হিসাবেই দেখছেন রাজ্য পুলিশের কর্তারা। পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, সোনা উদ্ধার হওয়ার জন্যে জেলা ট্রাফিক পুলিশকে পুরস্কৃত করা হবে।