স্কুলের বদলে তৃণমূলের ওয়ার্ড অফিসে পালস পোলিওর ক্যাম্প

শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি : স্কুলের বদলে তৃণমূলের পার্টি অফিসে পালস পোলিওর ক্যাম্প হওয়ায় রবিবার বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে শিলিগুড়ির ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে। নির্দিষ্ট সেন্টারের পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর্মীরা অন্যত্র বসায় বহু অভিভাবক শিশুদের নিয়ে ফিরে যান। পরে খোঁজ পেয়ে কয়েকজন শিশুদের নিয়ে ওই পার্টি অফিসে গিয়ে পোলিওর ড্রপ খাওয়ান। এভাবে পার্টি অফিসে বসা নিয়ে ওই স্বাস্থ্যকর্মীরা কোনও স্পষ্ট যুক্তি দিতে পারেননি। তবে তৃণমূলের দাবি, ওই স্বাস্থ্যকর্মীরা আবেদন করায় তাঁদের পার্টি অফিসে বসতে দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘদিন ধরে পুরনিগমের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে উদয়ন সমিতির স্কুলে পালস পোলিওর সেন্টার হয়। এবারও সেখানে সেন্টার হওয়া নিয়ে এলাকায় প্রচার করা হয়। পাশাপাশি স্কুলের গায়ে বিষয়টি নিয়ে ব্যানার লাগানো হয়। এদিন স্কুল খোলা থাকলেও সেখানে স্বাস্থ্যকর্মীরা ছিলেন না। এদিন মেয়েকে নিয়ে এসে স্বাস্থ্যকর্মীদের খোঁজ করছিলেন অলোক দাস। বিরক্ত অলোকবাবু বলেন, সবসময় তো এখানেই পোলিওর ক্যাম্প হয়। এবারেও এখানে পোস্টার টাঙানো হয়েছে। কিন্তু এসে তো দেখছি কেউ নেই। অলোকবাবুর মতো আরও অনেকেই শিশুদের নিয়ে এসে স্বাস্থ্যকর্মীদের দেখা না পেয়ে ফিরে গিয়েছেন। এরপরে এলাকায় খোঁজ নিতেই জানা যায়, স্বাস্থ্যকর্মীরা স্কুল থেকে অনেকটাই দূরে শান্তি মোড় এলাকায় তৃণমূলের ওয়ার্ড অফিসে বসে রয়েছেন। সেখানে পৌঁছে দেখা যায়, মালতী রায় নামে এক মহিলা এক শিশুকে পোলিওর ড্রপ খাইয়ে বের হচ্ছেন। তিনি বলেন, দুঘণ্টা ঘোরার পর দেখি স্বাস্থ্যকর্মীরা পার্টি অফিসে বসে ড্রপ দিচ্ছেন।

- Advertisement -

কিন্তু সেন্টারের বদলে কেন পার্টি অফিসে ক্যাম্প করা হল, তা নিয়ে ওই স্বাস্থ্যকর্মীরা স্পষ্ট কোনও জবাব দিতে পারেননি। এক স্বাস্থ্যকর্মীর যুক্তি, এবারে তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পোলিওর ড্রপ দিচ্ছেন। তবে অনেকেই বিশ্বাস করতে চাইছেন না। তাই এখানে বসেছেন। আবার এক স্বাস্থ্যকর্মী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাইরে ক্যাম্প করা যাবে না। দূরত্ব বজায় রাখারও বিষয় রয়েছে। কিন্তু স্কুলের বদলে ছোট পার্টি অফিসে কীভাবে দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব, তা নিয়ে তিনি কোনও জবাব দিতে পারেননি। অভিভাবকদের ফিরে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে এক স্বাস্থ্যকর্মী ভুল মেনে নিয়ে বলেন, উদয়ন সমিতির কাছে থাকলেই ভালো হত। মাইকে প্রচারও ঠিকভাবে হয়নি। যদিও পার্টি অফিসে উপস্থিত এক মহিলা বলেন, মাইকে প্রচার ঠিকভাবেই হয়েছে। সেক্ষেত্রে কেন শিশুদের নিয়ে অভিভাবকরা এদিক-ওদিক ঘুরেছেন, তার জবাব দিতে পারেননি তাঁরা।

যদিও ওই স্বাস্থ্যকর্মীরাই ওয়ার্ড অফিসে বসতে চেয়েছেন বলে তৃণমূলের জেলা কমিটির মুখপত্র বেদব্রত দত্তের দাবি। তিনি বলেন, এদিন সকালে স্বাস্থ্যকর্মীরা আমাদের কর্মীদের কাছে এসে পার্টি অফিসে বসার আবেদন জানান। আমরা তাঁদের সেন্টারেই বসার কথা জানাই। কিন্তু তাঁরা জানান, ওখানে বসার পরিস্থিতি নেই। পাশাপাশি, এই পার্টি অফিসটি রাস্তার উপর থাকায় তাঁদের সুবিধা হবে। এরপরই আমাদের কর্মীরা তাঁদের পার্টি অফিসে বসতে দিয়েছেন। অন্যদিকে, পুর প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য শংকর ঘোষ বলেন, আমার কাছেও অভিযোগ এসেছে। এবারে বেশ কয়েকটি ট্রানজিট পয়েন্ট করা হয়েছে। কিন্তু সেগুলির কোনোটাই কোনও পার্টি অফিসে করা হয়নি। কাজটা কেউ উদ্দেশ্যেপ্রণোদিতভাবে করে থাকলে তাঁর থেকে জবাব চাওয়া হবে।