পূর্ব বর্ধমানে সভাধিপতির সঙ্গে তৃণমূলের বিরোধ

289

বর্ধমান, ২৭ নভেম্বরঃ পার্টি অফিসের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া নিয়ে চরমে উঠেছে পূর্ব বর্ধমান জেলাপরিষদ সভাধিপতির সঙ্গে খণ্ডঘোষের তৃণমূল নেতৃত্বের সংঘাত। সভাধিপতি শম্পা ধারা জেলাশাসককে সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলবার খণ্ডঘোষে তৃণমূলের পার্টি অফিসের নির্মাণ বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ তুলে সোচ্চার হন খণ্ডঘোষের তৃণমূল নেতৃত্ব। এরই প্রতিবাদ স্বরূপ মুখে কিছু না বললেও খণ্ডঘোষ থেকে নির্বাচিত জেলাপরিষদ সভাধিপতির বিরুদ্ধেই বিদ্রোহ ঘোষণা করে বসেন খণ্ডঘোষেরই কয়েকজন জনপ্রতিনিধি। জেলাশাসক বিজয় ভারতী গতকাল খণ্ডঘোষে প্রশাসনিক সভায় যোগ দিলেও তৃণমূলের বিদ্রোহী জনপ্রতিনিধিরা সেই সভায় অনুপস্থিত থাকেন। এই ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতে বুধবার খণ্ডঘোষে পৌঁছে ফের ওই পার্টি অফিসের নির্মাণকাজ শুরু করান সহ সভাধিপতি দেবু টুডু। এ নিয়ে জেলার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

জেলা তৃণমূলের কো-অর্ডিনেটর তথা সহ সভাধিপতি দেবু টুডু এদিন বলেন, ‘সরকারি জায়গায় তৃণমূলের পার্টি অফিস তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধি নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশে এদিন পার্টি অফিস তৈরির কাজ আবার শুরু করা হয়। কেউ তৃণমূলের পার্টি অফিস নির্মাণকাজ আটকাতে পারবে না।’ জেলাশাসক বিজয় ভারতী যদিও এদিন বলেন, ‘কোনও নির্মাণ বন্ধ করার জন্য আমি নির্দেশ দিইনি।’

- Advertisement -

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল খণ্ডঘোষের বিভিন্ন এলাকা ঘোরার সময়ে সভাধিপতি ও জেলাশসক খণ্ডঘোষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এক আধিকারিক তাঁদের কাছে অভিযোগ করেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জায়গা দখল করে বেআইনি নির্মাণ হচ্ছে। ওই জায়গা ঘুরে দেখার পর কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসনের শীর্ষ নেতৃত্ব।

খণ্ডঘোষ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি তথা জেলাপরিষদ সদস্য অপার্থিব ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, ‘বিধায়ক নবীনচন্দ্র বাগ এতদিন যে ঘরে বসে পরিসেবা দিতেন সেই ঘরটি বিক্রি হয়ে গিয়েছে। বিধায়ক পরিসেবা দেবেন এমন কোনও ঘর এখন নেই। তাই রাস্তার ধারে থাকা পিডাব্লিউডি-র জায়গায় ৬০০ বর্গফুটের ঘর তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’ অপার্থিববাবুর দাবি, রাজ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের হাজার হাজার পার্টি অফিস রয়েছে সরকারি জমিতে। তাঁরাই একমাত্র সরকারি জায়গায় তৃণমূলের পার্টি অফিস তৈরি করছেন এমনটা নয়। তা সত্ত্বেও সভাধিপতি ও জেলাশাসক নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন। সেই ক্ষোভে খণ্ডঘোষের ১০টি পঞ্চায়েতের প্রধান, উপপ্রধান ও জনপ্রতিনিধিরা প্রশাসনিক বৈঠকে অনুপস্থিত থেকে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। দলের রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশে ফের এদিন থেকে নির্মাণকাজ শুরু করে দেওয়া হয়। কেউ কাজ আটকাতে পারবে না।’ সভাধিপতি অবশ্য এই বিষয়টি নিয়ে এদিন কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

ব্লক তৃণমূল সভাপতি এমনটা জানালেও বিরোধিরা অবশ্য বসে নেই। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জায়গা দখল করে তৃণমূলের পার্টি অফিস তৈরি হচ্ছে বলে জেলাশাসককে অভিযোগ জানিয়েছেন সিপিএম জেলা কমিটির সদস্য বিনেদ ঘোষ। বিজেপির খণ্ডঘোষ ব্লকের পর্যবেক্ষক বিজন ঘোষ জানিয়েছেন, সরকারি জায়গায় পার্টি অফিস বন্ধ করার দাবিতে তাঁরা আন্দোলনে নামবেন।