মুর্শিদাবাদ, ১৫ জুনঃ রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদের ডোমকলের কুচিয়ামোড়া এলাকা। শনিবার সকালে গোলাগুলি ও বোমাবাজির ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৩ জন তৃণমূল কর্মীর। আহত একাধিক। অভিযোগ কংগ্রেস আশ্রীত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। আহতদের ডোমকল মহকুমা হাসপাতাল ও মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ডোমকল এসডিপিও-র নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী।

প্রসঙ্গত, গত লোকসভা নির্বাচনের আগে দুষ্কৃতীদের হাতে খুন হন ডোমকল পঞ্চায়েত সমিতির মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ আলতাফ হোসেন। আলতাফ হোসেনের খুনের ঘটনায় প্রধান সাক্ষী ছিলেন তাঁর ছেলে আসিফ ইকবাল। অন্যদিকে সেই খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত কাউস শেখ কয়েকদিন আগে জেল থেকে জামিন পেয়ে বাড়ি ফেরে। অভিযোগ, এরপর থেকেই আলতাফ হোসেনের ছেলেকে ঘটনার প্রধান সাক্ষী হিসেবে মেরে ফেলার চক্রান্ত করে কাউস শেখ। এদিন সকালে আলতাফের ছেলেকে খুন করার উদ্দেশ্যে আলতাফের বাড়িতে দলবল নিয়ে চড়াও হয় কাউস শেখ। আসিফকে না পেয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় তার ভাই সোহেল রানা ও কাকা খাইরুদ্দিন শেখকে গুলি করে দুষ্কৃতীরা। ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় ওই দু’জনের। এরপর দুই দলের মধ্যে গোলাগুলি ও বোমাবাজি শুরু হয়। গুলি ও বোমার আঘাতে গুরুতর আহত হয় আরও কয়েকজন তৃণমূলকর্মী। আহতদের ডোমকল মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে মৃত্যু হয় আলতাফ হোসেনের ভাইপো রহিদুল শেখের। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় অপর একজনকে স্থানান্তরিত করা হয় মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক বলে জানিয়েছে ডোমকল থানার পুলিশ। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। অন্যদিকে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে এই খুন বলে দাবি মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেসের।