ভোট গণনা শেষ না হতেই রাজনৈতিক হিংসার ছবি বিভিন্ন জায়গায় 

450

নিউজ ব্যুরো, ২৩ মেঃ ভোট গণনা শেষ না হতেই রাজনৈতিক হিংসার ছবি দেখা গেল বিভিন্ন জায়গায়। বৃহস্পতিবার কোচবিহার লোকসভা আসনে বিজেপি প্রার্থী এগিয়ে থাকার খবর আসতেই বিজয় উল্লাসে মেতে ওঠে মাথাভাঙ্গা ১ নং ব্লকের জোরপাটকী গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বিজেপি কর্মীরা। বিজয় উল্লাস করে বাড়ি ফেরার পথে নেন্দারপার গ্রামের সম্ভু বর্মন নামে এক বিজেপি কর্মীকে পিছন থেকে বাঁশ দিয়ে মাথায় আঘাত করার অভিযোগ উঠল তৃণমূল সমর্থকের বিরুদ্ধে। বিজেপির স্থানীয় নেতা চন্দন বর্মন বলেন, আমাদের কর্মী সম্ভু বর্মন আনন্দ উল্লাস করে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় পিছন থেকে বাঁশ দিয়ে এক তৃণমূল সমর্থক তাঁর মাথায় আঘাত করে। যদিও এই ঘটনার ভিন্ন সুর ধরেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা জোরপাটকী  গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান কমল অধিকারী। তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থক নবীন বর্মনের বাড়ি গিয়ে তাঁকে মারধর করে বিজেপি। গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে তিনি মাথাভাঙ্গা মহুকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পাশাপাশি, এক বিজেপি কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। সমর দে নামে ওই বিজেপি কর্মী গুরুতর জখম অবস্থায় আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিজেপি সূত্রে খবর, এদিন বিকেল পাঁচটা নাগাদ সাহেবপোতায় বিজেপির কর্মী সমর্থকরা বিজয় উল্লাস করার সময় আচমকা কয়েকজন তৃণমূল কর্মী তাদের উপর আক্রমণ করেন। তাতে সমর দে নামে এক বিজেপি কর্মী আহত হন। গোটা ঘটনার অভিযোগের তীর উঠেছে এলাকার তৃণমূল নেতা মনোরঞ্জন দে-র বিরুদ্ধে। যদিও পুরো ঘটনাটি অস্বীকার করেছেন মনোরঞ্জনবাবু।

অন্যদিকে, এদিন বিকেলে তুফানগঞ্জ ১ ব্লকের অন্দরানফুলবাড়ি -১ গ্রাম পঞ্চায়েতের সুভাষপল্লী এলাকায় কয়েকজন তৃণমূল কর্মীর বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে। ঘটনায় আহত হন ২ জন। জিনি গিয়েছে, আলিপুরদুয়ার লোকসভা আসনে বিজেপি জেতার খবর পাওয়ার পরই প্রায় ৫০-৬০ জন বিজেপি সমর্থক আচমকা এসে হামলা চালায়। তুফানগঞ্জ থানায় কয়েকবার ফোন করা হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ। এই ব্যাপারে তুফানগঞ্জ বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি প্রসেনজিৎ বসাক জানান, এই ঘটনাটি পুরোটাই টিএমসির গোষ্ঠী কোন্দলের ফল।

উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গেও রাজনৈতিক হিংসার ছবি দেখা যায়। এদিন ভোট গণনা চলাকালিন বিকাল থেকেই পূর্ব বর্ধমানের বেশ কিছু জায়গায় তৃণমূল ও বিজেপির কর্মীরা সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। জানা গিয়েছে, বর্ধমান দুর্গাপুর লোকসভা আসনে ভোট গণনা চলাকালিন গণণা কেন্দ্রের বাইরে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে।  ভাঙচুর করা হয় বেশকয়েটি গাড়ি। পুলিশ ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তেজনা ছড়ায়  আউশগ্রামের তকিপুর গ্রামে। তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুড় চালানোর অভিযোগ ওঠে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে। ভাঙচুড়ের পাশাপাশি দুই তৃণমূল কর্মীকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই  ঘটনা ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে বিজেপির তরফে। অন্যদিকে গলসিতেও দুই দলের গোলযোগ বাঁধে। বিজেপির বুথ এজেন্টের বাবাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। মিথ্যা অভিযোগ বলে দাবি তৃণমূলের।