প্রয়াত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর আবক্ষ মূর্তি বসানো নিয়ে চলছে রাজনীতি

463

রায়গঞ্জ: মরেও শান্তি নেই! দীর্ঘদিন কোমায় থাকার পর প্রয়াত প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সিকে নিয়ে রায়গঞ্জে চলছে রাজনৈতিক টানাপোড়েন। প্রয়াত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী উদ্বোধন করে রায়গঞ্জে তাঁর জনপ্রিয়তাকে হাইজ্যাক করতে মাঠে নেমেছে তৃণমূল-কংগ্রেস। পাশাপাশি সেই অনুষ্ঠানে প্রিয় বাবুর প্রিয় পাত্র কংগ্রেসের বিধায়ক মোহিত সেনগুপ্ত এমনকি তাঁর সহধর্মিণী দীপা দাশমুন্সিকে আমন্ত্রণটুকুও জানানো হয়নি!

পুরসভার উদ্যোগে প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির ব্রোঞ্জের আবক্ষ মূর্তি বসানো নিয়ে রীতিমতো রাজনীতি হচ্ছে, এই নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছে। সমালোচকরা বলছে, সামনে বিধানসভা ভোটের দিকে তাকিয়েই প্রিয় বাবুর জনপ্রিয়তাকে হাইজ্যাক করতে চাইছে তৃণমূল। কিন্তু তাঁর সহধর্মিনী এবং প্রিয় পাত্রকে সেই অনুষ্ঠানে না রাখায় বাসিন্দারা এটাকে ভালো চোখে দেখছে না।

- Advertisement -

যদিও পুরসভার চেয়ারম্যান সন্দ্বীপ বিশ্বাস বলেন, ‘প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির মতন জননেতা যিনি রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্র থেকে সংসদকে নেতৃত্ব দিয়েছেন শ্রেষ্ঠ সাংসদের শিরোপা পেয়েছেন। তাঁর মূর্তি বসাবো না তো কার মূর্তি বসাবো। পার্লামেন্টে এত লোককে আপনারা পাঠিয়েছেন, আমরা পাঠিয়েছি। কেউ উনার জায়গায় বসতে পারেননি। দেশ এবং জাতির কল্যাণের জন্য তিনি কাজ করে গিয়েছেন। কাজ করতে করতেই তিনি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছেন ২০০৮ সালে। ২০১৭ সালের ২০ নভেম্বর তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন। তাঁর অন্তোষ্টিক্রিয়া করেছি রায়গঞ্জ পৌরসভায়। তাই আমরা বোর্ড অফ কাউন্সিলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি তাঁর মূর্তি প্রতিষ্ঠা করব।‘

রায়গঞ্জের বিধায়ক তথা কংগ্রেসের জেলা সভাপতি মোহিত সেনগুপ্ত বলেন, ‘আজকের অনুষ্ঠানে আমাদের কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। আমাদের জননেতা প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি কংগ্রেসেই ছিলেন। কংগ্রেসই তার মূর্তি স্থাপন করবে। ভোটের আগে তৃণমূল গিমিক খেলছে। তৃণমূল প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সিকে নিয়ে রাজনীতি করছে।‘

বাম আমলে একসময় দাপিয়েই রায়গঞ্জে রাত চালিয়েছেন প্রিয় বাবু। তাঁর জনপ্রিয়তা এতটাই তুঙ্গে ছিল যে বিরোধী রাজনৈতিক মহলেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা কম ছিলনা। প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সিকে সামনে রেখে তাঁর সহধর্মিনী দীপা দাশমুন্সি তাঁর জীবদ্দশায় রায়গঞ্জের সাংসদ হয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীত্বও পেয়েছিলেন। কিন্তু প্রিয় বাবুর সেই জনপ্রিয়তাকে তাঁর সহধর্মিণী বেশিদিন ধরে রাখতে পারেনি। প্রিয় বাবুর চাষ করা মাটিতে ফসল ফলানো যতটা সহজ ছিল, কিন্তু দীপা দাশমুন্সির দীর্ঘ অনুপস্থিতি রায়গঞ্জের মানুষ ভালো চোখে দেখেনি। এক সময় তাঁর দীর্ঘ গরহাজিরা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে জেলার অভ্যন্তরে। তাকে ভোট পাখিও বলে বিরোধীরা সমালোচনা করেছিলেন।

পরবর্তীকালে যদিও প্রিয় বাবুকে সামনে রেখেই গত লোকসভা নির্বাচনে লড়াই করেও দীপা দাশমুন্সি নিজের জায়গা করে নিতে পারেননি। সে রাজনৈতিকভাবে উত্থান-পতন যাই হোক না কেন, রায়গঞ্জের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড এমনকি রায়গঞ্জের রাজনীতিতে তৃণমূল এবং কংগ্রেসের যারা নেতৃত্বে রয়েছেন তাদের অনেকেই একসময় প্রিয় বাবুর হাত ধরে রাজনীতিতে এসেছিলেন। কিন্তু তাঁর অনুগত সৈনিকদের এখন কেউবা রয়েছে কংগ্রেস শিবিরে আবার কেউ রয়েছে তৃণমূল শিবিরে। প্রিয় বাবুর আর এক প্রিয় পাত্র সন্দীপ বিশ্বাস এখন তৃণমূলের রায়গঞ্জ শহরের কান্ডারি। আর সন্দ্বীপ বিশ্বাস তাঁর প্রিয় নেতার প্রতি ভালোবাসা এবং কৃতজ্ঞতা বোঝাতেই আবক্ষ মূর্তি বসানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেই মতো রায়গঞ্জের শিলিগুড়ি মোড়ে আবক্ষ মূর্তির উদ্বোধনও করা হয়।

এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রায়গঞ্জের প্রাক্তন বিধায়ক চিত্তরঞ্জন রায়, চেয়ারম্যান সন্দ্বীপ বিশ্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান অরিন্দম সরকার, শিক্ষাবিদ শুভেন্দু মুখোপাধ্যায়, শিক্ষাবিদ সুশীল গোস্বামী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ডিএসপি সদর প্রমূখ শহর রায়গঞ্জ পুরসভার কাউন্সিলররা উপস্থিত থাকলেও দেখা যায়নি প্রিয় বাবুর সহধর্মিনী এবং রায়গঞ্জের বিধায়ক মোহিত সেনগুপ্তকে। ফলে বিষয়টিকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে রাজনৈতিক মহলে।