জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি : দূষণে জর্জরিত জলপাইগুড়ি শহরের ধরধরা নদী। এই নদী দূষণে উদ্বিগ্ন জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের গা ঘেঁষে গিয়েছে ধরধরা নদী। বর্তমানে নদীটি কার্যত নিকাশিনালায় পরিণত হয়েছে। অভিযোগ, সেনপাড়া ও সংলগ্ন এলাকা থেকে যথেচ্ছভাবে একশ্রেণির মানুষ নদীতে বর্জ্য ফেলে চলেছেন। শুধু তাই নয়, নদী সংলগ্ন এলাকা দখলও  হয়ে গিয়েছে। শুয়োরের পাল নদী চত্বরে চষে বেড়াচ্ছে নিয়মিত। এতটাই দূষণে ভরে গিয়েছে যে নদীর পাশ দিয়ে বর্জ্যের গন্ধে যাতায়াত করা যায় না। সেচ দপ্তর থেকে কোনো নজরদারি নেই বলে অভিযোগ। পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে পুর কর্তৃপক্ষের ভূমিকার সমালোচনা করা হয়েছে। সেচ দপ্তরের জলপাইগুড়ির সহকারী ইঞ্জিনিয়ার শান্তনু ধর বলেন, ধরধরা নদীর উদ্ভূত সমস্যা সম্পর্কে আমরা অবগত। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচরে আনা হয়েছে। জলপাইগুড়ি সায়েন্স ক্লাবের তরফে ওই নদীর উপরে সমীক্ষায় যে তথ্য উঠে এসেছে তা চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে শহরবাসীর মনে। নদীটির অনেকাংশ ভরাট হওয়ার ফলে ভারী বর্ষণ হলে সেনপাড়া এবং সংলগ্ন এলাকায় জল উপচে পড়ে। জল জমে সমস্যা আরও প্রকট হয়। আবর্জনা জমে থাকার কারণে জলজ প্রাণীর বংশবিস্তারের ক্ষেত্রেও সমস্যা হচ্ছে। ফলে বাস্তুতন্ত্র বিঘ্নিত হচ্ছে।

জলপাইগুড়ির জেলা হাসপাতালের সুপার ডাঃ গয়ারাম নস্কর বলেন, হাসপাতালের সীমানার ধারেই ধরধরা নদী। এই নদীর দূষণের শিকার প্রতিদিন রোগী থেকে শুরু করে রোগীর পরিবার-পরিজন, স্বাস্থ্যকর্মী, চিকিত্সক সকলেই। বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। শুয়োরের পালের নিরাপদ আশ্রয় এখন ধরধরা নদীর ধার। বিষয়টি তিনি পুরপ্রধানের দৃষ্টিগোচরে আনবেন বলে জানিয়েছেন। জলপাইগুড়ি সায়েন্স অ্যান্ড নেচার ক্লাবের সহসম্পাদক জয়দীপ দাস বলেন, নদীটিতে যেভাবে জঞ্জাল ফেলা হচ্ছে তাতে আগামীদিনে নদীর অস্তিত্ব থাকবে কি না সন্দেহ রয়েছে। ওই নদীতে আগে নদীয়ালি মাছ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যেত। এখন দূষণের জেরে নদীতে মাছ পাওয়া যায় না। জলপাইগুড়ি পুরসভার পূর্ত বিভাগের চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল সন্দীপ মাহাতো বলেন, ধরধরা নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি করা জরুরি। পুরসভার পক্ষে নাব্যতা বৃদ্ধির জন্য বিপুল অঙ্কের টাকা খরচ করা সম্ভব নয়। কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবেশমন্ত্রক থেকে নদীর নাব্যতা বৃদ্ধির জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ওই উদ্যোগের ছাতার তলে যাতে ধরধরা নদীকে যুক্ত করা হয় তার দাবি করেছেন তিনি।  সেনপাড়ার বাসিন্দা চন্দন দেবনাথ বলেন, একশ্রেণির স্বার্থান্বেষী মানুষের জন্য সর্বজনীন স্বার্থ বিপন্ন। নদীর জলে মাছের অবশিষ্টাংশ পর্যন্ত ফেলা হচ্ছে বিনা বাধায়। অবিলম্বে এই নদীতে জঞ্জাল ফেলা বন্ধ করতে হবে।