সেচনালায় আবর্জনা জমে দূষণ ছড়াচ্ছে কামাখ্যাগুড়িতে

কামাখ্যাগুড়ি : কামাখ্যাগুড়ির প্রাণকেন্দ্র দিয়ে বয়ে গিয়েছে নারারথলি-কামাখ্যাগুড়ি সেচনালা। আশপাশের কৃষিজমিতে সেচের সুবিধার্থে এই নালা বানানো হয়েছিল দুই দশকেরও বেশি সময় আগে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্রমশ কামাখ্যাগুড়ির বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের অসচেতনতায় ডাম্পিং গ্রাউন্ডে পরিণত হয়েছে এই সেচনালা।

কামাখ্যাগুড়ি এলাকার বেশ কিছু ব্যবসায়ী বাজারের বর্জ্য সেচনালায় ফেলেন বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, সেচনালায় আশপাশের বাড়িগুলি থেকেও আবর্জনা ফেলা হয়। শুখা মরশুমে জল না থাকায় সেচনালার দীর্ঘ ৩-৪ কিলোমিটার অংশের বেশিরভাগটাই আবর্জনায় ঠাসা থাকে। আবর্জনা থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণ ঘটে। বর্ষায় জলের প্রবাহ থাকলে আবর্জনাগুলি জলে ভেসে গিয়ে জমা হয় মূলত দেবেনবাবুর চৌপথি ও দক্ষিণ কামাখ্যাগুড়ি এলাকায়। এলাকার বেশ কিছু স্লুইস গেট আবর্জনা জমে বন্ধ হয়ে থাকে। দক্ষিণ কামাখ্যাগুড়ির রাজ্য সড়কের নীচে সেচনালার হিউমপাইপে আবর্জনা জমে জলের প্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। ফলে আবর্জনাযুক্ত জল এলাকার বেশ কিছু বাড়িতেও প্রবেশ করে। অনেক কৃষিজমিতেও এই জল প্রবেশ করে। দক্ষিণ কামাখ্যাগুড়ি নিম্ন বুনিয়াদি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠেও আবর্জনাযুক্ত জল প্রবেশ করে বলে অভিযোগ। এই আবর্জনাযুক্ত জল থেকে রোগ ছড়ানোর আশঙ্কাও করেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।

- Advertisement -

এলাকার বাসিন্দা মিলি রায় বলেন, প্রতিবছর বর্ষায় আবর্জনাযুক্ত নোংরা জল বাড়িতে ঢুকে যায়। পাশের স্কুলের মাঠেও এই জল জমে থাকে। স্কুল এখন বন্ধ। কিন্তু প্রতিবছর এই জল পেরিয়ে শিশুদের চলাফেরা করতে হয়। শিশুদের স্বাস্থ্যের পক্ষে এটা বিপজ্জনক হতে পারে। গোটা কামাখ্যাগুড়ির আবর্জনা ছাড়াও, মরা জীবজন্তু মাঝে মাঝে জলের সঙ্গে ভেসে আসে। ফলে দুর্গন্ধ ছড়ায়। এটা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। অপর বাসিন্দা প্রদীপ রায় বলেন, কামাখ্যাগুড়ি এলাকার শিক্ষিত মানুষের অসচেতনতার কারণে আমরা গ্রামের বাসিন্দারা প্রতি বর্ষায় ভুগতে থাকি। মানুষের সচেতনতা প্রয়োজন। সেচনালায় আবর্জনা ফেলা বন্ধ হওয়া উচিত।

সংলগ্ন এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়টির শিক্ষক অনিরুদ্ধ সাহা প্রামাণিক বলেন, গত মাসে মিড-ডে মিল সরবরাহ করার দিন স্কুলে গিয়ে দেখি মাঠে সেচনালায় আবর্জনাযুক্ত জল জমে আছে। এলাকার কিছু যুবক নালায় বালির বস্তা দিয়ে জলের প্রবাহ আটকে দিয়ে সহায়তা করেছেন। এই জলের সমস্যার পাকাপাকি সমাধান হওয়া উচিত। সেচ দপ্তরের উদ্যোগে কামাখ্যাগুড়ির বিস্তীর্ণ এলাকায় সেচনালায় আবর্জনা না ফেলার আর্জি জানিয়ে নালার পাশে সাইনবোর্ড, হোর্ডিং লাগানো হয়েছে। কিন্তু মানুষের সেদিকে ভ্রূক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ। প্রতি বছর বর্ষার আগে ও পরে নালা সাফাই করা হয় বলে সেচ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে।

এই বিষয়ে কামাখ্যাগুড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সঞ্জয় পাল বলেন, মাঝে মাঝেই লোক লাগিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত ও সেচ দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে নালার আবর্জনা পরিষ্কার করে দেওয়া হয়। কিন্তু অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ফের আবর্জনায় ভরে যায়। মানুষের সচেতনতা ছাড়া এর সমাধান সম্ভব নয়। দ্রুত ফের আবর্জনা পরিষ্কারের ব্যবস্থা করা হবে।