ডাম্পিং গ্রাউন্ডে পরিণত হয়েছে ১২ নম্বর ওয়ার্ডের পুকুর

229

সৌরভ দেব, জলপাইগুড়ি : একসমযে যে পুকুর দেখে এলাকায় বাড়ি তৈরি করতেন বাসিন্দারা, সেই পুকুর এখন এলাকার ডাম্পিং গ্রাউন্ডে পরিণত হয়েছে। বাড়ির আবর্জনা থেকে শুরু করে রাস্তার জঞ্জাল, সবকিছুরই ঠাঁই হয সেখানে। এমনকি মৃত পশুও ফেলা হয়। জলের বদলে পুকুরে আবর্জনা, কচু গাছ ও কচুরিপানার দেখা পাওয়া যায়। এমনিতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে পুকুর অন্যতম প্রধান ভমিকা নেয়। কিন্তু ১২ নম্বর ওযার্ডের হাইস্কুলের পুকুরই এখন এলাকায় দূষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বলে বাসিন্দাদের অভিযোগ। তাঁদের দাবি, বিভিন্ন সময়ে পুকুর সংস্কারের আবেদন জানানো হলেও পুর কর্তপক্ষ কোনো পদক্ষেপ করেনি। এছাড়া শুয়োরের উৎপাতও এই ওয়ার্ডের একটা বড়ো সমস্যা। পুরসভার তরফে কয়েকবার অভিযান চালানো হলেও এলাকায় শুয়োর প্রতিপালন বন্ধ করা যায়নি।

জলপাইগুড়ি টাউন স্টেশন লাগোয়া জলপাইগুড়ি পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডটি। ২০০৫ সাল থেকে ওয়ার্ডটি কংগ্রেসের দখলে রয়েছে। ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলার বনো সরকার। এই ওয়ার্ডে সাড়ে তিনহাজারের কিছু বেশি ভোটার রয়েছেন। এই ওয়ার্ডের মধ্যে চারটি বস্তি এলাকা রয়েছে। যার মধ্যে রেল বস্তি এবং হঠাৎ বস্তি দুটি রয়েছে রেলের জমিতে। এই দুটি বস্তিতে অন্য সমস্যার পাশাপাশি রয়েছে পানীয় জলের সমস্যা। রেলের ছাড়পত্র না মেলায় পুরসভার তরফে এই দুটি বস্তিতে পানীয় জলের ব্যাবস্থা করা সম্ভব হয়নি। রেল বস্তির বাসিন্দা সুকাতু রায় বলেন, আমরা পুরসভা সহ অন্য নির্বাচনে ভোট দিই। কিন্তু রেলের জমিতে থাকার কারণে পুর পরিসেবা থেকে বঞ্চিত। পানীয জল আমাদের একটা বড়ো সমস্যা। ভোট এলে নেতাদের থেকে প্রতিশ্রুতি মেলে কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না।

- Advertisement -

তবে হাইস্কুলের পুকুর নামে পরিচিত জলাশয়টি ডাস্টবিনে পরিণত হওয়াই এই ওয়ার্ডের সবচেয়ে বড়ো সমস্যা। পুকুরের পাড়ে রেল বস্তি, হাইস্কুল এবং জয়ন্তীপাড়া এলাকা রয়েছে। ওয়ার্ডের প্রবীণ নাগরিকদের দাবি, একসময় এই পুকুর ওই এলাকার লাইফলাইন ছিল। প্রবীণদের স্মৃতিতে পুকুরকে ঘিরে ছোটোবেলায় সাঁতার শেখা, মাছ ধরা সহ একাধিক স্মৃতি রয়েছে। কিন্তু সেসব এখন সবই ইতিহাসের পাতায়। এখানে অন্য এলাকার মতো পুকুর ভরাট হযে বহুতল নির্মাণ না হলেও ওয়ার্ডের ডাম্পিং গ্রাউন্ডে পরিণত হয়েছে এটি। পুকুর পাড়ের বাসিন্দা কঙ্কণা ভট্টাচার্য বলেন, আমার বাবা জলপাইগুড়ি হাইস্কুলের শিক্ষক ছিলেন। সেসময় স্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে এই পুকুরের পাড়ে বাড়ি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে পুকুরটি ডাস্টবিনের চেহারা নেওয়ায় এলাকায অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। বাড়ির আবর্জনা, য়ার্ডের জঞ্জাল সমস্তটাই এখন এই পুকুরে এসে পড়ে। এমনকি মৃত পশুর দেহও ফেলা হয়। দুর্গন্ধে এলাকায টেকা দায় হয়েছে।

ওয়ার্ডের অপর বাসিন্দা বাধন দাস বলেন, এই পুকুরের সঙ্গে ছোটোবেলার স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু সেই গল্প যদি এখনকার ছেলেমেয়েদের বলি তাহলে বর্তমানে পুকুরে অবস্থা দেখে কেউ বিশ্বাস করবে না। যেখানে শহরের অন্য পুকুরগুলির সৌন্দর্যায়ন করা হচ্ছে, তখন এই পুকুরটি অবহেলিত কেন তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বাধনবাবু। ওয়ার্ডের অপর বাসিন্দা প্রতাপ রাউত বলেন, ওয়ার্ডের রাস্তাগুলির অবস্থা খুবই খারাপ, সেগুলি সংস্কার করার দরকার। একইভাবে আমরা দীর্ঘদিন ধরে হরিজন বস্তির বাসিন্দাদের পাট্টা দেওযার দাবি জানিয়ে আসছি। আজ পর্যন্ত আমাদের পাট্টা দেওয়া হযনি। এ প্রসঙ্গে ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বনো সরকার বলেন, সৌরভ চক্রবর্তী এসজেডিএ-র চেয়ারম্যান থাকা সময় শুনেছিলাম এই পুকুরটির সংস্কার করা হবে। কিন্তু তারপরে আর কিছুই জানতে পারিনি। পুকুর সংস্কারের বিষযটি একাধিকবার পুর কর্তৃপক্ষের নজরে এনেছি। কিন্তু সংস্কারের কোনো পদক্ষেপ করা হয়নি। বর্তমানে পুকুরটির অবস্থা খুবই খারাপ। হরিজন বস্তির বাসিন্দাদের পাট্টার বিষয়টিও আমি পুরসভার বোর্ড মিটিংযে জানিয়েছি।