কোচবিহার : কোচবিহার শহরের বেশিরভাগ দিঘিই সংস্কার এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অবহেলায় এবং অযত্নে পড়ে রয়েছে। সেই তালিকায় একটি নাম শহরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে নতুনবাজার সংলগ্ন এলাকায় কালিকাবাজার দিঘি। কয়েকদিন আগে জেলার ১৫৫ টি প্রতিষ্ঠান ও জায়গাকে হেরিটেজ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। এর মধ্যে রয়েছে প্রশাসনিক ভবন, অফিস, মন্দির এবং দিঘি। হেরিটেজের তালিকায় রয়েছে এই দিঘিটিও। ইতিহাসবিদরা জানিয়েছেন, কালিকাবাজার বা নতুনবাজারের পশ্চিমদিকে এই দিঘিটি, যা বর্তমানে প্রায় জবরদখল হযে যেতে বসেছে। দিঘিটির তিনদিক দখল হযে যাওয়ায় তার অবস্থান সম্পর্কে অনেকেই জানেন না।

জানা গিয়েছে, প্রায় ২ বিঘা ১২ কাঠা জমি নিযে দিঘিটির অবস্থান ছিল। কিন্তু দখলদারির জেরে ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে দিঘিটির আয়তন। জানা গিয়েছে, ১৮৮৬ সালের আগেই এই দিঘি খনন করা হয়েছিল। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে কচুরিপানা এবং আবর্জনায ভরে গিয়েছে গোটা দিঘি। শুধু তাই নয়, দিঘির চারপাশও দখল হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ।  দীর্ঘদিনের পুরোনো এই দিঘি বর্তমানে তার কৌটিল্য হারিয়েছে। দিঘির চারপাশ দখল হওয়ার পাশাপাশি দিঘিটি ভরে গিয়েছে কচুরিপানা, আবর্জনা এবং ঝোপজঙ্গলে। প্রতিমার কাঠামো ফেলা থেকে শুরু করে শৌচকর্ম ,  স্নানের জল সবই এসে পরছে দিঘিতে। অভিযোগ, আশেপাশের হোটেলগুলির উচ্ছিষ্ট খাবারও ফেলা হচ্ছে এই দিঘিতে। স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, একসময দিঘিতে মাছ চাষ করা হলেও বর্তমানে তা বন্ধ । ক্রমশ দিঘির চারপাশের জাযগা কমে আসছে।

শহরের প্রবীণ বাসিন্দা তথা ইতিহাসবিদ্ ডঃ নৃপেন্দ্রনাথ পাল বলেন, ‘শহরের বেশিরভাগ দিঘিরই প্রায় একই অবস্থা। জবরদখল হযে যেতে বসলেও এ বিষযে দেখার কেউ নেই। প্রশাসনের এবিষযে নজর দেওয়া উচিত। বাজার এবং ওই এলাকার অগ্নিনির্বাপণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে  দিঘিটি। সেসব কথা মাথায রেখে সংস্কার এবং রক্ষণাবেক্ষণে উদ্যোগ নেওয়া উচিত।’ ন্যাস গ্রুপের সম্পাদক অরূপ গুহ বলেন, ‘বাজার বা সংলগ্ন এলাকায আগুন লাগলে তার মোকাবিলায় এই দিঘি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এই দিঘির বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। দিঘিটি সংস্কার করে মাছ চাষের উপযোগী করে তোলা যায় কিনা সে বিষযে ভাবা হোক।’

ছবি- আবর্জনায় মজে যাচ্ছে কালিকাবাজার দিঘি

তথ্য- দেবদর্শন চন্দ