দিনে দুপুরে ‘পুকুর চুরি’, মাফিয়াদের দাপটে মাথা তুলছে বহুতল

103

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: একসময় রায়গঞ্জ শহরে জলাশয়ের অভাব ছিল না। শীতে সেখানে পরিযায়ী পাখির ভিড় জমতো। কয়েক বছরে জলাশয়গুলি লোপাট হয়েছে। মাটি ও আবর্জনা ফেলে ভরাট করে জমি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এলাকার ও শহরের বাসিন্দাদের অভিযোগ প্রশাসনের উদাসীনতায় এই ঘটনা ঘটে যদিও প্রভাবশালীদের বক্তব্য, প্রশাসনের কিছু করার নেই। জলাশয় গুলি থেকে দূষণ ছড়াচ্ছে। সেগুলি বুজিয়ে ফেলাই ভালো। পুকুর বুজিয়ে রায়গঞ্জ শহরে দেদার গড়ে উঠেছে আবাসন। জমির চরিত্র বদল করে চলছে জমি মাফিয়া রাজ। অভিযোগ, ভূমি দপ্তরের আধিকারিকদের একাংশের সঙ্গে আঁতাত রয়েছে প্রভাবশালীদের। জলাশয় হারিয়ে যাওয়ায় নষ্ট হচ্ছে বাস্তুতন্ত্র। আইন অনুযায়ী পুকুর জলাশয় ভরাট করা যায় না। কিন্তু তার পরেও বছরের পর বছর ধরে কোনও মন্ত্রবলে ভরাট হচ্ছে পুকুর? গত কয়েক বছরে পুকুর ভরাটের সংখ্যা আরও বেড়ে গিয়েছে। পরিবেশপ্রেমীরা বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছেন।

উত্তর দিনাজপুর জেলার নাগরিক কমিটির সম্পাদক তপন চৌধুরী বলেন, ‘একসময় শহরে প্রচুর জলাশয় ছিল। নগরায়নের ফলে অনেকটাই হারিয়েছে। প্রশাসন ও পুরসভাকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। জলাশয় হারিয়ে যাওয়ায় রায়গঞ্জ শহরে অগ্নিকাণ্ড সামলাতে বিপাকে পড়তে হচ্ছে দমকলকে।’ রায়গঞ্জের বিধায়ক মোহিত সেনগুপ্ত বলেন, ‘রায়গঞ্জ শহরের দেবীনগর কলেজপাড়া, বীরনগর, বন্দর, উকিলপাড়া, শক্তিনগর, মিলন পাড়া, অশোক পল্লী সহ বিভিন্ন এলাকায় বড় বড় পুকুর ছিল সেগুলি ভরাট করে প্ল্যট ওয়াইজ জমি বিক্রি হয়েছে, কেউ আবার নার্সিংহোম প্যাথলজি ক্লিনিক তৈরি করেছে। পুকুর ভরাটের ব্যাপারে একাধিকবার জেলাশাসক সহ ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিকদের স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।’

- Advertisement -

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রভাবশালীদের বক্তব্য, শহরের জনসংখ্যা বাড়ছে। এতে যদি দু-একটা জলাশয় বুঝে ফেলা হয় তাতে ক্ষতি কি? জমির মালিকদের বক্তব্য, আমার জমিতে জলাশয়। সেটা প্রয়োজন হলে ভরাট করতেই পারি। এতে প্রশাসনের কি করার আছে। তবে শহরের বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, যারা পুকুর ভরাট করছেন তাঁরা প্রত্যেকে প্রোমোটার, ঠিকাদার, কেউ আবার এলাকার দাগি মস্তান, তাই সবকিছু জেনেও মুখ বুজে থাকতে হয়। বিএলআরও প্রদীপ গিরি বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে।’ ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর আধিকারিক ও ডিএলআরও অতিরিক্ত জেলা শাসক বলেন, ‘জলাশয় ভরাটের কিছু অভিযোগ পেয়েছি। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জলাভূমি ভরাট করতে দেওয়া হবে না। শীঘ্রই এর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।’