নালাগোলায় চুরি হয়ে যাচ্ছে ব্রাহ্মণী নদী

স্বপনকুমার চক্রবর্তী, বামনগোলা : চোখের সামনে চুরি হয়ে যাচ্ছে ব্রাহ্মণী নদী। দিনের আলোয় এধরনের ঘটনায় শাসকদলের দাদাদের হাত দেখতে পাচ্ছেন নালাগোলার আমআদমি।

বামনগোলা ব্লকের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ নালাগোলার মধ্যে দিয়ে বয়ে গিয়েছে ব্রাহ্মণী নদী। দীর্ঘ কয়েক বছর থেকে নাব্যতা হারানোর সঙ্গে সঙ্গে নিজস্ব স্রোতও হারিয়েছে এই নদী। এখন এক শ্রেণির দখলদারের দাপটে এই ব্রাহ্মণী তার সত্তাই হারাতে বসেছে। যার পেছনে রাজনীতির কারবারিদের একাংশের মদত রয়েছে বলে চর্চা শুরু হয়েছে জনমানসে। এ নিয়ে লিখিত কোনও অভিযোগ না হলেও  ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর এবং সেচ দপ্তর খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে তৎপর হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। বিভিন্নভাবে নদীর পাড় দখলের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বামনগোলার বিডিও সঞ্জীত মণ্ডল। তিনি জানিয়েছেন, ব্রাহ্মণী নদীর পাড় দখলের বিষয়টি খতিয়ে দেখে শীঘ্রই ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর এবং সেচ দপ্তরের নজরে আনা হবে।

- Advertisement -

মালদা জেলার বরিন্দ এলাকা নালাগোলার বুক চিরে বয়ে যাওয়া এই নদী দুই ভাগ করে দিয়েছে জনপদটিকে-নালাগোলা উত্তর এবং দক্ষিণ পাড়। দুই পাড়ের অংশেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ হাট, বাজার, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। এছাড়া সরকারি বিভিন্ন অফিস ছাড়াও আলাদা দুটি বাসস্ট্যান্ড, স্কুল, ব্যাংক, স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রভৃতি। একসময় এই নদীতে সারা বছর প্রচুর জল থাকত। বর্ষার সময় দুকূল ছাপিয়ে ভরে উঠত নদী। দুই পাড়ের মানুষজনের পারাপারের জন্য একসময় ফেরিঘাটের নৌকাই ভরসা ছিল। পারাপারের সেই সমস্যা মিটিয়ে বহু বছর আগেই নালাগোলা উত্তর ও দক্ষিণ দুই পাড়কে জুড়ে দিয়েছে ব্রাহ্মণী নদীর ওপর তৈরি জিতু সেতু। এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, তারপর থেকেই এক শ্রেণির মানুষ সেতু থেকে নদীর মাঝে ব্যাপক পরিমাণে আবর্জনা ফেলা শুরু করেছে। এতে নদীকে দূষিত করার পাশাপাশি নদীর নাব্যতা কমে যাচ্ছে।

নদীর ওপর এই ধরনের অত্যাচারের পাশাপাশি বর্তমানে নদীর পাড় দখলের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। দেখা গিয়েছে, গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে যাওয়ার পথে একসময়ে নদীটির ফেরিঘাটের পাড়ের অংশটুকুও কে বা কারা বাঁশ দিয়ে ঘিরে রেখে নিজেদের বলে দাবি করছে। কেউ নদীর পাড়ের কী করে দাবিদার হতে পারে, তা নিয়ে কোনও ভ্রূক্ষেপই নেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের। অপর পাড়েও অনেকেই নদীর পাড় মাটি দিয়ে ভরাট করে, কেউ বা কংক্রিটের ঢালাই করে  নিজেদের বাড়িঘর এগিয়ে নিচ্ছেন নদীর দিকে। মাটি দিয়ে নদীপাড় ভরাটের পর মাটি যাতে ধসে না যায়, সেজন্য রাতারাতি আস্ত একটা তালগাছের চারা নদীর মাঝখানে লাগানো হয়েছে। এমন ঘটনায় হতবাক অনেকেই। আরও তালগাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা জানা গিয়েছে বলে চর্চা চলছে।

নালাগোলা জিতু সেতুর মাঝে দাঁড়িয়ে পূর্ব দিকে তাকালে নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা ঘরবাড়ি দেখা যায়। তেমনই পশ্চিম দিকে তাকালে রাতারাতি লাগানো এই তালগাছ স্পষ্ট দেখা যায়। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সেটা কেন নজরে পড়ে না, সেটাও আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করে নদী ও নদীর পাড় দখলের এই প্রবণতা নদীকে বিলুপ্তির পথে ঠেলে দিলেও প্রশাসনিক কোনও হেলদোল নেই বলে অভিযোগ।