বিপ্লব হালদার, গঙ্গারামপুর : একদিকে দূষণ, অপরদিকে দখল হয়ে যাচ্ছে নদী। তার ফলে নালায় পরিণত হয়েছে গঙ্গারামপুরের ব্রাহ্মণী নদী। গঙ্গারামপুর শহরের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত এই নদী একসময় সারা বছর জলে পরিপূর্ণ হয়ে থাকত। নদী থেকে মাছ ধরে জীবিকানির্বাহ করতেন বহু মৎস্যজীবী। কিন্তু সেসবই এখন অতীত। গুরুত্বপূর্ণ এই নদী বাঁচাতে তাই পরিবেশপ্রেমীরা সরব হয়েছেন। এলাকার বিধায়ক এবং সাংসদও নদীর এই সমস্যা নিয়ে ওয়াকিবহাল। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তাঁরা আশ্বাস দিয়েছেন।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার নদীগুলির মধ্যে অন্যতম ব্রাহ্মণী। গঙ্গারামপুর ব্লকের দেবীপুর এলাকা থেকে নদীটির উৎপত্তি। শুকদেবপুর গ্রাম পঞ্চায়েত হয়ে শহরের ১, ৪ নম্বর ওয়ার্ড ও বেলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে দিয়ে তপন ব্লকে প্রবেশ করেছে। সেখান থেকে মালদা জেলা হয়ে বাংলাদেশে গিয়েছে নদীটি। একসময় প্রায় সারা বছরই ব্রাহ্মণী নদী জলে পরিপূর্ণ থাকত। মৎস্যজীবীরা ব্রাহ্মণী থেকে মাছ ধরতেন। নদীপাড়ের জমিগুলিতে ব্রাহ্মণীর জল দিয়ে চাষাবাদ হত। বন্যার সময় এই নদী ভয়ানক রূপ ধারণ করত। কিন্তু সে সব এখন অতীত। শুধুমাত্র বর্ষার মরশুমেই নদীটি ফুলেফেঁপে ওঠে। কিন্তু সারাবছর জলের দেখা মেলে না।

- Advertisement -

অভিযোগ, এই নদী ক্রমাগত দখল হয়ে চলেছে। বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে নদীর গতিপথ। অনুষ্ঠান বাড়ির আবর্জনা ফেলে নদীকে ডাস্টবিন হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। পরিবেশপ্রেমী তুহিনশুভ্র মণ্ডলের অভিযোগ, ব্রাহ্মণী নদীর পাড়ে ঘরবাড়িও গড়ে উঠেছে। অনুষ্ঠান বাড়ির খাবারের থালা, থার্মোকল সবকিছু নদীতেই ফেলা হচ্ছে। ক্রমাগত আবর্জনা জমতে থাকায় নদীটি প্রায় নালার আকার ধারণ করেছে। এর আগে আমরা প্রসাশনকে বিষয়টি জানিয়েছি। যেমন করেই হোক ব্রাহ্মণী নদীকে বাঁচাতে হবে। নদীটির গুরুত্বের কথা তুলে ধরে আমরা প্রশাসনের দ্বারস্থ হব। শিক্ষক তথা পরিবেশকর্মী সনাতন তামলী বলেন, ছোটবেলায় দেখেছি, সারা বছরই ব্রাহ্মণী নদীতে জল থাকত। কিন্তু সেই নদী আর আগের জায়গায় নেই। নদী দূষণের ফলে নালায় পরিণত হয়েছে। নদীর পাড় দখল করে অনেকেই চাষাবাদ করছেন। সাধারণ মানুষ যদি সচেতন না হন, তাহলে আগামীদিনে ব্রাহ্মণী হারিয়ে যাবে।

বেলবাড়ির বাসিন্দা বাবলু পাল বলেন, এক সময় নদীকেন্দ্রিক সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। নদীর পাড়েই হত ব্যবসা-বাণিজ্য। গঙ্গারামপুর শহরের উপর দিয়ে দুটি নদী বয়ে গিয়েছে। কিন্তু ব্রাহ্মণী নদীর দুপাড়ে আগাছায় ভরে গিয়েছে। সেতু থেকে তাকালে ভীষণ কষ্ট হয়। নদীর পাড় দখল হয়ে যাচ্ছে। বিধায়ক গৌতম দাস বলেন, সত্যি ব্রাহ্মণী নদী দূষিত হয়ে পড়ছে। নদীর গতিপথ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার মুখে রয়েছে। যার ফলে নদী মজে গিয়েছে। গতিপথের সংস্কারের প্রযোজন রয়েছে। বিষয়টি আমি বিধানসভায় তুলব।

বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, নদী হচ্ছে যে কোনও জায়গার লাইফলাইন। লাইফলাইন যদি ঠিক না থাকে, তাহলে সেই জায়গা নষ্ট হয়ে যাবে। জেলা প্রসাশনের উচিত জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো। জনগণের মধ্যে যদি জাগরণ না আসে, তাহলে কোনও জিনিসই বাঁচানো যাবে না। আমি বিষয়টিকে সংসদে তুলে ধরব। এ প্রসঙ্গে গঙ্গারামপুরের বিডিও অঙ্কিত আগরওয়াল বলেন, সেচ দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে নদীর সমস্যা দূর করার চেষ্টা করা হবে।