রাজু হালদার, গঙ্গারামপুর : বেলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজলীঘাট এলাকার কাঠের সেতু দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। স্থানীয় ব্রাহ্মণী নদীর ওপর এই সেতুর রেলিং ভেঙে গিয়েছে। সেতুর ওপর দিয়ে প্রতিনিয়ত কয়েক হাজার মানুষ প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। এমন পরিস্থিতিতে জরাজীর্ণ কাঠের সেতুটি দ্রুত সংস্কারের দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বেলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজলীঘাট এলাকা সহ স্থানীয় কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে ২৫ বছর আগে ব্রাহ্মণী নদীর ওপর একটি সেতু তৈরি করা হয় বাম আমলে। এই সেতু দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা যাতায়াত করেন। কিন্তু গত কয়েক বছর আগে কাঠের সেতুটির রেলিং ভেঙে যায়। সেতুটি নড়বড়ে হয়ে পড়ে। বর্তমানে এই  কাঠের সেতুটি একাধিক স্থানে ভেঙে পড়েছে। অত্যন্ত জীর্ণদশায় থাকা সেতুটি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে চলেছে। বিপজ্জনক সেতু দিয়ে প্রায়শই পারাপার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচলতি মানুষ।

- Advertisement -

যদিও বাধ্য হয়ে বিপজ্জনকভাবে জয়পুর, বিজিপাড়া, নীলডাঙা, বেলবাড়ি, ঠেঙাপাড়া, ঝিনাই বিল, পান্ডেপাড়া, তিলনা, সৈয়রাপুর সহ অন্যান্য গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ প্রতিনিয়ত এই সেতু দিয়ে যাতায়াত করছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেতু সংস্কারের দাবি ইতিপূর্বে বহুবার স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত এবং জেলা প্রশাসনকে জানিয়ে কোনও সুরাহা হয়নি। আসন্ন বর্ষার আগে বিপজ্জনক কাঠের সেতুটি দ্রুত মেরামতের দাবি উঠেছে। এই প্রসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা প্রকাশ প্রামাণিকের অভিযোগ, এলাকাবাসীদের সুবিধার্থে ২৫ বছর আগে ব্রাহ্মণী নদীর ওপরে এই কাঠের সেতু তৈরি করা হয়েছিল। কয়েক বছর আগে সেতুর রেলিং ভেঙে পড়েছে। পাটাতন নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সেতুর নীচে যে স্তম্ভ রয়েছে, তা  দুর্বল হয়ে পড়েছে। অত্যন্ত বিপজ্জনক এই সেতু দিয়ে প্রতিনিয়ত স্থানীয় আট-দশটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন।  এমনকি স্থানীয় বাসিন্দারা অসুস্থ হয়ে পড়লে এই নড়বড়ে সেতুর ওপর দিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ছাত্রছাত্রীরা এই বিপজ্জনক কাঠের সেতুর ওপর দিয়ে যাতায়াত করে। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত মোটরবাইক, ভুটভুটি, টোটো চলাচল করছে ।এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি সেতু দীর্ঘদিন ধরে বেহাল দশায় পড়ে রয়েছে। আমরা চাই, দ্রুত এই সেতু সংস্কার করা হোক।

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা তথা নিত্যযাত্রী রাজকুমার সরকার বলেন,  দীর্ঘদিন ধরে বিজলীঘাটের কাঠের সেতুটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যে সেতুর অনেকাংশ ভেঙে পড়েছে। প্রায়শই সেতু থেকে পথযাত্রীরা নীচে পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছেন। বর্ষার সময়ে সেতু দিয়ে যাতায়াতের সময় চরম সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা চাই, বিপজ্জনক এই সেতুটি দ্রুত সংস্কার করে করা হোক। অথবা এই কাঠের সেতুর পরিবর্তে কংক্রিটের সেতু তৈরি করা হোক। অবিলম্বে এই সেতুটি সংস্কার করা না হলে যেকোনো মুহূর্তে বিপজ্জনক এই কাঠের সেতুটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়তে পারে। এ প্রসঙ্গে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি লিপিকা রায় জানান,  বিজলীঘাট এলাকায় ব্রাহ্মণী নদীর ওপর অবস্থিত কাঠের সেতুটি বর্তমানে বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। এই সেতুটি সংস্কারের জন্য আগে আমি উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদের কাছে আবেদন জানিয়েছি। এই বিষয়ে আমি ফের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদে খোঁজখবর নিচ্ছি। সেতুটি যাতে দ্রুত সংস্কার করা হয়, সে বিষয়ে আমি সমস্তরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করব। সাধারণ মানুষকে কিছুতেই এর জন্য বিপন্ন হতে দেব না।