চ্যাংরাবান্ধা, ১৬ ফেব্রুয়ারি : বেহাল মেখলিগঞ্জ ব্লকের চ্যাংরাবান্ধা বাজার এলাকার একমাত্র শ্মশানঘাট। শ্মশানে বিদ্যুৎ, জল, শেড কোনও কিছুরই ব্যবস্থা নেই। শবদাহের জল আনতে শ্মশানযাত্রীদের সীমান্তের নিয়ম লঙ্ঘন করে, বিপদের ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশে যেতে হয়। শ্মশানঘাট ঘেঁষেই রয়েছে ধরলা নদী। যে নদীর অর্ধেক অংশ বাংলাদেশে পড়েছে। নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় জলের জন্য বাংলাদেশে যেতে হয়। সীমান্ত এলাকায় নেই কাঁটাতারের বেড়া। সীমানা পিলারও অনেক স্থানে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে।

বাংলাদেশ ভূখণ্ডে ঢুকে নদীতে জল আনতে সব সময় ভয়ের মধ্যে থাকতে হয় শ্মশানযাত্রীদের। কারণ, এলাকায় বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য রয়েছে। এখান দিয়ে পাচার হয় গোরুও। তাছাড়া সীমান্তে বাংলাদেশের বিজিবি ও এপারের বিএসএফের রক্তচক্ষু রয়েছে। রবিবার এই শ্মশান পরিদর্শনে এসে বিক্ষোভের মুখে পড়েন এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য সুনির্মল গুহ। অবিলম্বে শ্মশানঘাট সংস্কারের দাবি তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা। এদিন সুনির্মল গুহর কাছে স্থানীয়রা জানতে চান, কেন শ্মশানের পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে না। সুনির্মলবাবু নিজেও অবশ্য স্থানীয়দের ক্ষোভ স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন। তিনি বলেন, এখানে বিদ্যুৎ, জল ইত্যাদি কিছুই নেই। জলের জন্য বাংলাদেশ সীমান্তে যেতে হয় শ্মশানযাত্রীদের। আমার সীমিত ক্ষমতা দিয়ে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। তবু আমি উদ্যোগী হয়ে শবদেহ রাখার জন্য একটি শেডঘর তৈরি করেছি। অন্য সমস্যাগুলির কথাও প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। আরও কিছু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা টোটন রায়, বিমল মজুমদার জানান, চুল্লির উপরে শেড নেই। শ্মশানযাত্রীদের বিশ্রামাগার নেই। অন্ধকারে এদিক-ওদিক ঠিকমতো দেখা যায় না। জলের ব্যবস্থা নেই। তাই অনেকেই এখন শবদাহ করতে দূরের শ্মশানে যাচ্ছেন। এইসব সমস্যার কথা জনপ্রতিনিধি থেকে প্রশাসন সকলকেই জানানো হয়েছে। কিন্তু এনিয়ে কেউই মাথা ঘামাচ্ছেন না। তাই এদিন স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যকে কাছে পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিমলবাবুরা। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ধরলা নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে শ্মশানঘাটটি বর্তমানে অনেকটাই নিশ্চিহ্ন হওয়ার মুখে। নদী ভাঙতে ভাঙতে অনেকটাই শ্মশানঘাটের দিকে এগিয়ে এসেছে। সীমান্তের এই উন্মুক্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশের দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য রয়েছে। গোরু পাচারকারীদের যাতায়াতও এই শ্মশানের পাশ দিয়ে। অবিলম্বে শ্মশানের ভোল বদলের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এ বিষয়ে সম্প্রতি চ্যাংরাবান্ধা উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান পরেশচন্দ্র অধিকারী বলেন, চ্যাংরাবান্ধার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার মধ্যে এই শ্মশানঘাটও রয়েছে। এলাকার মানুষের দাবির বিষয়গুলি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার কথা বলেছেন মেখলিগঞ্জের বিডিও সাঙ্গে ইউডেন ভুটিয়াও।