ফালাকাটা-সলসলাবাড়ি মহাসড়ক বৃষ্টিতে যেন ভিলেন

ফালাকাটা : টানা বৃষ্টিতে ফালাকাটা-সলসলাবাড়ি নির্মীয়মাণ মহাসড়ক যেন ভিলেন হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের কাছে। ফালাকাটা থেকে সোনাপুর পর্যন্ত প্রায় ২০ কিমির জাতীয় সড়কে ভোগান্তি চরমে উঠেছে। জল বাড়লেই বেহাল চরতোর্ষা ডাইভারশনের উপর দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যদিও বিপজ্জনকভাবে ছোট গাড়িগুলি চলাচল করছে। সোনাপুরের কাছে সাহেবপোঁতার বটতলাতেও সড়কের উপর দিয়ে হাঁটুসমান জল বয়ে যাচ্ছে। রাস্তার জল আশপাশের বাড়িতে ঢুকে পড়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। এদিকে, বৃষ্টির জেরে এই রাস্তার একাধিক জায়গায় রেইনকাট তৈরি হয়েছে। রাস্তার দুপাশের প্রচুর মাটি ধসে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। মাটি ধসে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে মহাসড়ক নির্মাণকারী সংস্থাও। তবে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছে।

গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে উত্তরবঙ্গে এসে ফালাকাটা-সলসলাবাড়ি ৪১ কিমি রাস্তায় চার লেনের মহাসড়কের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতায় গত বছর মহাসড়কের কাজ সেভাবে এগোয়নি। এ নিয়ে হাইকোর্টে এখনও বেশ কয়েকটি মামলা আটকে রয়েছে। তবে কিছু জায়গায় জটিলতা কেটে যাওযায় চলতি বছরে জোরকদমে কাজ শুরু হয়। ফালাকাটার রাইচেঙ্গা, মেজবিল, কাঁঠালবাড়ি, পলাশবাড়ি, সাহেবপোঁতা, সোনাপুর, বাবুরহাট এলাকায় রাস্তার দুপাশে বালি, মাটি ফেলা এবং বিভিন্ন ব্রিজের পাইলিংয়ে কাজ চলতে থাকে। তবে লকডাউনের জেরে প্রায় দুমাস কাজ বন্ধ ছিল। মে মাসের মাঝামাঝিতে ফের কাজ শুরু হলেও এখন বর্ষায় বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেওয়ায় বিপাকে পড়েছে মহাসড়ক নির্মাণকারী সংস্থা। জলযন্ত্রণা নিয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের পাশাপাশি রেইনকাট, মাটি ধসে যাওয়া এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও শ্রমিকদের থাকার ক্যাম্পগুলি জলে ডুবে থাকায় জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ ফ্যাসাদে পড়েছে।

- Advertisement -

সম্প্রতি বৃষ্টির জেরে চরতোর্ষা ডাইভারশন বেশ কয়েকবার ভেঙেছে। জল কমলে ভাঙা ডাইভারশন সারাই করা হচ্ছে। তাই জল বাড়লেই এই রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সাহেবপোঁতা এলাকাতেও জলযন্ত্রণা বেড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কের মাটি ফেলে রাস্তার পাশের নালাগুলি বন্ধ করা হয়। এজন্য বৃষ্টির জল রাস্তার উপর দিয়ে বয়ে স্থানীয়দের বাড়িতে ঢুকে যাচ্ছে। এর প্রতিবাদে বাসিন্দারা সম্প্রতি পথ অবরোধও করেন। কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি। এদিকে, রাস্তার অধিকাংশ জায়গাতেই মাটি ধসে গিয়েছে। বেশ কিছু জায়গায় রেইনকাট তৈরি হয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর জেরে কমবেশি দুর্ঘটনাও হচ্ছে। মহাসড়ক নির্মাণকারী সংস্থার আলিপুরদুয়ার জেলার প্রশাসনিক প্রধান মেহেবুব রহমান বলেন, প্রচুর মাটি ধসে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। তবে জমিজট না থাকলে এবং লকডাউনের দুমাস কাজ বন্ধ না থাকলে এই ক্ষতি কম হত। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও হত না।

জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের ইস্ট-ওয়েস্ট করিডর প্রোজেক্টের জেনারেল ম্যানেজার সমীরণ ঘোষ বলেন, চরতোর্ষা ডাইভারশনের ওখানে প্রচুর নির্মাণসামগ্রী রাখা আছে। জল কমলেই ডাইভারশন সারাই করে দেওয়া হয়। সাহেবপোঁতার ওখানে রাস্তার পাশে কিছু ড্রেন করা হবে। কিন্তু এই ড্রেন করতে স্থানীয় বাসিন্দারাই বাধা দিচ্ছেন। আর গোটা রাস্তায় যেখানে গর্ত বা রেইনকাট হয়েছে, সেগুলি দ্রুত ঠিক করা হবে।