সৌরভ রায়, কুশমণ্ডি : বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে কোনো পোড়ো বাড়ি। কিন্তু আসলে তা একটি আইসিডিএস সেন্টার। কুশমণ্ডি ব্লকের ৫ নম্বর দেউল পঞ্চায়েতের এই টিটিহি আইসিডিএস সেন্টারের ওপর ভরসা করে থাকে ওই সংসদের বহু শিশু ও গর্ভবতী। কিন্তু সেই আইসিডিএস সেন্টারের খাবার খেয়ে আদৌ কোনো মা বা শিশু সুস্থ থাকতে পারবে কী না তাই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।

আইসিডিএস সেন্টারে ঢুকে দেখা গেল দেয়াল জুড়ে প্লাসটার খসে সেখানে শ্যাওলার নতুন আস্তরণ তৈরি হয়েছে। সেন্টারের ঘরের মুখেও পেছনে থেকে এসে পড়া বাঁশ-ঝোঁপের বাহার। ঘরের ভেতর রোদ ঢোকারও কোনো পথ নেই, ফলে ঘরের অবস্থাও স্যাঁতসেঁতে। দিনের পর দিন ধরে এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থেকেই খাবার বিলি করা হয় শিশু ও গর্ভবতীদের। স্থানীয়দের অভিযোগ, বেহাল টিটিহি সেন্টারের হাল ফেরানোর দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে জানানো হয়েছে প্রশাসনকে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ সেই কথায় কর্ণপাত করেনি।

গ্রামবাসী ধীরেন্দ্রনাথ সরকার, হেদল সরকাররা জানান, ওই অস্বাস্থ্যকর ঘর থেকে গ্রামের অন্য কোথাও কোনো ভাড়াবাড়িতে সেন্টারটিকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাবও আমরা দিয়েছিলাম। কিন্তু তাতেও কোনো লাভ হয়নি। সেন্টারে আসা গর্ভবতীদের ক্ষোভ, সব কিছু জানার পরেও টিটিহি সেন্টারটির কোনো সংস্কার করছে না প্রশাসন। তবে ওই সেন্টারের কর্মী আলেয়া বেওয়া এই প্রসঙ্গে কিছুই বলতে চাননি। কুশমণ্ডির সিডিপিও স্বরবিন্দু নস্কর জানান, টিটিহি সেন্টারের সংস্কার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বিডিওকে জানানো হয়েছে। এছাড়া জেলাতেও বিষয়টি লিখিত আকারে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঠিক কবে নাগাদ কেন্দ্রটির সংস্কার করা হবে সেবিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাতে পারেননি তিনি।

ইতিমধ্যেই জেলা জুড়ে লাল বাচ্চা অর্থাৎ অতি অপুষ্টিতে ভোগা বাচ্চাদের জন্য দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসন বিনামূল্যে খাবার দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। বেশ কিছু জায়গায় শুরুও হয়েছে সেই প্রকল্প। কিন্তু সেন্টারের পরিস্থিতিই যদি এরকম অস্বাস্থ্যকর এবং বেহাল হয়, তবে ভালো খাবার দিয়ে কী সব সমস্যার সমাধান হবে, এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে টিটিহিবাসীর মনে।