সৌরভ রায়, কুশমণ্ডি : স্কুলের পিছনে পুকুর। প্রতিবছর ওই পুকুরে মাছ চাষ করে বিপুল টাকা আয় করে পঞ্চায়েত। প্রতিবছর পুকুরের আয়তন বেড়ে চলেছে মাটি কাটার ফলে। পুকুর বাড়লেও একটা আস্ত জুনিয়ার হাইস্কুল ভবন সংকটে পড়েছে। অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন করার ফলে পুরো ভবনটাই ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এমনই সংকটে পড়েছে কুশমণ্ডি ব্লকের ১ নম্বর আকচা গ্রাম পঞ্চায়েতের গোয়ালগাঁ জুনিয়ার হাইস্কুল। এই ঘটনায় বারবার পঞ্চায়েতকে জানিয়ে কোনো ফল মেলেনি। ফলে পড়ুয়া সহ স্থানীয় মানুষ এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রবীর দাস জানান, গোয়ালগাঁ জুনিয়ার হাইস্কুলের পিছনে আকচা পঞ্চায়েতের একটি নিজস্ব বড়ো পুকুর আছে। প্রতিবছর ওই পুকুর পঞ্চায়েত থেকে লিজ দেওয়া হয়। নিয়মিত মাছ চাষ করার ফলে পুকুরের মাটি কেটে আয়তন বেড়ে যাচ্ছে। যার কারণে স্কুল ভবনটি পুকুরের মধ্যে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে স্কুলের ভবনের বেশ কিছুটা অংশ বসে গিয়েছে। নীচের ঘরে ক্লাস করা যাচ্ছে না। আবার ওপরের ঘরে যাতায়াত করা যাচ্ছে না। প্রধান শিক্ষকের দাবি, তিনি বিষয়টি প্রধানকে জানানোর পরেও পঞ্চায়েত কোনো পদক্ষেপ করেনি। তিনি এও বলেন, স্কুলের এমন ভয়ানক পরিস্থিতির জন্য অনেক অভিভাবক তাঁদের ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতে চান না। স্থানীয় গ্রামীণ চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম জানান, বহুবার পঞ্চায়েতকে অভিযোগ জানানোর পরেও কেন কোনো উপদক্ষেপ করা হয়নি, তা জানি না। যে কোনো সময় স্কুল ভবন পুকুরের জলে তলিয়ে যেতে পারে।

এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের বক্তব্য, স্কুলটি পুকুরের মধ্যে ভেঙে পড়ে যাওয়ার পরে তাঁরা প্রশাসনের কাছে জানতে চাইবেন ঘটনার কারণ কী। তাঁদের দাবি, এখনই ওই পুকুরে গার্ডওয়াল না দিলে একটা বড়ো দুর্ঘটনার সামনে পড়বে গোয়ালগাঁ জুনিয়ার হাইস্কুল। অভিভাবকরা জানান, বিষয়টি এমন জায়গায় গিয়েছে যে তারা সব সময আতঙ্কে থাকেন। এই পরিস্থিতি ঠিক না হলে অনেকেই তাঁদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাবেন না বলে জানান। এই প্রসঙ্গে আকচা পঞ্চায়েতের প্রধান চামেলি চৌহান জানান, বিষয়টি নিয়ে পঞ্চায়েতে আলোচনা করা হয়েছে। তবে কী সিদ্ধান্ত পঞ্চায়েত নিতে যাচ্ছে সেই বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু জানাতে পারেননি। কুশমণ্ডির বিডিও মহম্মদ জাকারিয়া জানান, এমন পরিস্থিতির কথা আমার জানা নেই। তিনি স্কুলটি দেখতে ইঞ্জিনিয়ারদের পাঠাবেন। আকচা পঞ্চায়েতকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হবে।