বাণীব্রত চক্রবর্তী, ময়নাগুড়ি : নানা সমস্যায় ভুগছে ময়নাগুড়ির খুকশিয়া উদ্যান। একসময়ে ময়নাগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের মনোরঞ্জনের অন্যতম এই কেন্দ্রে এখন প্রায় কেউই আসে না। উদ্যানের শিশুদের খেলার সমাগ্রী নেই। রঙিন ফোয়ারা বিকল হয়ে গিয়েছে, নৌকাবিহার বন্ধ। বেহাল সেতু ভেঙে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। পর্যাপ্ত পরিকাঠামোর অভাবে রাত্রিবাসের অনুমতি দেওয়া হয় না। পরিস্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই। সন্ধ্যার পর সেভাবে আলো না জ্বলায় এলাকায় মদের আসর বসারও অভিযোগ উঠছে। বাসিন্দারা চাইছেন, দ্রুত এই উদ্যানের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন করা হোক। প্রশাসনের তরফেও বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

খাগড়াবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েত পরিচালিত খুকশিয়া উদ্যান লিজের মাধ্যমে বেসরকারি মালিকানায় রয়েছে। ২০০০ সালে এই উদ্যান তৈরির কাজ শুরু হয়। ২০০২ সালে তৎকালীন বনমন্ত্রী যোগেশচন্দ্র বর্মন উদ্যানের উদ্বোধন করেন। শুরুতে ৭ বিঘা জমির উপর ওই উদ্যান তৈরি করা হলেও বর্তমানে এর আয়তন ২০ বিঘা। স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রথমদিকে এই উদ্যানে ভালো ভিড় হত। বিশেষত সাপ্তাহিক ও অন্য ছুটির দিনগুলিতে বহু মানুষ এই উদ্যানে ঘুরতে আসতেন। সন্ধ্যার পরেও বহু মানুষ এখানে ঘুরতেন। কিন্তু সময়ে সঙ্গে সঙ্গে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় দর্শকসংখ্যায় ভাটা পড়েছে। বর্তমানে উদ্যানে শিশুদের খেলার সামগ্রীগুলি একেবারেই ভেঙে গিয়েছে। উদ্যানের ভেতরের পুকুরে একসময় নৌকাবিহার করার সুযোগ ছিল। কয়েকবছর ধরে তা বন্ধ। নৌকাগুলিও এখন ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে গিয়েছে। উদ্যানে রাত্রিযাপনের জন্য দুটি ঘর আছে। সেগুলিতে ৪ জন রাত্রিবাস করতে পারে। কিন্তু ঘরগুলি বসবাসের অনুপযোগী হওয়ায় বুকিং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

উদ্যানের ভেতর ঝোরার উপর একটি কাঠের সেতু তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমানে সেতুটি বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। উদ্যানের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সেতুটি বন্ধ করা হয়নি। কিন্তু এই সেতু দিয়ে যাতায়াত করলে যেকোনো সময় বড়ো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। উদ্যানের ভেতরের ক্যানটিনে এখন আর তেমন খাবার পাওয়া যায় না। উদ্যানে বেড়াতে আসা ময়নাগুড়ির বাসিন্দা অনুপ ভৌমিক বলেন, খুকশিয়া উদ্যান এখন একেবারেই শ্রীহীন। ঝোরার উপর কাঠের সেতু ভেঙে পড়ছে। দেখলে মনে হবে এই উদ্যান অভিভাবকহীন। উদ্যানে প্রবেশের জন্য ১০ টাকার টিকিট কাটতে হয়। অথচ বর্তমানে উদ্যানের ভেতরে কিছুই নেই। গৌতম দাস চুক্তির ভিত্তিতে উদ্যান পরিচালনার ভার নিয়েছেন। তিনি বলেন, এখন ছাড়তে পারলে রক্ষা পাই। লোকই আসেন না। সেই পরিকাঠামো নেই। নৈশপ্রহরী নেই। সন্ধের পর পর্যাপ্ত আলো জ্বলে না। রাতে উদ্যানের বিভিন্ন সামগ্রী চুরি হয়ে যায়।

এ প্রসঙ্গে পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য মিতু চক্রবর্তী বলেন, খুকশিয়া উদ্যান ময়নাগুড়ির গর্ব। এক সময় বহু দূরদূরান্তের পর্যটকরাও এখানে ভিড় জমাতেন। অথচ এর বর্তমান অবস্থা ভালো নয়। উদ্যানে আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ কুমুদরঞ্জন রায় বলেন, ময়নাগুড়ির এই উদ্যানে স্থানীয় বাসিন্দারা নিয়মিত আসতেন। বেহাল অবস্থার কারণে বর্তমানে সকলেই মুখ ফিরিয়েছেন। খাগড়াবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সীমা রায় বলেন, পঞ্চায়েতের তরফে যতটুকু করা সম্ভব তা করছি। নতুন ভবন, কাঠের সেতু নির্মাণ সহ পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য একটি প্রকল্প তৈরি করে এসজেডিএর কাছে পাঠিয়েছি। আমরা পুকুরের ধারে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করেছি। আলোর কাজ করাবার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। সন্ধের পর ওই এলাকায় মদের আসর বসে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছি। ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ জানায়, ওই এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হবে।