লকডাউনে মালি বাগান থেকে পাখি চুরি হয়েছে

বিশ্বজিৎ সাহা, মাথাভাঙ্গা : ২০১২ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মাথাভাঙ্গা পৌর উদ্যান বা মালি বাগান পার্কের দায়িত্বভার বন দপ্তরের উদ্যান ও কানন শাখার হাতে ছিল। সেসময় পার্কের প্রভূত সংস্কার করে শহরবাসীর কাছে উদ্যানটিকে আকর্ষণীয় করতে নানা পরিকল্পনা রূপায়িত হয়েছিল। ২০১৬ সাল থেকে ফের মালি বাগানের দায়িত্ব পুরসভার হাতে চলে যায়। ২০১৮ সাল থেকে পৌর উদ্যানে প্রবেশের ক্ষেত্রে টিকিট সিস্টেম এবং উদ্যানের পুকুরে বোটিং চালু হয়। কিন্তু লকডাউনের জেরে উদ্যানটি ফের বেহাল দশায় রয়েছে। উদ্যান বন্ধ থাকায় মাথাভাঙ্গা পুরসভার প্রচুর টাকা ক্ষতি হয়েছে। ফলে আগামীদিনে কর্মীদের বেতন দেওয়া নিয়ে চিন্তিত পুর কর্তপক্ষ।

রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মালি বাগান পার্কের বিভিন্ন অংশ আগাছা ও জঞ্জালে ছেয়ে গিয়েছে। পুকুরঘাটে বোটগুলি বেঁধে রাখা হয়েছে। মাথাভাঙ্গা পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান লক্ষপতি প্রামাণিক বলেন, উদ্যানটি যখন খোলা ছিল, তখন সেখান থেকে মাসে গড়ে ২০ হাজার টাকা আয় হত। লকডাউনের ফলে উদ্যান থেকে আয়ও বন্ধ রয়েছে। ফলে উদ্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের পাশাপাশি পুরসভার চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের মাইনে দিতে সমস্যা হচ্ছে। লকডাউনের ফলে উদ্যানের টিকিট সহ বিভিন্ন কর বাবদ ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়েছে। বন দপ্তরের মাথাভাঙ্গার রেঞ্জ অফিসার সজল পাল মাথাভাঙ্গা পৌর উদ্যান সংস্কারের সময় দায়িত্বে ছিলেন। সে সময় উদ্যানে শিশুদের জন্য জাম্পিং প্যাড, ফ্যামিলি সুইং, মেরি গো রাউন্ড বসানোর পাশাপাশি টোপিয়ারি, রকারি, অ্যকোয়ারিয়াম, রেবিট কেজ, বার্ড কেজ, মুক্তমঞ্চ, ফুল ও বাহারি গাছের নার্সারি তৈরি হয়েছিল।

- Advertisement -

শহরবাসীর অনেকের অভিযোগ, পুরসভার অধীনে আসার পর থেকেই উদ্যানটি ধীরে ধীরে শ্রীহীন হতে শুরু করে। লকডাউন চলাকালীন উদ্যানের বার্ড কেস থেকে সমস্ত পাখি চুরি হয়েছে। সংস্কারের অভাবে বেহাল রকারি এবং টোপিয়ারির আকৃতি পালটে গিয়েছে। উদ্যানটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একজন স্থায়ী মালি থাকলেও দুজন শ্রমিক এবং রোটেশনের ভিত্তিতে চারজন সুপারভাইজার কর্মরত। মাথাভাঙ্গা পৌর উদ্যানের মালি শম্ভু মাহাতো অবশ্য বলেন, উদ্যানটি বন্ধ থাকলেও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়মিত চলছে। তবে সম্প্রতি ঘাস ছাটার মেশিনটি বিকল হয়ে যাওয়ায় উদ্যান আগাছায় ঢেকে গিয়েছে। উদ্যান থেকে সত্যিই পাখি চুরি হয়েছে।