বাণীব্রত চক্রবর্তী, ময়নাগুড়ি : ময়নাগুড়ির একমাত্র শিশু উদ্যানে শিশুদের খেলার কোনো পরিবেশ নেই। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় উদ্যানের মাঝে থাকা পুকুরটি প্রায় শুকিয়ে গিয়েছে। আগাছায় ভরা ওই পুকুরটি এখন মশার আঁতুড়ে পরিণত হয়েছে। ফলে মশার উৎপাতে উদ্যানে সময় কাটানো দায় হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি উদ্যানের অধিকাংশ খেলার সামগ্রী বেহাল হয়ে গিয়েছে। সন্ধের পর উদ্যানে পর্যাপ্ত আলো জ্বলে না। ফলে ইচ্ছে থাকলেও মানুষ উদ্যানে থাকতে পারেন না। বাসিন্দারা বিষয়টি নিয়ে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। বন দপ্তরের তরফে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, এলাকার একমাত্র শিশু উদ্যান হলেও ময়নাগুড়ির এই উদ্যানটির ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না। বর্তমানে উদ্যানের ভেতরে বসার ঘর ও সিমেন্টের চেয়ারগুলির ভগ্নপ্রায় দশা। গোটা এলাকায় পানীয় জলের কোনো ব্যবস্থা নেই। শিশুদের খেলার সামগ্রীগুলি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সেগুলি ঠিক করার পাশাপাশি আরও খেলনা রাখা প্রয়োজন। উদ্যানে আসা নন্দিনী ভট্টাচার্য বলেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এই উদ্যানে অনেকেই বাড়ির খুদে সদস্যদের নিয়ে আসেন। ভিড়ের জন্য বড়োদের পাশাপাশি শিশুদেরও দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এছাড়া উদ্যানের মধ্যে থাকা পুকুরটি প্রায় মজে গিয়ে মশার আঁতুড়ে পরিণত হয়েছে। একই সুরে স্থানীয় বাসিন্দা সুধাংশু সরকার বলেন, উদ্যানের ভেতরে মশার অস্বাভাবিক উপদ্রব। টেকাই দায় হয়েছে। তাই শিশুদের নিয়ে খুব বেশি যাই না। কিন্তু ময়নাগুড়িতে শিশুদের নিয়ে যাওয়ার মতো তেমন কোনো জায়গা নেই। বাসিন্দা অরূপ সেন বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ শিশু উদ্যানটি কর্তৃপক্ষের অবহেলায় ধুঁকছে। এই উদ্যানের পরিসেবা এবং পরিকাঠামোর উন্নয়ন প্রয়োজন।

চলতি বছরের ১ অগাস্ট থেকে এই উদ্যানে প্রবেশের জন্য টিকিট কাটতে হচ্ছে। ৬ থেকে ১২ বছর বয়সিদের জন্য ৫ টাকা ও ১২ বছরের ঊর্ধ্বে ১০ টাকা দিতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দা দেবাশিস সান্যাল বলেন, এখন তো টাকা নেওয়া হচ্ছে। কাজেই পরিসেবার দিকে কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া প্রয়োজন। উদ্যানের মূল প্রবেশপথে সন্ধের পর আলো জ্বলে না। ভেতরে পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই। উদ্যানের পাশেই জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের পানীয় জলের ট্যাংক রয়েছে। সেক্ষেত্রে এখানে সবসময়ে জন্য পরিস্রুত পানীয় জলের বন্দোবস্ত করা সম্ভব। স্থানীয় বাসিন্দা অলোক সেনগুপ্তও মনে করছেন, প্রবেশমূল্য চালু করার ফলে পরিসেবা আরও বাড়ানো দরকার। বিষয়টি নিয়ে ময়নাগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সজল বিশ্বাস বলেন, শিশু উদ্যানের ভেতরে পুকুরটা মজে গিয়েছে। যেহেতু টিকিট কেটে ঢুকতে হচ্ছে, সেক্ষেত্রে পরিকাঠামো এবং পরিসেবার উন্নয়ন করা প্রযোজন ছিল। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলব।

বন দপ্তরের উদ্যান ও কানন (উত্তর) বিভাগ পরিচালিত এই উদ্যানে তিনজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মী আছেন। উদ্যানে এখনও শীতকালীন ফুলগাছের চারা লাগানোর কাজ শুরু হয়নি। যদিও বাসিন্দাদের দাবি, অন্যবার পুজোর পর থেকেই ফুলের গাছ লাগানোর কাজ শুরু হয়ে যায়। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে সেই গাছগুলি অনেকটাই বড়ো হয়ে যায়। তবে এবার মাটি তৈরি করা হলেও ফুলের গাছ লাগানো হয়নি। এ প্রসঙ্গে উদ্যান ও কানন বিভাগের ডিএফও (জলপাইগুড়ি) অঞ্জন গুহ বলেন, আমরা ইতিমধ্যে পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়েছি। আমরা পুকুর সংস্কার সহ অন্য বিষয়ে পদক্ষেপ করব।