ভোট এলেই ফাঁকা বুলি, পুর পরিষেবা শিকেয়

মণীন্দ্রনারায়ণ সিংহ, আলিপুরদুয়ার : ভোট এলে প্রতিশ্রুতির বন্যা। ভোট মিটলে সব ভুলে যাওয়া। আলিপুরদুয়ারবাসীর জন্য এটাই স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েক বছরে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে শহরের উন্নয়নের জন্য। কিন্তু জঞ্জাল সাফাই থেকে পানীয় জলের মতো ন্যূনতম পরিষেবা আজও মেলেনি। সরকারি বরাদ্দ সত্ত্বেও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প রূপায়ণ না হওয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ চড়ছে। শহরবাসীর প্রশ্ন, কবে মিলবে বাড়ি বাড়ি পানীয় জলের সংযোগ? জঞ্জাল সাফাই হবে কি? পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তৃণমূলের আশিস দত্তের দাবি, ২০২১ সালের মধ্যেই আলিপুরদুয়ার শহরে বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছে যাবে। কয়েক মাসের মধ্যে শহরের জঞ্জাল সমস্যাও মিটবে বলে তিনি দাবি করেন।

আলিপুরদুয়ার শহরের ২০টি ওয়ার্ডে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। শহরের বাণিজ্যিক এলাকা থেকে বসতি এলাকায় প্রতিদিন কয়েক লরি জঞ্জাল জমে স্তূপাকার হয়ে উঠছে। বাড়ির সামনের রাস্তায়, মাঠে, নিকাশিনালায় জঞ্জাল ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন বাসিন্দারা। পুরসভা থেকে বাড়ি বাড়ি জঞ্জাল সংগ্রহ করা হয় না। জঞ্জালে জেরবার শহরবাসী। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে আলিপুরদুয়ার শহরে জঞ্জালের স্তূপ ক্রমশ বাড়তে থাকায় উদ্বেগে রয়েছেন শহরবাসী। জমা জঞ্জাল থেকে উৎকট গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। মাঝেরডাবরিতে ডাম্পিং গ্রাউন্ড সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট স্কিমের জন্য কয়েক কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে পুরসভা। বাউন্ডারির জন্য কোটি টাকার বেশি খরচ হয়ে গেলেও জঞ্জাল অপসারণের কাজ আজও শুরু হয়নি। আলিপুরদুয়ার শহরে বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছে দিতে ২০১৮ সালের ১০২ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছিল পুরসভা। শহরে পাঁচটি রিজার্ভার করে জল সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিদায়ি তৃণমূলের পুরবোর্ডের কর্তারা। শহরের বাসিন্দাদের অভিযোগ, এখনও রিজার্ভার তৈরির কাজ শেষ হয়নি। ফলে পুরসভার সরবরাহ করা পরিস্রুত পানীয় জল বাড়ি বাড়ি পৌঁছানো নিয়ে সন্দিহান শহরবাসী।

- Advertisement -

নাগরিকদের ন্যূনতম দুটি পরিষেবা নিয়ে শাসক-বিরোধীদের মধ্যে তর্জা শুরু হয়েছে। ওই ইস্যুতে গত লোকসভা নির্বাচনে বিরোধীরা ফায়দা তুলছে। শহরের ২০টি ওয়ার্ডে শাসকদলকে নাগরিক পরিষেবার বেহাল অবস্থার জন্য খেসারত দিতে হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিজেপির টাউন মণ্ডল সভাপতি বিকাশ দে বলেন, তৃণমূলের পুরবোর্ডের জনপ্রতিনিধিরা কয়েক বছর আগে পানীয় জল, জঞ্জাল সাফাই নিয়ে ঢালাও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। শহরের উন্নয়নের নামে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ হচ্ছে, কিন্তু নাগরিকরা কোনও পরিষেবা পাচ্ছেন না। কংগ্রেস নেতা অরিন্দম সেন বলেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে শহরকে জঞ্জালমুক্ত করা যায়নি। জলপ্রকল্পের কাজ যে গতিতে চলছে তাতে বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পেতে আরও কতগুলো নির্বাচন পার করতে হবে সেটা বোঝা যাচ্ছে না। রাজ্যের শাসকদল সেই দায় এড়াতে পারে না। যদিও আশিস দত্ত বলেন, আমরা চার বছর মাত্র ক্ষমতায় থেকেছি। ওই সময়ে মধ্যেই শহরের উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।