দুমাসেই জাতীয় সড়কের পিচের চাদর উঠেছে

সৌরভকুমার মিশ্র, হরিশ্চন্দ্রপুর : পিচের চাদর বলতে কিছু অবশিষ্ট নেই। কোথাও কোথাও গর্তও তৈরি হয়ে গিয়েছে। দেখলে বোঝাই যাবে না এটা কোনও জাতীয় সড়ক হতে পারে। কিন্তু হরিশ্চন্দ্রপুর থেকে চাঁচলের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষাকারী এই পিচ ওঠা রাস্তাই আদপে ৮১ নম্বর জাতীয় সড়ক। মাত্র দুমাস আগে এই সড়কই মেরামত করেছিল জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ।

তবে বর্ষা নামতেই রাস্তার কঙ্কাল বেরিয়ে এসেছে। ভাঙাচোরা রাস্তা এখন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে চালকদের কাছে। আধা ঘণ্টার রাস্তা যেতে দ্বিগুণ সময় লাগছে। এই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালালে তার অবস্থাও আর বলার থাকে না। এলাকাবাসীর মধ্যে এনিয়ে যথেষ্ট ক্ষোভ জমছে। তবে আশ্বস্ত করেছেন চাঁচল হাইওয়ে ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার শিশির দেব। শিশিরবাবুর দাবি, পুজোর আগেই রাস্তার কাজ ভালো করে করা হবে।

- Advertisement -

এবিষয়ে তৃণমূলের প্রাক্তন ব্লক সহ সভাপতি রুহুল আমিন ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, গত দুমাস আগে আমি নিজে ৮১ নম্বর জাতীয় সড়কের ভারপ্রাপ্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার শিশির দেবের কাছে রাস্তা মেরামতির আবেদন করেছিলাম। শিশিরবাবু আমার আবেদনে সাড়া দিয়ে রাস্তাটি মেরামত করিয়েছিলেন। কিন্তু ফের রাস্তাটি খারাপ হয়ে গিয়েছে। বেহাল রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা সমস্যায় পড়ছেন। এই পরিস্থিতিতে আমি বাধ্য হয়ে ফের ওঁর কাছে রাস্তা মেরামতির আবেদন জানিয়েছি। শিশিরবাবু রাস্তাটি মেরামত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

রুহুলবাবু বলেন, ৮১ নম্বর জাতীয় সড়কের সঙ্গে বিমাতসুলভ আচরণ করা হচ্ছে। চাঁচল থেকে বাংরুয়া ভাঙা ব্রিজ পর্যন্ত ৮১ নম্বর জাতীয় সড়কের দেখভাল করেন ভারপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার তিমিরবরণ সাহা। আমি তাঁর কাছেও রাস্তা মেরামতির আবেদন জানিয়েছি। তিমিরবাবুকে বলেছি, রাস্তার ধারে যেসব গর্ত রয়েছে সেগুলিও যেন বুজিয়ে দেওয়া হয়।

৮১ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারেই রয়েছে বাংরুয়া গ্রাম। এলাকার বাসিন্দা রোজ আলি বলেন, বাংরুয়া ভাঙা ব্রিজ থেকে হরিশ্চন্দ্রপুর কলেজ পর্যন্ত রাস্তাটির অবস্থা খুবই খারাপ। মানুষ ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে সমস্যায় পড়েন। আর যানবাহনের কথা নাই বা বললাম। যেকোনও মুহূর্তে ওই রাস্তায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। বহুদিন ধরে আমরা জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের কাছে রাস্তা মেরামতির আবেদন জানাচ্ছিলাম।

তাঁর কথায়, আমাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে দুই মাস আগে রাস্তাটি মেরামত করা হয়। কিন্তু ফের রাস্তাটি খারাপ হয়ে গিয়েছে। পিচের চাদর উঠে গিয়েছে। এত অল্প সময়ে রাস্তাটি ফের খারাপ হয়ে যাবে তা বুঝতে পারিনি। রোজবাবু ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, রাস্তা মেরামতির সময় নিকৃষ্ট মানের সামগ্রী দিয়ে সংস্কার কাজ হয়েছে। যার জেরে অল্প সময়ে পিচের চাদর উঠে গিয়ে বড় বড় পাথর বেরিয়ে এসেছে। অনেক জায়গায় বড় বড় গর্তও তৈরি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে চাঁচল হাইওয়ে ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার শিশির দেব জানান, এমাসে ফের আরেকবার আমরা ওই রাস্তায় প্যাচ রিপিয়ারিংয়ে কাজ শুরু করব। পুজোর আগেই ভালোভাবে রাস্তার কাজ শেষ করা হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।