রাজশ্রী প্রসাদ, পুরাতন মালদা : বছরের পর বছর ঘুরলেও নির্মীয়মাণ সেতুর কাজ শেষ হচ্ছে না। সেতুর নীচে পুরোনো সড়কের একটি লেন কোনওরকমে খোলা রয়েছে। অপরটি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। অগত্যা ওই একটি মাত্র খোলা লেন দিয়ে দিনরাত হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। স্বভাবতই ওই এলাকায় ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে নিত্যদিন যানজট লেগেই থাকছে। এতে যেমন সড়ক যান্ত্রণা বাড়ছে, তেমনই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরাও। যদিও সমস্যার আশু সমাধান সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিয়েছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ।

জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কাজ কবে সম্পূর্ণ হবে, সে প্রশ্ন করে ক্লান্ত মালদার মানুষ। প্রায় এক দশক ধরে টালবাহানা আর সমস্যার সৌজন্যে এখনও অসম্পূর্ণ সড়ক সম্প্রসারণের কাজ। বহু কাঠখড় পুড়িয়ে পুরাতন মালদার নলডুবি থেকে ইংরেজবাজারের সুস্থানি মোড় পর্যন্ত রাস্তার কাজ শেষ হওয়ার পথে এগোচ্ছে। যদিও দুটি উড়ালপুলের একটি করে লেন চালু করে দেওয়া হলেও অপর লেনের কাজ চলছে ঢিমেতালে। তবু লরি ও পণ্যবাহী যান চলাচল করতে পারায় পুরাতন মালদা ও মালদা শহরে বছরভর যানজটের ছবিটা খানিক বদলেছে। যদিও সমস্যা দেখা দিয়েছে পুরাতন মালদার নারায়ণপুর বিএসএফ ক্যাম্পের কাছে। ওই এলাকায় জাতীয় সড়কের দুপাশে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ক্যাম্প থাকায় সেখানে উড়ালপুল তৈরির সিদ্ধান্ত নেয় এনএইচএআই। বছর তিনেক কেটে গেলেও সেতু তৈরির কাজ সম্পূর্ণ হয়নি।

- Advertisement -

যখন সেতুর কাজ শুরু হয়, তখন সেতুর দুপাশে পুরোনো জাতীয় সড়কে দুটি সংকীর্ণ লেন দিয়ে যানবাহন চলত। কিন্তু গত বছর থেকে ওই পুরোনো লেনের মালদা থেকে গাজোলগামী রাস্তাটি যানবাহনের অত্যধিক চাপে বড় বড় খানাখন্দে ভরে যায়। লেনটি সারাই না করে উলটে সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। শুধু মাত্র গাজোল থেকে মালদাগামী লেনটি কোনওরকমে চালু রাখা হয়। ওই একটিমাত্র সংকীর্ণ রাস্তা দিয়ে দিনরাত যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে হাজার হাজার যানবাহন। স্বভাবতই সব সময় যানজট লেগে থাকছে সেখানে। যান নিয়ন্ত্রণের জন্য ট্রাফিক পুলিশ নিযুক্ত থাকলেও তাঁদের পক্ষে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করাও দুষ্কর হয়ে পড়ছে। লেনের দুদিকে অ্যাপ্রোচ ওয়েতে প্রায় প্রতিদিনই যানবাহনের লম্বা লাইন তৈরি হওয়ায় ওই পাঁচশো মিটার রাস্তা পেরোতেই আধ ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে। তার ওপর অ্যাপ্রোচ ওয়ের কাছে রাস্তা ভেঙে বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। একটু বৃষ্টিতেই সেই সব গর্তে জল জমে তৈরি হচ্ছে মরণফাঁদ।

এদিন রঘুবীর সিং নামে এক লরিচালক জানালেন, মাছ নিয়ে শিলিগুড়ি যাচ্ছি। ঠিক সময়ে পৌঁছাতে না পারলে সমস্যা হবে। এখানে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এইটুকু রাস্তা পার হতেই অনেকক্ষণ সময় নষ্ট হল। ওই এলাকায় যানজটে নাকাল হতে হচ্ছে নিত্য যাত্রীদেরও। সেতুর ওপর দিয়ে মালদা থেকে গাজোলগামী লেনটির কাজ প্রায় শেষ হয়ে এলেও সেটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়নি জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। এর ফলে ক্রমেই অসন্তোষ বাড়ছে। সোমবার যানজট এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করে যে ট্রাফিক পুলিশ ও মালদা থানার পুলিশকে হিমসিম খেতে হয়। কবে সেতু দিয়ে যান চলাচল শুরু হবে, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ফরাক্কা থেকে রায়গঞ্জ জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক দীনেশকুমার হানসারিয়া বলেন, সেতুর কাজ শেষ হতে কমপক্ষে আরও একমাস সময় লাগবে। ততদিন পর্যন্ত এই সমস্যা মেটানো সম্ভব নয়।