জাতীয় সড়ক কোথাও ডোবা, কোথাও মালভূমি

- Advertisement -

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ : রাস্তার মধ্যে বড়বড় গর্ত। সেই গর্তকেই এলাকাবাসী মরণফাঁদের নাম দিয়েছেন। বৃষ্টি হলেই খানাখন্দ ভরে পরিণত হয় আস্ত ডোবায়। আর জল শুকোলেই তা যেন মালভূমিতে পরিণত হয়। ফলে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। জেলার ইটাহার থেকে শুরু করে ডালখোলা পর্যন্ত প্রায় ৬৫ কিমি ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে রাস্তার মাঝে বড়বড় খানাখন্দে ভরে গিয়েছে। জোড়াতালি দিয়ে কোনওরকমে খানাখন্দগুলি ভরা হচ্ছে। এদিকে, আবার বৃষ্টি হলেই সেই রাস্তা পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসছে। যেখানে-সেখানে খানাখন্দ ভরে যাওয়ায় ওই রাস্তাগুলি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ গাড়িচালকদের।

রায়গঞ্জ থেকে ডালখোলা বাইপাসের কাজও চলছে অত্যন্ত ধীর গতিতে। ফলে জাতীয় সড়কে যানজট ও দুর্ঘটনা বাড়ছে। রায়গঞ্জ থেকে ডালখোলা ৪০ কিমি রাস্তা যেতে সময় লাগছে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা। অথচ এক ঘণ্টার বেশি সময় লাগার কথা নয়। বেহাল রাস্তা নিয়ে ক্ষোভ বেড়েছে জেলাবাসীর। উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ রক্ষা করে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক। কিন্তু সংস্কারের অভাবে তা একেবারেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বর্ষায় ওই রাস্তা আরও বিপজ্জনক আকার ধারণ করেছে। রায়গঞ্জের রুপাহারের বাসিন্দা সুব্রত দেবপাল জানান, প্রায় দুবছর আগে রায়গঞ্জ ও ডালখোলা বাইপাসের কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত ধীরগতিতে কাজ চলছে। যাতায়াতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে এলাকাবাসীদের।

রায়গঞ্জ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েনের সাধারণ সম্পাদক অতনুবন্ধু লাহিড়ি বলেন, জাতীয় সড়ক বেহাল হয়ে থাকায় দূরদূরান্ত থেকে মালপত্র আনতে ব্যবসায়ীদের খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। ইতিমধ্যে আমরা রাস্তা সংস্কারের দাবি জানিয়েছি। ঠিক কবে বাইপাস তৈরির কাজ শেষ হবে সে বিষয়ে মুখে কুলুপ এটেছে সংশ্লিষ্ট নির্মাণকারী সংস্থার কর্মীরা। স্বাভাবিকভাবেই চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। গাড়িচালক গোপাল বর্মন জানান, রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে মাঝেমধ্যে গাড়ি বিকল হয়ে পড়ছে। এক ঘণ্টার রাস্তা পাড়ি দিতে তিন ঘণ্টার বেশি সময় লাগছে। আইএনটিটিইউসির জেলা সভাপতি তথা রায়গঞ্জের উপপুরপ্রধান অরিন্দম সরকার বলেন, ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের অবস্থা খুবই বিপজ্জনক হয়ে গিয়েছে। গাড়িচালকরা সমস্যায় পড়ছেন। আমরা এবিষয়ে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু সংস্কারের ব্যাপারে কোনও উদ্যোগ দেখতে পাইনি এখনও। তিনি বলেন, বাইপাসের কাজও চলছে অত্যন্ত ধীরগতিতে।

উত্তর দিনাজপুর বাস ও মিনিবাস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক প্লাবন প্রামাণিক বলেন, বেহাল রাস্তার জন্য আমাদের আয়ের চেয়ে ব্যয় বেড়ে গিয়েছে। গাড়ির তেল খরচ যেমন বেড়েছে, তেমনি গাড়ির যন্ত্রাংশ প্রায়দিন বিকল হচ্ছে। অনেকেই গাড়ি বসিয়ে দিয়েছেন বাধ্য হয়ে। অন্যদিকে রায়গঞ্জের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী বলেন, জাতীয় সড়কের অবস্থা খারাপ। কিন্তু বর্ষার জন্য কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। এসব সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রী নিতীন গডকরির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আবারও আমি তাঁর সঙ্গে দেখা করে সমস্যা মেটানোর আর্জি জানাব।

- Advertisement -